মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। শুরুতে তেলের বাজার যে আতঙ্ক দেখিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তার তীব্রতা কিছুটা কমেছে। কিন্তু সেই আতঙ্ক পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। বরং বাজারের আচরণে এখন অন্য ধরনের আশঙ্কা স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনের বাধা হয়তো সাময়িক কোনো ধাক্কা নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী এক বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর ১৭ জুন যে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতার কোনো দৃশ্যমান পথ তৈরি হয়নি। দুই পক্ষই বরং নিজেদের অবস্থানে আরও অনড় হয়ে উঠছে।
ইরান সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান ‘সময়োপযোগী ও সুনির্দিষ্ট’ হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ জুলাই জানিয়েছিলেন, চুক্তিটি শেষ হয়ে গেছে এবং পরে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই অচলাবস্থাই তেলের ব্যবসায়ীদের সামনে নতুন হিসাব তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন শুধু আগামী কয়েক দিনে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না—বরং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ মাসের পর মাস টিকে থাকতে পারে কি না, সেটিই বড় হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তিত প্রত্যাশার একটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে অপরিশোধিত তেলের দামে। ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের আশপাশে দাম স্থিতিশীল হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে যে অতিরিক্ত আতঙ্ক-প্রিমিয়াম তৈরি হয়েছিল, তার কিছুটা কমেছে। কিন্তু বছরের শুরুতে যে দাম ছিল, তার তুলনায় তেল এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
অর্থাৎ বাজার তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছে না। একই সঙ্গে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশাও করছে না।
সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ছে
রাজনৈতিক বক্তব্য যতই কঠোর হোক, বাস্তব অর্থনীতিতে দুই পক্ষের ওপরই চাপ বাড়ছে।
ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন অবরোধের কারণে ক্রমেই বেশি চাপে পড়ছে। আইএসএনএর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির মূল্যস্ফীতি এক বছর আগের তুলনায় ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, চলতি আগস্টে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি নেমে এসেছে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ব্যারেলে। ২০২৫ সালে যেখানে দেশটির রপ্তানি ছিল দৈনিক প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই মার্কিন নাগরিকদের উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কতা দিয়েছেন। এটি রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল জ্বালানির দাম কমানো। এরই মধ্যে নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন সামনে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ০৬ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।
তবে কূটনীতিকরা যখন অচলাবস্থায় আটকে আছেন, তেলের বাজার তখন নিজেদের মতো করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আসল সরবরাহ কত, সেটিই এখন প্রশ্ন
হরমুজ সংকটের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো বাস্তবে কতটা তেল বাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি যাতায়াত করত। কেপলারের হিসাবে, জুলাইয়ে সেই প্রবাহ কমে প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়ায়। আগস্টে এখন পর্যন্ত তা গড়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ইরানি হামলা ও মার্কিন অবরোধ এই পতনের প্রধান কারণ।
কিছু সরবরাহ অবশ্য বিকল্প পথ দিয়ে বাজারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ টার্মিনাল এবং সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরগুলো থেকে রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিকল্প পথও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি রপ্তানির ওপর ইরান-সমর্থিত হুথিদের অবরোধ নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলতি মাসে মোট তেল রপ্তানির গড় দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ৯৫ লাখ ব্যারেল। ২০২৫ সালে একই অঞ্চলের গড় ছিল প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল।
তবু এই পরিসংখ্যান পুরো চিত্রটি তুলে ধরছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।
কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের একটি অংশ এখন এমনভাবে পরিবহন করা হচ্ছে, যার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া কঠিন। উপসাগরীয় দেশগুলোর কিছু জাহাজ হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব অতিক্রমের সময় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখছে বলে প্রমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে এমন একটি ‘ডার্ক ট্যাংকার’ নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে ট্যাংকারগুলো হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেল নিয়ে গিয়ে পরে ওমান উপসাগরে পণ্য স্থানান্তর করছে।
ফলে তেলের বাজার এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানেন যে সরবরাহ কমেছে, কিন্তু ঠিক কতটা কমেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানেন না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আগস্টের তেল রপ্তানি এখন পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। ২০২৫ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল। অর্থাৎ সরকারি ও পর্যবেক্ষণযোগ্য পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ট্যাংকার আক্রান্ত হওয়ার খবর এই সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এই অনিশ্চয়তাই এখন তেলের বাজারের অন্যতম বড় ঝুঁকি। হরমুজ নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, সরবরাহের প্রকৃত চিত্র তত বেশি অস্পষ্ট থাকবে।
শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, সংকট বাড়ছে জ্বালানি পরিশোধনেও
তেলের দামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ দেখলে হবে না। পরিশোধিত জ্বালানির বাজারও এখন অত্যন্ত চাপে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী শোধনাগারগুলোর উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কমে ৮ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিশোধন সক্ষমতা হারানো এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কিছু শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এর অন্যতম কারণ।
এই ঘাটতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মার্কিন শোধনাগারগুলো প্রায় রেকর্ড সক্ষমতায় চলছে। কিন্তু এই সহায়তাও দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
শীতের আগে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। ফলে জ্বালানি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে ইতিমধ্যে কমে যাওয়া মজুত পুনর্গঠন আরও কঠিন হবে।
মজুতের পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষণযোগ্য তেলের মজুত দৈনিক গড়ে ২৪ লাখ ব্যারেল কমেছে। অন্তত এক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক মজুত হ্রাস।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গ্যাসোলিনের মজুতও ২০১২ সালের পর থেকে এই মৌসুমে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে।
অর্থাৎ সরবরাহ সংকট যদি আরও কিছুদিন স্থায়ী হয়, তাহলে বাজারের নিরাপত্তা-ভাণ্ডার দ্রুত পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে না।
জাহাজভাড়াও সংকটের বার্তা দিচ্ছে
তেল পরিবহনের খরচও বাজারের চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর দৈনিক ভাড়া জুলাইয়ের শুরুতে প্রায় ৩ লাখ ডলার ছিল। এখন তা বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারে উঠেছে। এলএসইজি’র তথ্য অনুযায়ী, এই হার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ ডলারের সমান এবং বছরের শুরুতে যা ছিল তার প্রায় ১০ গুণ।

এই ব্যয়ের পেছনে শুধু বেশি চাহিদা নয়, ঝুঁকিও বড় কারণ। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাহাজ পাঠাতে মালিকদের অনীহা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো দূরবর্তী উৎপাদনকারী দেশ থেকে তেল ও জ্বালানি আনার প্রয়োজন বাড়ছে। দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্যাংকারের প্রয়োজনও বাড়ছে, আর তার প্রভাব পড়ছে পরিবহন ব্যয়ে।
এখানেই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে আসে।
এটি কি সাময়িক ধাক্কা, নাকি বাজারের কাঠামোগত পরিবর্তন?
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে বৈশ্বিক তেলবাজার হয়তো কেবল একটি সাময়িক সরবরাহ সংকট সামলাচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের প্রচলিত কাঠামোই বদলে যেতে শুরু করেছে।
যে বাজার এতদিন নির্দিষ্ট কিছু পথ, বন্দর ও উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে তুলনামূলকভাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে, সেখানে এখন বিকল্প রুট, দীর্ঘতর সমুদ্রযাত্রা, অস্বচ্ছ সরবরাহ এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয় একসঙ্গে জায়গা করে নিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনিশ্চয়তা। বাজারে কত তেল আছে, কত তেল আসলে জাহাজে উঠছে এবং কতটা নিরাপদে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বিশ্বাসযোগ্য পথ না থাকলে এই অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলালেও তেলের বাজারের জন্য তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা।
যদি ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় তেল পরিবহন আর দ্রুত ফিরবে না, তাহলে বর্তমান দামের ওপর নতুন ঝুঁকি-প্রিমিয়াম স্থায়ী হতে পারে। শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং অন্যান্য পরিশোধিত পণ্যের দামও তখন উচ্চ পর্যায়ে আটকে থাকতে পারে।
এর প্রভাব শুধু তেল উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে, ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এই কারণেই হরমুজ সংকটকে শুধু একটি সামরিক বা কূটনৈতিক সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি সরবরাহ-শৃঙ্খল সংকটও।
তেলের বাজার হয়তো আর যুদ্ধের প্রতিটি বিস্ফোরণে নতুন করে আতঙ্কিত হচ্ছে না। কিন্তু সেটিই পরিস্থিতিকে নিরাপদ করে না। বরং বাজার এখন আরও গভীর একটি আশঙ্কা নিয়ে এগোচ্ছে—অস্থিরতাই যদি নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে যায়?
যতদিন হরমুজের অচলাবস্থা কাটার কোনো বিশ্বাসযোগ্য কূটনৈতিক পথ তৈরি না হবে, ততদিন তেলের বাজারে উচ্চ দাম, কম মজুত, সীমিত পরিশোধন সক্ষমতা এবং ব্যয়বহুল পরিবহন একে অন্যকে শক্তিশালী করতে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত তাই তেলের দামের গতিপথ হয়তো শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের খবর দিয়ে নির্ধারিত হবে না। বরং বাজার কতদিন ধরে এই নতুন বাস্তবতাকে স্থায়ী বলে বিবেচনা করছে—সেটিই আগামী বছরের জ্বালানি অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
রন বুসো 



















