ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জাদুঘর থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আবু তাইয়েব হাবিলদার। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সহযোদ্ধা’ পরিচয়ে একটি সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। এতে তাইয়েব ছাড়াও মাসকুর রাতুল, আবদুল মজিদ অন্তর, শামীম হোসেন, আবু বকরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ সেপ্টেম্বর জাদুঘরে জিন্নাহর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তাইয়েব সেটি খুলে সরিয়ে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, প্রতিকৃতি সরানোর ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসেন এবং জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে তাইয়েবকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তাদের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি তাইয়েবের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে তা আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কোনো মতবিরোধের সমাধানে সহিংসতার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা তাইয়েবের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার দাবি জানান।
জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে জিন্নাহর প্রতিকৃতি জাদুঘরে প্রদর্শনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভাষার প্রশ্নে তার অবস্থানকে বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকায় দেওয়া জিন্নাহর বক্তৃতায় পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জিন্নাহর প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হলে ওই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকার সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ছাড়া তার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
আট দফা দাবি
জিন্নাহর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের নীতিমালা, মানদণ্ড এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কাছে দাবি জানানো হয়।
প্রতিকৃতি জাদুঘরে রাখা হলে ১৯৪৮ সালের ভাষা বিতর্কে জিন্নাহর অবস্থান, দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়গুলোও পাশাপাশি তুলে ধরার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জাদুঘরে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোট আটটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে তাইয়েবকে দেওয়া কথিত হুমকির নিরপেক্ষ তদন্ত, তার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ঐতিহাসিক পরামর্শক কমিটি গঠনের দাবি রয়েছে। জাদুঘরে ঐতিহাসিক উপকরণ কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেই বিষয়ে কমিটিকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















