১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

১০:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।