১১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পশ্চিম তেহরানের ইরানি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের ওমান ছাড়ার নির্দেশ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ট্রাম্প, বাড়ছে জল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা সদস্য নিহত: ইরাকে রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত অবিলম্বে ইরাক ছাড়তে বলা হলো মার্কিন নাগরিকদের ইরান যুদ্ধের খবর প্রচারে ‘পক্ষপাত’ অভিযোগ, সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এফসিসি প্রধানের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রাতের হামলার দায় স্বীকার ইরানপন্থী মিলিশিয়ার জাপানে নতুন রূপে ফিরছে বরই মদ: ঐতিহ্যের স্বাদে আধুনিক উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে মেক্সিকো উপসাগরে বড় তেল প্রকল্পে অনুমোদন পেল BP

সংখ্যালঘু প্রশ্নকে জাতীয় ইস্যু না করলে টিকবে না গণতন্ত্র

দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যালঘুদের সমস্যা ও নিরাপত্তাকে জাতীয় উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক ও বক্তারা। তারা বলেছেন, জবাবদিহি ছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তব মূল্য থাকে না এবং তদারকি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার ঘাটতি নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত এক প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে। “প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি—বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬” শীর্ষক প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

গণতন্ত্রের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতিবেদনের তথ্য ও বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি অগ্রাধিকার এখন সরকারের সামনে রয়েছে, যার সঙ্গে নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থায় থাকা মানুষেরা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং জনপরিসরে নিজেদের কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকার ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইশতেহার দিতে পারত, তবে জবাবদিহি না থাকলে বড় ইশতেহারও অর্থহীন হয়ে পড়ে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বলই থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার শঙ্কা
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব ক্রমেই কমেছে এবং অতীতের প্রতিনিধিরাও কার্যকরভাবে তাদের উদ্বেগ তুলতে পারেননি। সংখ্যালঘু ইস্যুকে কখনোই তুচ্ছ বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এটিকে জাতীয় প্রশ্ন হিসেবেই দেখতে হবে। অন্যথায় তা জাতীয় নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই অন্তর্ভুক্তির ছাতা পুরোপুরি বিস্তৃত হয়নি। প্রশাসনিক কাঠামোতে ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে সংকট বাড়বে।

গণতান্ত্রিক সংকট ও বৈষম্যের বাস্তবতা
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু একটি নির্বাচনকে ঘিরে নয়; এটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংকট ও কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতিফলন। স্বাধীনতার অঙ্গীকার ছিল সাম্য ভিত্তিক সমাজ গঠন, কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও তা পূরণ হয়নি। সাম্প্রতিক গণআন্দোলন মূলত বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারী ও সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থা তেমন উন্নতি হয়নি এবং নির্বাচন সংস্কারের বহু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আগামী নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়ে গেছে।

সংবিধানের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা
ড. সেলিম জাহান বলেন, সংবিধান সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বঞ্চনার কাঠামো স্থায়ী রূপ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পশ্চিম তেহরানের ইরানি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

সংখ্যালঘু প্রশ্নকে জাতীয় ইস্যু না করলে টিকবে না গণতন্ত্র

০৭:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যালঘুদের সমস্যা ও নিরাপত্তাকে জাতীয় উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক ও বক্তারা। তারা বলেছেন, জবাবদিহি ছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তব মূল্য থাকে না এবং তদারকি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার ঘাটতি নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত এক প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে। “প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি—বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬” শীর্ষক প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

গণতন্ত্রের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতিবেদনের তথ্য ও বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি অগ্রাধিকার এখন সরকারের সামনে রয়েছে, যার সঙ্গে নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থায় থাকা মানুষেরা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং জনপরিসরে নিজেদের কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকার ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইশতেহার দিতে পারত, তবে জবাবদিহি না থাকলে বড় ইশতেহারও অর্থহীন হয়ে পড়ে। নির্বাচনের আগে ও পরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বলই থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার শঙ্কা
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব ক্রমেই কমেছে এবং অতীতের প্রতিনিধিরাও কার্যকরভাবে তাদের উদ্বেগ তুলতে পারেননি। সংখ্যালঘু ইস্যুকে কখনোই তুচ্ছ বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এটিকে জাতীয় প্রশ্ন হিসেবেই দেখতে হবে। অন্যথায় তা জাতীয় নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সব ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই অন্তর্ভুক্তির ছাতা পুরোপুরি বিস্তৃত হয়নি। প্রশাসনিক কাঠামোতে ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে সংকট বাড়বে।

গণতান্ত্রিক সংকট ও বৈষম্যের বাস্তবতা
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু একটি নির্বাচনকে ঘিরে নয়; এটি দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংকট ও কাঠামোগত বৈষম্যের প্রতিফলন। স্বাধীনতার অঙ্গীকার ছিল সাম্য ভিত্তিক সমাজ গঠন, কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও তা পূরণ হয়নি। সাম্প্রতিক গণআন্দোলন মূলত বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারী ও সংখ্যালঘুসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থা তেমন উন্নতি হয়নি এবং নির্বাচন সংস্কারের বহু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আগামী নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়ে গেছে।

সংবিধানের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা
ড. সেলিম জাহান বলেন, সংবিধান সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বঞ্চনার কাঠামো স্থায়ী রূপ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।