প্রয়াত ব্রিটিশ রাজকুমারী ডায়ানার জীবন ও মৃত্যুকে ঘিরে এতদিনের নানা অজানা কথা এবার প্রকাশ্যে আনতে চান তাঁর ছোট ভাই চার্লস স্পেন্সার। ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী সামনে রেখে তিনি লিখেছেন নতুন বই, যেখানে বোনকে নিয়ে নিজের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন তিনি।
চার্লস স্পেন্সার জানিয়েছেন, বোনের বিষয়ে প্রচলিত অনেক ধারণা আসলে সময়ের সঙ্গে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কিছু অসত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এবার নিজের স্মৃতি ও ভাবনা নিজেই লিখে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ডায়ানাকে নিয়ে ভাইয়ের নিজের ভাষ্য
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বইটিতে স্পেন্সার ডায়ানার সঙ্গে তাঁর জীবনের বিস্ময়কর নানা ঘটনা এবং ১৯৯৭ সালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর সপ্তাহের ঘটনাগুলো তুলে ধরবেন। দীর্ঘদিন পর এই প্রথম তিনি তাঁর বোনকে নিয়ে এত বিস্তৃতভাবে এবং খোলাখুলি কথা বলছেন।
‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ নামের বইটি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হবে। বইটি ১২টি ভাষায় অনূদিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্পেন্সারের ভাষায়, ডায়ানার মৃত্যুর ৩০তম বার্ষিকী ঘনিয়ে আসায় আবারও তাঁকে নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য অসংখ্য অনুরোধ পাচ্ছেন তিনি। এসব অনুরোধই তাঁকে নিজের স্মৃতি ও ভাবনাগুলো একবারের জন্য চূড়ান্তভাবে লিখে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে।

তিনি বলেন, ডায়ানার পক্ষ থেকে কথা বলতে চান তিনি এবং সেটি করতে চান ইতিবাচক ও খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।
মৃত্যুর পরও অমলিন ডায়ানা
১৯৯৭ সালের আগস্টে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যু হয়। তাঁর শেষকৃত্যে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন স্পেন্সার। সেই সময় তিনি ডায়ানার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন।
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্বজুড়ে ডায়ানার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অটুট। তবে তাঁর দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারির মধ্যে এখন গভীর দূরত্ব। রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন না বলেই জানা যায়।
অন্যদিকে ডায়ানার সাবেক স্বামী চার্লস এখন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনি বর্তমানে ডায়ানার একসময়কার প্রেমের সম্পর্কের মানুষ ক্যামিলাকে বিয়ে করেছেন।
‘ডায়ানার সত্য বলাই বইটির উদ্দেশ্য’
স্পেন্সার স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁর বইটির মূল উদ্দেশ্য হলো ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ডায়ানার সত্যিকারের জীবন ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরা।

৬২ বছর বয়সী স্পেন্সারের সঙ্গে উইলিয়াম ও হ্যারির ঘনিষ্ঠতা এখনও রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে হ্যারি, তাঁর স্ত্রী মেগান এবং তাঁদের দুই সন্তান ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে স্পেন্সার পরিবারের ঐতিহাসিক বাড়ি অ্যালথর্পে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে তাঁরা ডায়ানার সমাধিও পরিদর্শন করেন বলে খবর রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের কাছেও ডায়ানাকে তুলে ধরতে চান
স্পেন্সার আশা করছেন, যারা ডায়ানার স্মৃতিকে ভালোবাসেন তাঁরা যেমন বইটি আগ্রহ নিয়ে পড়বেন, তেমনি যাঁরা তাঁর জনপ্রিয়তার সময়টি দেখার মতো বয়সে ছিলেন না, তাঁরাও বইটির মাধ্যমে ডায়ানাকে নতুন করে চিনতে পারবেন।
তিনি চান, বইটি পড়ে পাঠকের মনে ডায়ানার যে চিত্রটি ফুটে উঠুক, তা যেন হয় একজন অনন্য, প্রাণবন্ত ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মানুষের। একই সঙ্গে নিজের ভেতরের সংশয় ও দুর্বলতাকেও সঙ্গে নিয়ে জীবনকে সর্বশক্তি দিয়ে উপভোগ করা এক নারীর প্রতিচ্ছবি যেন সেখানে ধরা পড়ে।
স্পেন্সারের মতে, ডায়ানা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি পৃথিবীকে নিজের আগের অবস্থার চেয়ে আরও ভালো একটি জায়গায় পরিণত করে গেছেন।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বইটিকে ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এটি বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ডায়ানার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















