০৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম? পাঞ্জাবই কি পাকিস্তান? ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণে বাড়ছে প্রাদেশিক বৈষম্য নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি, কূটনীতিতে নতুন গতি পাকিস্তানের আফগান সীমান্তে বিমান হামলা, নিহত ২৮ সন্ত্রাসী করাচির কৌতূহলী মেয়েটি থেকে মহাবিশ্বের ‘শব্দ’ শোনার বিজ্ঞানী নেরগিস মাভালভালা ইমরান খানের আরও দুই বোন আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে ৯০ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমি ও হারানো স্বজনদের খুঁজতে ওকিনাওয়া যাচ্ছেন ফিলিপাইনের নারী প্রায় তিন বছর পর গাজায় স্কুলে ফিরল শিশুরা, তাঁবুতেও চলছে নতুন স্বপ্নের শুরু

নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, নাক বন্ধ বা পানি পড়া, চোখ চুলকানো কিংবা গলা ব্যথা—এসবকে আমরা সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখি। আবার মানসিক চাপ বাড়লে অনেকের পেটের সমস্যা, পেট ফাঁপা, ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয়। এসবের পেছনে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাজ করে, যার নাম মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম

শরীরের যেসব অংশের ভেতরের আবরণ কোনো না কোনোভাবে বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে আসে, সেসব জায়গায় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। নাক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত শ্বাসনালি, মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্র এবং মূত্র ও প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন অংশে মিউকোসাল টিস্যু রয়েছে। এসব জায়গা প্রতিদিন অসংখ্য জীবাণু, ভাইরাস, ধুলা, অ্যালার্জেন ও নানা ধরনের অণুর মুখোমুখি হয়। তাই শরীরের জন্য এগুলো একই সঙ্গে প্রবেশপথ এবং প্রতিরক্ষার প্রথম সারি।

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম কী?

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেমকে শরীরের এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ভাবা যায়, যা বাইরের জগতের সঙ্গে শরীরের ভেতরের অংশের সীমান্তে অবস্থান করে। এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এপিথেলিয়াল কোষ এবং তার ওপর থাকা শ্লেষ্মার স্তর বা মিউকাস।

এই মিউকাস কেবল একটি আঠালো আবরণ নয়। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয় অংশ। এতে উপকারী অণুজীব, জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করা বিভিন্ন প্রোটিন এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন এ বা IgA-এর মতো রোগপ্রতিরোধী অণু থাকে। এগুলো একসঙ্গে ক্ষতিকর জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

চোখেও সূক্ষ্ম মিউকোসাল আবরণ রয়েছে। এটি চোখের পৃষ্ঠকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ধুলা, ময়লা ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

মিউকাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

মিউকাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতে সাহায্য করে, ক্ষতিকর জীবাণুর প্রবেশ ঠেকায়, নিচের কোষগুলোকে সুরক্ষা দেয় এবং এসব গুরুত্বপূর্ণ টিস্যুর মধ্যে থাকা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোর কাজকে সহায়তা করে।

এই প্রতিরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের সঙ্গে বিভিন্ন সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং কিছু অটোইমিউন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।Mucosal immune response in biology, disease prevention and treatment | Signal Transduction and Targeted Therapy

বিশেষ করে অন্ত্রের আশপাশে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ সক্রিয় থাকে। আমরা প্রতিদিন খাবার, পানি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অসংখ্য অণুজীবের সংস্পর্শে আসি। তাদের সবাই ক্ষতিকর নয়। তাই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শুধু জীবাণু ধ্বংস করলেই হয় না; কোনটি ক্ষতিকর এবং কোনটি নিরাপদ, সেটিও বুঝতে হয়।

শিশুরা যখন নানা জিনিস মুখে দেয়, তখন সেটি তাদের বিকাশমান রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। শরীর ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে কোন অণুজীব বা অণু ক্ষতিকর নয় এবং কোন ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।

নাকও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা দরজা

নাক শরীরের বাইরের পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। তাই নাকের মিউকাস ও স্থানীয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ধুলা, অ্যালার্জেন ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম সারির প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের নাকের স্প্রে ব্যবহার করা হয়। জীবাণুমুক্ত স্যালাইন স্প্রে নাকের ভেতরের ধুলা, অ্যালার্জেন ও অন্যান্য উত্তেজক পদার্থ ধুয়ে ফেলতে এবং নাকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

স্টেরয়েড নাকের স্প্রে অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়। আবার অ্যান্টিহিস্টামিন ও নাক বন্ধ খোলার কিছু স্প্রেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই বিশেষ করে ওষুধযুক্ত নাকের স্প্রে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মানেই কি ভালো?

সব সময় নয়। রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ শুধু যত বেশি সম্ভব আক্রমণ করা নয়; বরং কখন প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং কখন শান্ত থাকতে হবে, সেটিও জানা।

রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ, গুরুতর অ্যালার্জি, হাঁপানি বা অটোইমিউন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবার, পরিবেশের সাধারণ কণা এবং শরীরে বসবাসকারী উপকারী অণুজীবের বিরুদ্ধে অযথা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রকৃত বিপদ শনাক্ত করাই সুস্থ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু ‘শক্তিশালী’ হওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ত্র, অণুজীব ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে অন্ত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। আঁশসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার এবং কিছু গাঁজন করা খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে বেশি এবং আঁশে কম থাকা খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে।

বৃহদান্ত্রে শরীরের অধিকাংশ অন্ত্রের অণুজীবের বসবাস। সেখানে রোগপ্রতিরোধী কোষগুলো সারাক্ষণ নজর রাখে—অন্ত্রের ভেতর দিয়ে যাওয়া খাবারের উপাদান থেকে শুরু করে সম্ভাব্য রোগজীবাণু পর্যন্ত সবকিছুর ওপর।

উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের আঁশ ভেঙে এমন কিছু যৌগ তৈরি করে, যা অন্ত্রের সুরক্ষামূলক মিউকাস স্তরকে পুষ্টি দিতে এবং অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই মিউকাস স্তরের নিচে থাকে এক স্তরের কোষ, যা অন্ত্রের ভেতরের উপাদান এবং শরীরের বাকি অংশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সীমানা তৈরি করে।

এই সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী বাধা ঠিকভাবে কাজ করাই শরীরকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘লিকি গাট’ বা অন্ত্রের অতিরিক্ত ভেদ্যতা কী?

‘লিকি গাট’ নামে পরিচিত সমস্যাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইনটেস্টাইনাল পারমিয়াবিলিটি বলা হয়। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক বাধা কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভেদ্য হয়ে যেতে পারে এবং এমন কিছু জীবাণু বা অণু অন্ত্রের আবরণ অতিক্রম করতে পারে, যেগুলো সাধারণত অন্ত্রের ভেতরেই থাকার কথা।

অন্ত্রের এই বাধার পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।

মানসিক চাপের সঙ্গে অন্ত্রের সম্পর্ক

মানসিক চাপের প্রভাব অনেক সময় সরাসরি পেটে অনুভূত হয়। হঠাৎ চাপের পরিস্থিতিতে কারও পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, ব্যথা কিংবা ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অন্ত্রের অণুজীবের ভারসাম্য এবং অন্ত্রের সুরক্ষামূলক বাধার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে অন্ত্রের আবরণে এমন পরিবর্তন হতে পারে, যার মাধ্যমে খাবারের কিছু অণু বা ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে প্রবেশের সুযোগ পায়।

তাই মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের সময় তাড়াহুড়া না করে বসে খাওয়া, খাবারের আগে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া এবং ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার মতো সহজ অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।Frontiers | Key messengers in the gut-nose axis: mechanisms of gut microbial metabolites in the immunomodulation of allergic rhinitis

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে কী করবেন?

পর্যাপ্ত ঘুম রোগপ্রতিরোধী নতুন কোষ তৈরিতে এবং শরীর থেকে রোগজীবাণু দূর করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই ঘুমকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়।

আঁশসমৃদ্ধ, উদ্ভিদভিত্তিক খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের আঁশ সরবরাহ করে। এসব ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিটেট, বিউটিরেট ও প্রোপিওনেটের মতো স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে, যা অন্ত্রের আবরণ ও সুরক্ষামূলক বাধাকে সহায়তা করে।

খাদ্যে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। গাঁজন করা খাবার উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস হতে পারে এবং নির্দিষ্ট অন্ত্রের সমস্যায় প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টও উপকারী হতে পারে।

কিছু গবেষণায় গরুর কলোস্ট্রাম বা জন্মের পর গাভীর প্রথম দুধ থেকে তৈরি উপাদান বিশেষ করে ক্রীড়াবিদদের অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকার দেখিয়েছে। গোল্ডেনসিল প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এটি কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

জিংক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ঠান্ডার উপসর্গ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জিংক লজেন্স ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গের স্থায়িত্ব কমতে পারে।

ভিটামিন এ শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলিজা, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার থেকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। আবার কমলা ও হলুদ রঙের বিভিন্ন সবজি ও ফলে থাকা প্রোভিটামিন এ শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হতে পারে।

এ ছাড়া এন-অ্যাসিটাইলসিস্টেইন (NAC) শ্লেষ্মার বৈশিষ্ট্য এবং শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাবের মাধ্যমে মিউকোসাল টিস্যুকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে।

তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধকে নিজের মতো করে নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে অন্য ওষুধ চললে বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরের নীরব প্রহরী

আমাদের শরীর প্রতিদিন এমন অসংখ্য অণুজীব ও পরিবেশগত উপাদানের মুখোমুখি হয়, যেগুলো সম্পর্কে আমরা সচেতনও নই। নাক, ফুসফুস, মুখ, অন্ত্র এবং অন্যান্য মিউকোসাল টিস্যু সেই অদৃশ্য সীমান্তে দাঁড়িয়ে শরীরকে রক্ষা করে।

এই ব্যবস্থার সাফল্য শুধু ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করার মধ্যে নয়। বরং উপকারী জীবাণুকে জায়গা দেওয়া, ক্ষতিকর উপাদানকে আটকে রাখা এবং নিরীহ জিনিসের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রদাহ সৃষ্টি না করাও এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তাই সুস্থ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মানে শুধু বেশি ‘শক্তিশালী’ প্রতিরোধ নয়—বরং সঠিক সময়ে সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখানো, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫

নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

০৭:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, নাক বন্ধ বা পানি পড়া, চোখ চুলকানো কিংবা গলা ব্যথা—এসবকে আমরা সাধারণ অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখি। আবার মানসিক চাপ বাড়লে অনেকের পেটের সমস্যা, পেট ফাঁপা, ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয়। এসবের পেছনে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাজ করে, যার নাম মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম

শরীরের যেসব অংশের ভেতরের আবরণ কোনো না কোনোভাবে বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে আসে, সেসব জায়গায় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। নাক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত শ্বাসনালি, মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্র এবং মূত্র ও প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন অংশে মিউকোসাল টিস্যু রয়েছে। এসব জায়গা প্রতিদিন অসংখ্য জীবাণু, ভাইরাস, ধুলা, অ্যালার্জেন ও নানা ধরনের অণুর মুখোমুখি হয়। তাই শরীরের জন্য এগুলো একই সঙ্গে প্রবেশপথ এবং প্রতিরক্ষার প্রথম সারি।

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম কী?

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেমকে শরীরের এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ভাবা যায়, যা বাইরের জগতের সঙ্গে শরীরের ভেতরের অংশের সীমান্তে অবস্থান করে। এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এপিথেলিয়াল কোষ এবং তার ওপর থাকা শ্লেষ্মার স্তর বা মিউকাস।

এই মিউকাস কেবল একটি আঠালো আবরণ নয়। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয় অংশ। এতে উপকারী অণুজীব, জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করা বিভিন্ন প্রোটিন এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন এ বা IgA-এর মতো রোগপ্রতিরোধী অণু থাকে। এগুলো একসঙ্গে ক্ষতিকর জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

চোখেও সূক্ষ্ম মিউকোসাল আবরণ রয়েছে। এটি চোখের পৃষ্ঠকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ধুলা, ময়লা ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

মিউকাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

মিউকাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতে সাহায্য করে, ক্ষতিকর জীবাণুর প্রবেশ ঠেকায়, নিচের কোষগুলোকে সুরক্ষা দেয় এবং এসব গুরুত্বপূর্ণ টিস্যুর মধ্যে থাকা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোর কাজকে সহায়তা করে।

এই প্রতিরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের সঙ্গে বিভিন্ন সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং কিছু অটোইমিউন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।Mucosal immune response in biology, disease prevention and treatment | Signal Transduction and Targeted Therapy

বিশেষ করে অন্ত্রের আশপাশে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ সক্রিয় থাকে। আমরা প্রতিদিন খাবার, পানি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অসংখ্য অণুজীবের সংস্পর্শে আসি। তাদের সবাই ক্ষতিকর নয়। তাই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শুধু জীবাণু ধ্বংস করলেই হয় না; কোনটি ক্ষতিকর এবং কোনটি নিরাপদ, সেটিও বুঝতে হয়।

শিশুরা যখন নানা জিনিস মুখে দেয়, তখন সেটি তাদের বিকাশমান রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। শরীর ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে কোন অণুজীব বা অণু ক্ষতিকর নয় এবং কোন ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।

নাকও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা দরজা

নাক শরীরের বাইরের পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। তাই নাকের মিউকাস ও স্থানীয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ধুলা, অ্যালার্জেন ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রথম সারির প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের নাকের স্প্রে ব্যবহার করা হয়। জীবাণুমুক্ত স্যালাইন স্প্রে নাকের ভেতরের ধুলা, অ্যালার্জেন ও অন্যান্য উত্তেজক পদার্থ ধুয়ে ফেলতে এবং নাকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

স্টেরয়েড নাকের স্প্রে অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়। আবার অ্যান্টিহিস্টামিন ও নাক বন্ধ খোলার কিছু স্প্রেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই বিশেষ করে ওষুধযুক্ত নাকের স্প্রে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মানেই কি ভালো?

সব সময় নয়। রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ শুধু যত বেশি সম্ভব আক্রমণ করা নয়; বরং কখন প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে এবং কখন শান্ত থাকতে হবে, সেটিও জানা।

রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ, গুরুতর অ্যালার্জি, হাঁপানি বা অটোইমিউন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবার, পরিবেশের সাধারণ কণা এবং শরীরে বসবাসকারী উপকারী অণুজীবের বিরুদ্ধে অযথা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রকৃত বিপদ শনাক্ত করাই সুস্থ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু ‘শক্তিশালী’ হওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ত্র, অণুজীব ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে অন্ত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস এ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। আঁশসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার এবং কিছু গাঁজন করা খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে বেশি এবং আঁশে কম থাকা খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে।

বৃহদান্ত্রে শরীরের অধিকাংশ অন্ত্রের অণুজীবের বসবাস। সেখানে রোগপ্রতিরোধী কোষগুলো সারাক্ষণ নজর রাখে—অন্ত্রের ভেতর দিয়ে যাওয়া খাবারের উপাদান থেকে শুরু করে সম্ভাব্য রোগজীবাণু পর্যন্ত সবকিছুর ওপর।

উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাদ্যের আঁশ ভেঙে এমন কিছু যৌগ তৈরি করে, যা অন্ত্রের সুরক্ষামূলক মিউকাস স্তরকে পুষ্টি দিতে এবং অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই মিউকাস স্তরের নিচে থাকে এক স্তরের কোষ, যা অন্ত্রের ভেতরের উপাদান এবং শরীরের বাকি অংশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সীমানা তৈরি করে।

এই সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী বাধা ঠিকভাবে কাজ করাই শরীরকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘লিকি গাট’ বা অন্ত্রের অতিরিক্ত ভেদ্যতা কী?

‘লিকি গাট’ নামে পরিচিত সমস্যাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইনটেস্টাইনাল পারমিয়াবিলিটি বলা হয়। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক বাধা কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভেদ্য হয়ে যেতে পারে এবং এমন কিছু জীবাণু বা অণু অন্ত্রের আবরণ অতিক্রম করতে পারে, যেগুলো সাধারণত অন্ত্রের ভেতরেই থাকার কথা।

অন্ত্রের এই বাধার পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।

মানসিক চাপের সঙ্গে অন্ত্রের সম্পর্ক

মানসিক চাপের প্রভাব অনেক সময় সরাসরি পেটে অনুভূত হয়। হঠাৎ চাপের পরিস্থিতিতে কারও পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, ব্যথা কিংবা ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অন্ত্রের অণুজীবের ভারসাম্য এবং অন্ত্রের সুরক্ষামূলক বাধার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে অন্ত্রের আবরণে এমন পরিবর্তন হতে পারে, যার মাধ্যমে খাবারের কিছু অণু বা ব্যাকটেরিয়া শরীরের ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে প্রবেশের সুযোগ পায়।

তাই মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের সময় তাড়াহুড়া না করে বসে খাওয়া, খাবারের আগে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া এবং ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার মতো সহজ অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।Frontiers | Key messengers in the gut-nose axis: mechanisms of gut microbial metabolites in the immunomodulation of allergic rhinitis

মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে কী করবেন?

পর্যাপ্ত ঘুম রোগপ্রতিরোধী নতুন কোষ তৈরিতে এবং শরীর থেকে রোগজীবাণু দূর করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই ঘুমকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়।

আঁশসমৃদ্ধ, উদ্ভিদভিত্তিক খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের আঁশ সরবরাহ করে। এসব ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিটেট, বিউটিরেট ও প্রোপিওনেটের মতো স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে, যা অন্ত্রের আবরণ ও সুরক্ষামূলক বাধাকে সহায়তা করে।

খাদ্যে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। গাঁজন করা খাবার উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস হতে পারে এবং নির্দিষ্ট অন্ত্রের সমস্যায় প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টও উপকারী হতে পারে।

কিছু গবেষণায় গরুর কলোস্ট্রাম বা জন্মের পর গাভীর প্রথম দুধ থেকে তৈরি উপাদান বিশেষ করে ক্রীড়াবিদদের অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকার দেখিয়েছে। গোল্ডেনসিল প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও এটি কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

জিংক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ঠান্ডার উপসর্গ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জিংক লজেন্স ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গের স্থায়িত্ব কমতে পারে।

ভিটামিন এ শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলিজা, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার থেকে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। আবার কমলা ও হলুদ রঙের বিভিন্ন সবজি ও ফলে থাকা প্রোভিটামিন এ শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হতে পারে।

এ ছাড়া এন-অ্যাসিটাইলসিস্টেইন (NAC) শ্লেষ্মার বৈশিষ্ট্য এবং শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাবের মাধ্যমে মিউকোসাল টিস্যুকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে।

তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধকে নিজের মতো করে নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে অন্য ওষুধ চললে বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরের নীরব প্রহরী

আমাদের শরীর প্রতিদিন এমন অসংখ্য অণুজীব ও পরিবেশগত উপাদানের মুখোমুখি হয়, যেগুলো সম্পর্কে আমরা সচেতনও নই। নাক, ফুসফুস, মুখ, অন্ত্র এবং অন্যান্য মিউকোসাল টিস্যু সেই অদৃশ্য সীমান্তে দাঁড়িয়ে শরীরকে রক্ষা করে।

এই ব্যবস্থার সাফল্য শুধু ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করার মধ্যে নয়। বরং উপকারী জীবাণুকে জায়গা দেওয়া, ক্ষতিকর উপাদানকে আটকে রাখা এবং নিরীহ জিনিসের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রদাহ সৃষ্টি না করাও এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তাই সুস্থ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মানে শুধু বেশি ‘শক্তিশালী’ প্রতিরোধ নয়—বরং সঠিক সময়ে সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখানো, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।