০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

১০:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।