মালয়েশিয়ায় নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য চালু থাকা ডিজেল ভর্তুকি ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নমনীয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী আমির হামজা আজিজান।
সহজ হবে আবেদন, শিথিল হবে যোগ্যতার শর্ত
সরকারের বিবেচনায় থাকা পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি গাড়ির ঋণের কিস্তি গ্রহণ করে গাড়ির মালিকানা বা দায়িত্ব নিলে সেই ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত আরও নমনীয় করার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরাসরি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডিজেলের বরাদ্দ স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে সরকার।
আমির হামজা জানান, ২০২৭ সালের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের লক্ষ্য হলো যাদের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে নির্দিষ্ট ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্যও অর্থের সুযোগ তৈরি করা।

সাবাহে লাখো গাড়িমালিককে আবেদন করার আহ্বান
সাবাহ রাজ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার পিকআপ ও জিপের মালিককে ৩০০ লিটারের বেশি ডিজেল ভর্তুকির জন্য আবেদন করার যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৪৯ হাজার জন নিবন্ধন করেছেন।
যোগ্য গাড়িমালিকদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন আমির হামজা। অনলাইনে আবেদন করতে যাদের অসুবিধা হয়, তাদের সহায়তার জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ, নগর রূপান্তর কেন্দ্র এবং জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র ও জ্বালানি স্টেশনেও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়তা
নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একই নীতি ‘রহমাহ মৌলিক সহায়তা’ কর্মসূচিতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান আমির হামজা। তিনি এটিকে ২০২৭ সালের বাজেটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
চলতি বছরে মৌলিক সহায়তা ও নগদ সহায়তা কর্মসূচির জন্য সম্মিলিতভাবে ১৫ বিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত বরাদ্দ রয়েছে। মৌলিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন এবং এর সুবিধা গ্রহণের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
আমির হামজার মতে, এসব লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে আর্থিকভাবে চাপে থাকা মানুষের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ভর্তুকিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার মাধ্যমে সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে জনগণ ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ তৈরি করতে পারছে।
অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ধারাও অব্যাহত
বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও মালয়েশিয়ার অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছেন আমির হামজা। রপ্তানি, অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং বিনিয়োগ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। দেশটিতে বেকারত্বের হার তিন শতাংশের নিচে এবং মূল্যস্ফীতি এক দশমিক নয় শতাংশে রয়েছে।
গত বছর মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশ। ফলে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















