০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাচের নতুন দুনিয়ায় পা রাখলেন কোরিয়ার তারকা নৃত্যপরিচালক হরমুজে জাহাজে হামলার পর নতুন অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে সংশয় অভিযোগের মধ্যেই ৭৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগে ছিলেন জ্যারেড লেটো সার্জিও গরের ভিজিট, চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও অবাধ ইনক্লুসিভ নির্বাচন পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভে রক্তপাত, ‘অধিকার চেয়েছিলাম, গুলি পেলাম’ অভিযোগ ট্রাম্পের নতুন শুল্কে আইনি লড়াই, ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নিশানায় তেল জায়ান্টরা, জ্বালানির দাম কমানোর দাবি যমুনার স্রোতে নিখোঁজ দুই কিশোর, পাবনায় চলছে উদ্ধার অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসাপ্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ আনতে বলল মার্কিন দূতাবাস এক দফা দাবির আগে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি আবদুল কাদেরের

সার্জিও গরের ভিজিট, চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও অবাধ ইনক্লুসিভ নির্বাচন

কোন সরকারি ভিজিট যখন একপক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয় বা কখনও একপাক্ষিকভাবে কোন প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করা হয়- তখন সাধারণ মানুষ থেকে কূটনীতিক সকলেই এই আচরণের মূল ভাষা পড়তে পারেন। তারা ধরে নেন যে উদ্দেশ্যে সফরটি হবার কথা ছিল- তার কোথাও ঘাটতি হয়েছে। যে কারণে এই আচরণের মাধ্যমে ভদ্রভাবে সেটা জানিয়ে দেওয়া হলো।

তবে এর অর্থ কখনও এই নয় যে কূটনীতি বা পারস্পরিক সম্পর্ক এখানে থেমে গেল। যেমন সম্প্রতি একজন বিএনপি নেতা প্রশ্ন করেছিলেন, “এই নির্বাচনে আমাদের নেতার ফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তো ভারত আমাদেরকে সাহায্য করলএমনকি তারা কিছু হিন্দু নেতাদের মাধ্যমে হিন্দুরা যাতে আমাদের ভোট দেয় সে লক্ষেও কাজ করে। তারপরেও তারা কেন এখনও হাসিনাকে রাজনীতি করতে দিচ্ছে?”

রাজনীতিবিদ যখন এ ধরনের ইনোসেন্ট হন তখন এক ধরনের ভালো লাগে। আর কিছু না হোক একটা সরল শিশুর মন নিয়ে তিনি রাজনীতি করছেন। যাহোকউত্তরে তাকে বলিঅটল বিহারীর বাজপেয়ীর আমলে একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল- অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান বাস লাইনও চালু ছিল।

ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে বেশ কিছু পূর্ব প্রোগ্রাম কাটছাঁট করলেও- তিনি বাংলাদেশকে প্যাক্স সিলিকা” উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পৃথিবী ও আগামী পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেমিকন্ডাক্টরএআই ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ঘিরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই সরবরাহ রুট প্যাক্স সিলিকা। যা গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাজ্যজাপানসিঙ্গাপুরদক্ষিণ কোরিয়াইসরায়েলআরব আমিরাতনেদারল্যান্ডঅস্ট্রেলিয়া ও পরবর্তীতে যোগ দেওয়া ভারতসহ বেশ কিছু দেশ মিলে।

বাংলাদেশকে যে এমন একটি জোটে যোগ দেওয়ার পথে এগোতে হবে তা বুঝতে পারি ২০২২ বা ২৩ সালে ভারতের নর্থ ইস্টে একটি ইকোনমিক কানেকটিভিটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে। সেখানে অনেকটা মূল ব্যক্তি ছিলেনভারতে নিযুক্ত ভারত ও নেপালের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য কথা বিনিময়ের সময়ে কয়েকটি কথার ভেতর দিয়েই বুঝতে পেরেছিলামভারতের নর্থ-ইস্টের ডেভেলপমেন্টে জাপানের এই বড় ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের মাতারবাড়ি ডিপ সি পোর্টের যোগসূত্রটা অনেক বড়। অনেক বড় ডিপ্লোম্যাট তিনিআমার বক্তব্যে আমি মাতারবাড়ি ডিপ সি পোর্টকে এই এলাকার অন্যতম গেইম চেঞ্জার” বলেছিলাম সেটা তার কথার ভেতর দিয়ে রিপিট করে শুধু মুখের পেশীর পরিবর্তন ঘটিয়েই অনেক কিছু প্রকাশ করেন। যা বিষয়টি বুঝতে আরও সহজ হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা যেমন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে অনেকটা বেঁধে ফেলেছে- তেমনি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কর্মঠ জাতি জাপানও রপ্ত করেছে আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে তাদেরকে এগোতে হবে।

তাই স্বাভাবিকভাবে সার্জিও গরের এ আহ্বান মূলত এই এলাকায় যে গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে এক্সপ্লোর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে- তার একটা ধারাবাহিকতা। তবে ধরে নেওয়া যায় নতুন করে সার্জিও গরকে এটা বলতে হয়েছেকারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দুই বছরে পরিবর্তন এসেছে। অনেক কিছুই অর্থনীতি ও রাজনীতির ফোকাল পয়েন্ট থেকে সরে গেছে- না হয় ভিন্ন পথ নিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে যখন সার্জিও গর এই জোটের অংশীদার হবার আহ্বান জানাচ্ছেন তার আগে বাংলাদেশ অবশ্য চীনের নেতৃত্বাধীন একই ধরনের জোট WAICO-এর পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে জোটে রাশিয়াব্রাজিলমালয়েশিয়াইন্দোনেশিয়াসাউথ আফ্রিকার মতো উল্লেখযোগ্য দেশসহ পাকিস্তানওমানমিয়ানমারসহ ২৯টি দেশ রয়েছে।

বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত আগে নিলেও সার্জিও গর বাংলাদেশকে এই প্যাক্স সিলিকায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন- যা মূলত মাতারবাড়িসহ এই এলাকার কানেকটিভিটির একটি ধারাবাহিকতা।

Gor calls on Bangladesh to join Pax Silica initiative - OrissaPOST

অবশ্য এখানে আরও একটি বিষয় একটু হলেও উঁকি দেবে। ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক চায়না সফরের সময় ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী বারবার জি-২ (অর্থাৎ গ্রেট-২) নীতিতে জোর দেন। অর্থাৎ ট্রাম্প অতীতের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার মতো দুই পরাশক্তির পৃথিবী আবার ফিরতে চান নতুনভাবে। এক পরাশক্তি আমেরিকাঅন্যটি চায়না।

ট্রাম্পের সফরের পরে চায়নার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বেইজিং রিভিউগ্লোবাল টাইমসপিপলস ডেইলি পত্রিকার সম্পাদকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কলাম এবং চাইনিজ থিঙ্ক ট্যাঙ্কদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু জার্নালের লেখার ভেতর দিয়ে অনেকটা ট্রাম্পের জি-২ ফর্মুলা কোনোমতেই যে শি জি পেং-এর নীতি নয় বলেই বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য এ মুহূর্তের বাস্তববাদী থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোরই প্রতিধ্বনি। কারণইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়ে গেছে- সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির সংজ্ঞাও যেমন বদলে গেছে- তেমনি এ বাস্তবতাও সামনে এসেছে- এ মুহূর্তের পৃথিবীকে এক বা দুই মেরুতে আটকে রাখা সম্ভব নয়। বরং প্রত্যেক দেশকে তার নিজস্ব শক্তি খুঁজে বের করার সময় এসেছে। এবং সেগুলো ছোট ছোট রাষ্ট্রেরও। আর তা না পারলে তাদের অবস্থা হবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপ রাষ্ট্র সেন্ট ফিটস অ্যান্ড নেভিসের মতো। সকলেই জানেনবাস্তবে রাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো মানি খেলোয়াড়দের একটি স্থান হয়ে গেছে। ওই অর্থে তার কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। এমনকি শোনা যায় গত দুই বছরে বাংলাদেশের অনেক তরুণ ক্রিপ্টো খেলোয়াড় সেখানে যোগ দিয়েছে। এমন অবস্থা হয়েছে আফ্রিকালাতিন আমেরিকার কিছু দেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দ্বীপ রাষ্ট্রের। এইসব দেশের এই নীরবে সার্বভৌমত্ব হারানোর মূল কারণঅশিক্ষিত ও অযোগ্য নেতৃত্ব ও রাজনীতির অভাব।

বাংলাদেশে যে এ মুহূর্তে সঠিক রাজনীতির অভাব রয়েছে তা ৩ তারিখ চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেনবাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা। প্রয়োজন” বলার অর্থই এ দুটোর ঘাটতি আছে।

ডিপ্লোম্যাসিতে এবং রাজনীতিতে সব সময় যেটা বলা হয় বা তাদের পক্ষে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যা লেখেন- তাই যে শেষ কথা তা নয়। চায়না বলেছে তারা জি-২ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে এর অর্থ ধরেই নেওয়া যায় না যে সবখানেই তারা জি-২ নীতির বাইরে থাকবে। বাস্তবে, “স্থানকালপাত্র ভেদ” বলে একটা বিষয় তো আছেই।

তাই স্বাভাবিকই যে কেউ জি-২ নীতিতে বসে একটা পাজেল মেলাতে পারেন গরের ভিজিটে কিছু বিষয়ে কাটছাঁটের পরেই চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্যের ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা বলাকে পাশাপাশি এনে।

স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপি, এনসিপি থেকে এগিয়ে জামায়াত: জরিপ

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে জামায়াতবিএনপি ও এনসিপি। তারা মূলত একই শক্তি বা ন্যাচারাল অ্যালাই। অর্থাৎ তাদের মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে বা তারা একই শিকড়ের। তাহলে চাইনিজ রাষ্ট্রদূত কেন রাজনৈতিক ঐক্য চাচ্ছেনএই ঐক্য বা ইনক্লুসিভ রাজনীতি কোন শক্তিকে নিয়ে। সরকার বা তাদের ন্যাচারাল অ্যালাইরা যাই বলুক না কেনযে সকল দেশের বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট আছে বা যাদের কাছে ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয়- তারা বুঝতে পেরেছে- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগসহ তাদের জোটকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার অর্থই হচ্ছেকমপক্ষে ৫০ ভাগের বেশি মানুষকে বর্তমান রাজনৈতিক ঐক্যের বাইরে রাখা।

এবং যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসতে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে তাদের সামনে দিয়েও ৫ মাস চলে গেছে। তাই তাদের সামনেও ছোটখাটো হলেও একটা ছবি পরিষ্কার হয়েছে- অর্থনৈতিকযোগাযোগ ও ইন্টারনাল সিকিউরিটির জন্য বিপজ্জনক জঙ্গী’ বিষয়ে বিএনপি কতটুকু ডেলিভারি করতে পারবে।

বরং বিএনপির গত কয়েক দিনের এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের ভারতের রাষ্ট্রদূত ও তাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার অনুরোধ দেখে বোঝা যাচ্ছে- বিএনপি বা তাদের ন্যাচারাল অ্যালাইদের মূল ফোকাল পয়েন্ট এখন শেখ হাসিনা। এবং অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি তাদের জন্য একটি প্যানিকের মতো মনে হচ্ছে।

অবশ্য এর কতকগুলো যৌক্তিক কারণও আছে। যেমন বিএনপি নেতা বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। তাকেও শেখ হাসিনার সরকার সাজা দিয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও বলেননিতিনি ওই সাজা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরবেন। সরাসরি মোকাবিলা করবেন। এমনকি ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরেও তিনি দেশে ফেরেননি। বরং দেশে ফেরার আগে তার মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে জানানতার দেশে ফেরার বিষয়টি তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না।

অন্যদিকে তারেক রহমানের থেকে বেশি সাজার অর্থাৎ তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল আর শেখ হাসিনার জন্য আছে ফাঁসির দণ্ড। অথচ এই ফাঁসির রায় বা মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনা দেড় বছরের মধ্যেই একটা ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছেন- তিনি দেশে ফিরবেন। এবং সরকারসহ অনেকের কাছে এটা স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখন সময়ের বিষয় মাত্র। তাছাড়া শেখ হাসিনা অনেক পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি মুখে যে ডেডলাইন বলুন না কেনতিনি চাইবেন তার আগেই দেশে ফিরতে। আর শেখ হাসিনার দেশে ফেরা যখন নিশ্চিত হয়ে গেছে সে সময়ে সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে হাসিনার রাজনীতি বন্ধ করার অনুরোধ- শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তারেক রহমান কেন সতেরো বছরে দেশে ফিরতে চাননি এবং বিএনপি ও ন্যাচারাল অ্যালাইরা কেন শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন। বাস্তবে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দলটির নেতা এ ধরনের দলগুলো মূলত প্রোটেকটিভ রাজনৈতিক দল। ক্ষমতার প্রোটেকশনে এদের উৎপত্তি এবং অন্যান্য ক্ষমতার সহায়তায় এরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে বা রাজনীতির মাঠে থাকে। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে আসে। তাই এর নেতা ও কর্মীরা কতটা জীবন বাজি রাখবে তা স্থিতিশীল দেশের রাজনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যেমন বুঝতে পারেন নাতেমনি বিএনপির মতো প্রোটেকটেড রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষেও হিসাব করা কষ্টকর।

যাহোকএর পাশাপাশি সার্জিও গরের ভিজিটের সার্বিক চিত্র ও চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের ভেতর দিয়ে সব কিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতাই বড় হয়ে সামনে এসেছে।

শেখ হাসিনা তার শাসনামলে দেশকে স্থিতিশীল রাখলেও শেষ অবধি দেখা গেল উগ্র মৌলবাদকে ঠেকানো যায়নি এবং সেই মৌলবাদী শক্তি দেশের অবকাঠামো ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। শুধু এখানেই শেষ নয়শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সার্বিক সূচক নিচের দিকে যাচ্ছে।

এমন একটি সময়ে এদেশে যে দেশগুলোর ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে তারা অবশ্যই একটি রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা চাইবে। এবং শেখ হাসিনার আমলের ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচন ও ১২ ফেব্রুয়ারির ২০২৬-এর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে তারাও বুঝতে পারছে- একটি অবাধ ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশকে মূল ট্রেন লাইনে তোলা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর সেই সন্ধিক্ষণেই এখন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World.

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাচের নতুন দুনিয়ায় পা রাখলেন কোরিয়ার তারকা নৃত্যপরিচালক

সার্জিও গরের ভিজিট, চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও অবাধ ইনক্লুসিভ নির্বাচন

১২:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

কোন সরকারি ভিজিট যখন একপক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয় বা কখনও একপাক্ষিকভাবে কোন প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করা হয়- তখন সাধারণ মানুষ থেকে কূটনীতিক সকলেই এই আচরণের মূল ভাষা পড়তে পারেন। তারা ধরে নেন যে উদ্দেশ্যে সফরটি হবার কথা ছিল- তার কোথাও ঘাটতি হয়েছে। যে কারণে এই আচরণের মাধ্যমে ভদ্রভাবে সেটা জানিয়ে দেওয়া হলো।

তবে এর অর্থ কখনও এই নয় যে কূটনীতি বা পারস্পরিক সম্পর্ক এখানে থেমে গেল। যেমন সম্প্রতি একজন বিএনপি নেতা প্রশ্ন করেছিলেন, “এই নির্বাচনে আমাদের নেতার ফেরা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তো ভারত আমাদেরকে সাহায্য করলএমনকি তারা কিছু হিন্দু নেতাদের মাধ্যমে হিন্দুরা যাতে আমাদের ভোট দেয় সে লক্ষেও কাজ করে। তারপরেও তারা কেন এখনও হাসিনাকে রাজনীতি করতে দিচ্ছে?”

রাজনীতিবিদ যখন এ ধরনের ইনোসেন্ট হন তখন এক ধরনের ভালো লাগে। আর কিছু না হোক একটা সরল শিশুর মন নিয়ে তিনি রাজনীতি করছেন। যাহোকউত্তরে তাকে বলিঅটল বিহারীর বাজপেয়ীর আমলে একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল- অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তান বাস লাইনও চালু ছিল।

ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে বেশ কিছু পূর্ব প্রোগ্রাম কাটছাঁট করলেও- তিনি বাংলাদেশকে প্যাক্স সিলিকা” উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পৃথিবী ও আগামী পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেমিকন্ডাক্টরএআই ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ঘিরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই সরবরাহ রুট প্যাক্স সিলিকা। যা গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাজ্যজাপানসিঙ্গাপুরদক্ষিণ কোরিয়াইসরায়েলআরব আমিরাতনেদারল্যান্ডঅস্ট্রেলিয়া ও পরবর্তীতে যোগ দেওয়া ভারতসহ বেশ কিছু দেশ মিলে।

বাংলাদেশকে যে এমন একটি জোটে যোগ দেওয়ার পথে এগোতে হবে তা বুঝতে পারি ২০২২ বা ২৩ সালে ভারতের নর্থ ইস্টে একটি ইকোনমিক কানেকটিভিটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে। সেখানে অনেকটা মূল ব্যক্তি ছিলেনভারতে নিযুক্ত ভারত ও নেপালের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য কথা বিনিময়ের সময়ে কয়েকটি কথার ভেতর দিয়েই বুঝতে পেরেছিলামভারতের নর্থ-ইস্টের ডেভেলপমেন্টে জাপানের এই বড় ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের মাতারবাড়ি ডিপ সি পোর্টের যোগসূত্রটা অনেক বড়। অনেক বড় ডিপ্লোম্যাট তিনিআমার বক্তব্যে আমি মাতারবাড়ি ডিপ সি পোর্টকে এই এলাকার অন্যতম গেইম চেঞ্জার” বলেছিলাম সেটা তার কথার ভেতর দিয়ে রিপিট করে শুধু মুখের পেশীর পরিবর্তন ঘটিয়েই অনেক কিছু প্রকাশ করেন। যা বিষয়টি বুঝতে আরও সহজ হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা যেমন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে অনেকটা বেঁধে ফেলেছে- তেমনি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কর্মঠ জাতি জাপানও রপ্ত করেছে আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে তাদেরকে এগোতে হবে।

তাই স্বাভাবিকভাবে সার্জিও গরের এ আহ্বান মূলত এই এলাকায় যে গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে এক্সপ্লোর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে- তার একটা ধারাবাহিকতা। তবে ধরে নেওয়া যায় নতুন করে সার্জিও গরকে এটা বলতে হয়েছেকারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দুই বছরে পরিবর্তন এসেছে। অনেক কিছুই অর্থনীতি ও রাজনীতির ফোকাল পয়েন্ট থেকে সরে গেছে- না হয় ভিন্ন পথ নিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে যখন সার্জিও গর এই জোটের অংশীদার হবার আহ্বান জানাচ্ছেন তার আগে বাংলাদেশ অবশ্য চীনের নেতৃত্বাধীন একই ধরনের জোট WAICO-এর পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে জোটে রাশিয়াব্রাজিলমালয়েশিয়াইন্দোনেশিয়াসাউথ আফ্রিকার মতো উল্লেখযোগ্য দেশসহ পাকিস্তানওমানমিয়ানমারসহ ২৯টি দেশ রয়েছে।

বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত আগে নিলেও সার্জিও গর বাংলাদেশকে এই প্যাক্স সিলিকায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন- যা মূলত মাতারবাড়িসহ এই এলাকার কানেকটিভিটির একটি ধারাবাহিকতা।

Gor calls on Bangladesh to join Pax Silica initiative - OrissaPOST

অবশ্য এখানে আরও একটি বিষয় একটু হলেও উঁকি দেবে। ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক চায়না সফরের সময় ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী বারবার জি-২ (অর্থাৎ গ্রেট-২) নীতিতে জোর দেন। অর্থাৎ ট্রাম্প অতীতের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার মতো দুই পরাশক্তির পৃথিবী আবার ফিরতে চান নতুনভাবে। এক পরাশক্তি আমেরিকাঅন্যটি চায়না।

ট্রাম্পের সফরের পরে চায়নার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বেইজিং রিভিউগ্লোবাল টাইমসপিপলস ডেইলি পত্রিকার সম্পাদকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কলাম এবং চাইনিজ থিঙ্ক ট্যাঙ্কদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু জার্নালের লেখার ভেতর দিয়ে অনেকটা ট্রাম্পের জি-২ ফর্মুলা কোনোমতেই যে শি জি পেং-এর নীতি নয় বলেই বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য এ মুহূর্তের বাস্তববাদী থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোরই প্রতিধ্বনি। কারণইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়ে গেছে- সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির সংজ্ঞাও যেমন বদলে গেছে- তেমনি এ বাস্তবতাও সামনে এসেছে- এ মুহূর্তের পৃথিবীকে এক বা দুই মেরুতে আটকে রাখা সম্ভব নয়। বরং প্রত্যেক দেশকে তার নিজস্ব শক্তি খুঁজে বের করার সময় এসেছে। এবং সেগুলো ছোট ছোট রাষ্ট্রেরও। আর তা না পারলে তাদের অবস্থা হবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপ রাষ্ট্র সেন্ট ফিটস অ্যান্ড নেভিসের মতো। সকলেই জানেনবাস্তবে রাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো মানি খেলোয়াড়দের একটি স্থান হয়ে গেছে। ওই অর্থে তার কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। এমনকি শোনা যায় গত দুই বছরে বাংলাদেশের অনেক তরুণ ক্রিপ্টো খেলোয়াড় সেখানে যোগ দিয়েছে। এমন অবস্থা হয়েছে আফ্রিকালাতিন আমেরিকার কিছু দেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দ্বীপ রাষ্ট্রের। এইসব দেশের এই নীরবে সার্বভৌমত্ব হারানোর মূল কারণঅশিক্ষিত ও অযোগ্য নেতৃত্ব ও রাজনীতির অভাব।

বাংলাদেশে যে এ মুহূর্তে সঠিক রাজনীতির অভাব রয়েছে তা ৩ তারিখ চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেনবাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা। প্রয়োজন” বলার অর্থই এ দুটোর ঘাটতি আছে।

ডিপ্লোম্যাসিতে এবং রাজনীতিতে সব সময় যেটা বলা হয় বা তাদের পক্ষে থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যা লেখেন- তাই যে শেষ কথা তা নয়। চায়না বলেছে তারা জি-২ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে এর অর্থ ধরেই নেওয়া যায় না যে সবখানেই তারা জি-২ নীতির বাইরে থাকবে। বাস্তবে, “স্থানকালপাত্র ভেদ” বলে একটা বিষয় তো আছেই।

তাই স্বাভাবিকই যে কেউ জি-২ নীতিতে বসে একটা পাজেল মেলাতে পারেন গরের ভিজিটে কিছু বিষয়ে কাটছাঁটের পরেই চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্যের ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা বলাকে পাশাপাশি এনে।

স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপি, এনসিপি থেকে এগিয়ে জামায়াত: জরিপ

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে জামায়াতবিএনপি ও এনসিপি। তারা মূলত একই শক্তি বা ন্যাচারাল অ্যালাই। অর্থাৎ তাদের মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে বা তারা একই শিকড়ের। তাহলে চাইনিজ রাষ্ট্রদূত কেন রাজনৈতিক ঐক্য চাচ্ছেনএই ঐক্য বা ইনক্লুসিভ রাজনীতি কোন শক্তিকে নিয়ে। সরকার বা তাদের ন্যাচারাল অ্যালাইরা যাই বলুক না কেনযে সকল দেশের বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট আছে বা যাদের কাছে ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয়- তারা বুঝতে পেরেছে- বাংলাদেশে আওয়ামী লীগসহ তাদের জোটকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার অর্থই হচ্ছেকমপক্ষে ৫০ ভাগের বেশি মানুষকে বর্তমান রাজনৈতিক ঐক্যের বাইরে রাখা।

এবং যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসতে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে তাদের সামনে দিয়েও ৫ মাস চলে গেছে। তাই তাদের সামনেও ছোটখাটো হলেও একটা ছবি পরিষ্কার হয়েছে- অর্থনৈতিকযোগাযোগ ও ইন্টারনাল সিকিউরিটির জন্য বিপজ্জনক জঙ্গী’ বিষয়ে বিএনপি কতটুকু ডেলিভারি করতে পারবে।

বরং বিএনপির গত কয়েক দিনের এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের ভারতের রাষ্ট্রদূত ও তাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার অনুরোধ দেখে বোঝা যাচ্ছে- বিএনপি বা তাদের ন্যাচারাল অ্যালাইদের মূল ফোকাল পয়েন্ট এখন শেখ হাসিনা। এবং অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি তাদের জন্য একটি প্যানিকের মতো মনে হচ্ছে।

অবশ্য এর কতকগুলো যৌক্তিক কারণও আছে। যেমন বিএনপি নেতা বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। তাকেও শেখ হাসিনার সরকার সাজা দিয়েছিল। কিন্তু তিনি কখনও বলেননিতিনি ওই সাজা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরবেন। সরাসরি মোকাবিলা করবেন। এমনকি ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরেও তিনি দেশে ফেরেননি। বরং দেশে ফেরার আগে তার মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে জানানতার দেশে ফেরার বিষয়টি তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না।

অন্যদিকে তারেক রহমানের থেকে বেশি সাজার অর্থাৎ তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল আর শেখ হাসিনার জন্য আছে ফাঁসির দণ্ড। অথচ এই ফাঁসির রায় বা মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনা দেড় বছরের মধ্যেই একটা ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছেন- তিনি দেশে ফিরবেন। এবং সরকারসহ অনেকের কাছে এটা স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখন সময়ের বিষয় মাত্র। তাছাড়া শেখ হাসিনা অনেক পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি মুখে যে ডেডলাইন বলুন না কেনতিনি চাইবেন তার আগেই দেশে ফিরতে। আর শেখ হাসিনার দেশে ফেরা যখন নিশ্চিত হয়ে গেছে সে সময়ে সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে হাসিনার রাজনীতি বন্ধ করার অনুরোধ- শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তারেক রহমান কেন সতেরো বছরে দেশে ফিরতে চাননি এবং বিএনপি ও ন্যাচারাল অ্যালাইরা কেন শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন। বাস্তবে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দলটির নেতা এ ধরনের দলগুলো মূলত প্রোটেকটিভ রাজনৈতিক দল। ক্ষমতার প্রোটেকশনে এদের উৎপত্তি এবং অন্যান্য ক্ষমতার সহায়তায় এরা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে বা রাজনীতির মাঠে থাকে। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে আসে। তাই এর নেতা ও কর্মীরা কতটা জীবন বাজি রাখবে তা স্থিতিশীল দেশের রাজনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যেমন বুঝতে পারেন নাতেমনি বিএনপির মতো প্রোটেকটেড রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষেও হিসাব করা কষ্টকর।

যাহোকএর পাশাপাশি সার্জিও গরের ভিজিটের সার্বিক চিত্র ও চাইনিজ রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের ভেতর দিয়ে সব কিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতাই বড় হয়ে সামনে এসেছে।

শেখ হাসিনা তার শাসনামলে দেশকে স্থিতিশীল রাখলেও শেষ অবধি দেখা গেল উগ্র মৌলবাদকে ঠেকানো যায়নি এবং সেই মৌলবাদী শক্তি দেশের অবকাঠামো ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। শুধু এখানেই শেষ নয়শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সার্বিক সূচক নিচের দিকে যাচ্ছে।

এমন একটি সময়ে এদেশে যে দেশগুলোর ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে তারা অবশ্যই একটি রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা চাইবে। এবং শেখ হাসিনার আমলের ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচন ও ১২ ফেব্রুয়ারির ২০২৬-এর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে তারাও বুঝতে পারছে- একটি অবাধ ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশকে মূল ট্রেন লাইনে তোলা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর সেই সন্ধিক্ষণেই এখন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World.