মালয়েশিয়া থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে আট বাংলাদেশিসহ ১৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নৌবাহিনী। ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের ডুমাই শহরের পশ্চিম ডুমাই এলাকার পুর্নামা সৈকত থেকে তাদের আটক করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য জাকার্তা পোস্ট ও আনতারা নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক
ডুমাই নৌ ঘাঁটির কমান্ডার কর্নেল আগুং নুগ্রোহো কুসুমাঝি জানান, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে নৌবাহিনীর কাছে খবর আসে, মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে একটি স্পিডবোট ডুমাই উপকূলের দিকে আসছে।
খবর পাওয়ার পর নৌবাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পুর্নামা সৈকত এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।
এরপর ৩১ আগস্ট ভোরে দুটি ২০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিনযুক্ত একটি দ্রুতগামী স্পিডবোট পুর্নামা সৈকতে পৌঁছালে সেখানে অভিযান চালানো হয়। নৌবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে স্পিডবোটে থাকা ব্যক্তিরা ও মাঝি সৈকতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে আটক করা হয়। আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও আট বাংলাদেশি ও পাঁচ ইন্দোনেশীয় নাগরিককে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। তবে স্পিডবোটের মাঝি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে আটক করতে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অবৈধ যাত্রায় জনপ্রতি খরচ ৬৫ থেকে ৯৫ লাখ রুপিয়া
আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছাতে প্রত্যেককে ৬৫ লাখ থেকে ৯৫ লাখ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া খরচ করতে হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর সমপরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি; তবে প্রতিবেদনে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৭০ থেকে ৫৪০ মার্কিন ডলার বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের সময় স্পিডবোট, আটক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে নৌবাহিনী।
আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর
ডুমাই নৌ ঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক আট ইন্দোনেশীয় নাগরিককে স্থানীয় অভিবাসী শ্রমিক সুরক্ষা সেবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর আট বাংলাদেশিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও নিবন্ধনের জন্য ডুমাই ইমিগ্রেশন অফিসের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ সমুদ্রযাত্রার এই ঘটনায় স্পিডবোটের মাঝিকে আটক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















