মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সমঝোতার অনিশ্চয়তায় প্রশ্ন উঠেছে—তেলের দাম কি আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাবে?
তেলের বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯১ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৪৮ ডলার, যা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষক অ্যালেক্স কুপৎসিকেভিচের মতে, সরবরাহে বিঘ্নকে এখন আর সাময়িক ধাক্কা হিসেবে দেখছে না বাজার। বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। গত এক সপ্তাহেই মজুত কমেছে ৫৩ লাখ ব্যারেল।
তার মতে, তেলের বাজারে নিরাপত্তা মজুতের যে অতিরিক্ত সুরক্ষা ছিল, তা দ্রুত কমে আসছে। ফলে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে দাম ওঠার ঝুঁকিও বাড়ছে।

যুদ্ধবিরতি শেষ, হরমুজে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন এটি বাড়ানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অন্যদিকে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। এর পাশাপাশি লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের তৎপরতা এবং তেল অবকাঠামোয় হামলা সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
জেই ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাঈম আসলাম বলেন, বর্তমানে তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি নয়; বরং ভূরাজনৈতিক কারণে সরবরাহ ঝুঁকির জন্য বাজারে বাড়তি মূল্য যোগ হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর অগ্রগতি থমকে আছে। ট্যাংকার চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দীর্ঘ সময় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সরবরাহ বনাম দুর্বল চাহিদা
![]()
তবে তেলের বাজারে বিপরীতমুখী চাপও রয়েছে। একদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
এ কারণে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার খবর এলেই তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু দাম একটানা ঊর্ধ্বমুখী থাকছে না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে, কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে কিংবা উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলে সরবরাহ-ঝুঁকির কারণে বাড়তি দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। বিপরীতে নতুন করে সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাঈম আসলামের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরবরাহের ঘাটতি দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার প্রভাবকে কতটা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি সীমিত থাকলে ব্রেন্টের দাম ৯০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজার আবার চাহিদা, মজুত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির শক্তির দিকে নজর দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















