রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে গত মার্চে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে অধ্যক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী ২০ শতাংশ সিটি ভাতা নিচ্ছেন এবং বাকি অভিযোগ ভিত্তিহীন।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ নিজেকে সামরিক বাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে কলেজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের নিজ কক্ষে ডেকে অপদস্থ করা এবং নারী শিক্ষকদের সঙ্গে বিব্রতকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও অধ্যক্ষ আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ছুটি না দেওয়া এবং ছুটি চাইতে গেলে অশোভন ভাষায় কথা বলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ
সম্প্রতি এক কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শরীরে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ওই কর্মচারী অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মচারীর হৃদ্যন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে অধ্যক্ষ সেখানে গিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাকে ক্লিনিক থেকে ছাড়িয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক সাত দিনের বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ভাতা ও পরীক্ষার সম্মানী নিয়েও প্রশ্ন
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কলেজের শিক্ষকরা ২০ শতাংশ সিটি ভাতা পেয়ে থাকলেও গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই অধ্যক্ষ জুন ২০২৬ থেকে ৪০ শতাংশ হারে এ ভাতা নিচ্ছেন।
বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মানীর ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিধি অনুযায়ী একজন পরিদর্শকের সম্মানী ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ হলেও অধ্যক্ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ এবং কখনো ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সম্মানী নিচ্ছেন।
অবশ্য কলেজের অর্থ উপকমিটির ২৩ জুলাই ২০২৬ সালের সভায় কিছু ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই সুপারিশ গভর্নিং বডির পরবর্তী সভায় অনুমোদিত হলেই কার্যকর হওয়ার কথা। অভিযোগকারীদের দাবি, অনুমোদনের আগেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যক্ষ অপসারণের দাবি
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরুষ অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বর্তমান অধ্যক্ষকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কলেজের সাবেক শিক্ষক গোলাপ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে অন্য একটি কলেজে শিক্ষকতা করলেও তিনি নিয়মিত সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে আসেন এবং অধ্যক্ষের কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। কলেজের বিরুদ্ধে একটি মামলা পরিচালনার কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি ২০ শতাংশ সিটি ভাতা নিচ্ছেন। বাকি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, অভিযোগকারীরা যা লেখার লিখতে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















