১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক

১০:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা সংলাপে এবার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—চীন কোথায়? টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্মেলনে অংশ না নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাল বেইজিং

সাধারণত এই সম্মেলনে চীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এবার বেইজিং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবর্তে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একটি অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফলে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত চীনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত বক্তব্যও অনুপস্থিত ছিল।

সরাসরি আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর কৌশল?

কিছু বিশ্লেষকের মতে, চীন ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব এড়িয়েছে। কারণ তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারত বেইজিং। গবেষকনির্ভর প্রতিনিধিদল পাঠানোর ফলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সরাসরি জবাব দেওয়ার চাপও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক বার্তা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের প্রসঙ্গ উঠে এলেও আগের বছরের তুলনায় ভাষা ছিল তুলনামূলক সংযত। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো একক দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

বিশ্লেষকদের মতে, শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি শুধু একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করে। যদিও সম্মেলন চলমান রয়েছে, তবু অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় চীনের উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।