কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। একজন মনে করছেন, ভবিষ্যতের তথ্যকেন্দ্র গড়ে উঠবে মহাকাশে। অন্যজনের বিশ্বাস, সেই পথে না গিয়ে পৃথিবীতেই দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোই সাফল্যের চাবিকাঠি। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই এখন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন
সফটব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মাসায়োশি সন সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে এর অর্থনৈতিক সুবিধাও স্পষ্ট নয়।
তিনি যুক্তি দেন, একটি তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার মোট ব্যয়ের তুলনায় বিদ্যুতের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। বরং চিপ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অবকাঠামোই ব্যয়ের বড় অংশ। ফলে শুধু বিদ্যুতের সুবিধার জন্য মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণকে তিনি বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন না।
দুই দৃষ্টিভঙ্গি, এক লক্ষ্য
বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে মাসায়োশি সন ও ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই বড় বিনিয়োগ ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার জন্য পরিচিত। দুজনের লক্ষ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী যুগে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ ভিন্ন।
ইলন মাস্ক মনে করেন, মহাকাশে সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের তথ্যকেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তাঁর ধারণা, এই মডেল পৃথিবীর তুলনায় আরও কার্যকর ও লাভজনক হতে পারে।
অন্যদিকে সনের বিশ্বাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে বহু বছর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। যে প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এগিয়ে যেতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে।
গতির ওপর জোর
মাসায়োশি সনের বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই। তাই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রকল্পের পরিবর্তে এখনই বাস্তবসম্মত খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি জানান, সফটব্যাংকের বর্তমান কৌশল চারটি প্রধান খাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। এগুলো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল, অর্ধপরিবাহী চিপ, রোবট প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো। এই চারটি ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি বড় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
বিনিয়োগ দর্শনের ধারাবাহিকতা
মাসায়োশি সন দীর্ঘদিন ধরেই বড় ঝুঁকি নিয়ে বড় সাফল্য অর্জনের দর্শনে বিশ্বাসী। অতীতে তাঁর কিছু বিনিয়োগ বিপুল সফলতা এনে দিলেও কিছু উদ্যোগ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবুও তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাই এই খাতে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে ইলন মাস্কও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ওপর ভরসা রেখে মহাকাশ, রোবট, চিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একই কৌশলের অংশ হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছেন।
সময়ের লড়াই
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতায় শুধু উদ্ভাবনী ধারণাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগই নির্ধারণ করবে কে এগিয়ে থাকবে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নেতৃত্ব নিয়ে এখন বিশ্বের বড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে গতি, কৌশল এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে মহাকাশভিত্তিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তব বিনিয়োগ—দুই ভিন্ন কৌশল নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ উদ্যোক্তার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















