গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বৃহৎ সার কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের নির্দেশনার পর বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা এবং কর্ণফুলী সার কোম্পানিতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধই থাকবে। এতে দৈনিক বিপুল পরিমাণ সার উৎপাদন থেমে যাওয়ায় জাতীয় উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ
চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু করা হবে।
কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশজুড়ে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। এতে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তাদের মতে, সার উৎপাদন পুরোপুরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কম চাপের গ্যাস দিয়ে কারখানা চালালে যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
দৈনিক বিপুল উৎপাদন এখন স্থগিত
চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়। অন্যদিকে কর্ণফুলী সার কোম্পানির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক হাজার সাতশ পঁচিশ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় এক হাজার পাঁচশ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই বিপুল উৎপাদন আপাতত পুরোপুরি স্থগিত হয়ে গেছে, যা সার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ের আহ্বান
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলভাবে এবং সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









