০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিটি) সরকারসহ দেশের অন্যান্য রাজ্য আইন অনুযায়ী ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার বা মামলা বন্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, আগের আদেশে ব্যবহৃত ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস বলতে কেবল গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস বোঝানো হয়েছে।

আগের আদেশের ব্যাখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানিতে এই ব্যাখ্যা দেয়। গত ২৮ জুলাই আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে বলেছিল, যেসব ছাত্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অতীত নেই, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

কিন্তু ওই নির্দেশের ভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের দাবি ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই ‘অপরাধমূলক অতীত’ শব্দবন্ধের বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই শব্দবন্ধের অর্থ শুধুমাত্র গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড। ফলে সাধারণ বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সেই শ্রেণিতে ফেলা যাবে না।

কেন্দ্রের আশ্বাস

শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে এক কাতারে দেখা উচিত নয়।

তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন, যারা পেশাদার বা গুরুতর অপরাধী নন, তাদের বিরুদ্ধে অযথা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

Withdraw FIRs, Honour Guarantees': CJP Warns Of Fresh Protests As Deadline  Ends Today | India News - News18

ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

আদালতের এই ব্যাখ্যার পর আন্দোলনকারী ছাত্রদের সমর্থনকারী সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিভ্রান্তি দূর করেছে। এখন কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর উচিত আদালতে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করা।

তার দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকেই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন রাজ্যে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজনে একই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগে স্বাধীন তদন্তের ভাবনা

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে। আদালত জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা অথবা একজন বিচারকের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আদালত স্পষ্ট করেছে, এই তদন্তে শুধু প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগও সমানভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

সব রাজ্যের এফআইআর পর্যালোচনার প্রস্তাব

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া তৈরিরও পরামর্শ দিয়েছে। আদালতের মতে, প্রথমে দিল্লিসহ সব রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআরের তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। এরপর যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের ইতিহাস নেই এবং যাদের রয়েছে—এভাবে পৃথক করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

আদালতের এই ব্যাখ্যাকে ছাত্র আন্দোলনসংক্রান্ত মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা: গুরুতর অপরাধ না থাকলে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে

০৬:২২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিটি) সরকারসহ দেশের অন্যান্য রাজ্য আইন অনুযায়ী ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার বা মামলা বন্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, আগের আদেশে ব্যবহৃত ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস বলতে কেবল গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস বোঝানো হয়েছে।

আগের আদেশের ব্যাখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানিতে এই ব্যাখ্যা দেয়। গত ২৮ জুলাই আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে বলেছিল, যেসব ছাত্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অতীত নেই, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।

কিন্তু ওই নির্দেশের ভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের দাবি ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই ‘অপরাধমূলক অতীত’ শব্দবন্ধের বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই শব্দবন্ধের অর্থ শুধুমাত্র গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড। ফলে সাধারণ বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সেই শ্রেণিতে ফেলা যাবে না।

কেন্দ্রের আশ্বাস

শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে এক কাতারে দেখা উচিত নয়।

তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন, যারা পেশাদার বা গুরুতর অপরাধী নন, তাদের বিরুদ্ধে অযথা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

Withdraw FIRs, Honour Guarantees': CJP Warns Of Fresh Protests As Deadline  Ends Today | India News - News18

ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

আদালতের এই ব্যাখ্যার পর আন্দোলনকারী ছাত্রদের সমর্থনকারী সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিভ্রান্তি দূর করেছে। এখন কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর উচিত আদালতে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করা।

তার দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকেই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন রাজ্যে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজনে একই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগে স্বাধীন তদন্তের ভাবনা

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে। আদালত জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা অথবা একজন বিচারকের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আদালত স্পষ্ট করেছে, এই তদন্তে শুধু প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগও সমানভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

সব রাজ্যের এফআইআর পর্যালোচনার প্রস্তাব

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া তৈরিরও পরামর্শ দিয়েছে। আদালতের মতে, প্রথমে দিল্লিসহ সব রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআরের তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। এরপর যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের ইতিহাস নেই এবং যাদের রয়েছে—এভাবে পৃথক করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

আদালতের এই ব্যাখ্যাকে ছাত্র আন্দোলনসংক্রান্ত মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।