০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম? পাঞ্জাবই কি পাকিস্তান? ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণে বাড়ছে প্রাদেশিক বৈষম্য নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি, কূটনীতিতে নতুন গতি পাকিস্তানের আফগান সীমান্তে বিমান হামলা, নিহত ২৮ সন্ত্রাসী করাচির কৌতূহলী মেয়েটি থেকে মহাবিশ্বের ‘শব্দ’ শোনার বিজ্ঞানী নেরগিস মাভালভালা ইমরান খানের আরও দুই বোন আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে ৯০ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমি ও হারানো স্বজনদের খুঁজতে ওকিনাওয়া যাচ্ছেন ফিলিপাইনের নারী প্রায় তিন বছর পর গাজায় স্কুলে ফিরল শিশুরা, তাঁবুতেও চলছে নতুন স্বপ্নের শুরু কুমিল্লায় মা ও দেড় বছরের নাতনি নিহত, ছেলেকে আটক

৯০ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমি ও হারানো স্বজনদের খুঁজতে ওকিনাওয়া যাচ্ছেন ফিলিপাইনের নারী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর কেটে গেছে সাত দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু বাবার জন্মভূমি ওকিনাওয়াকে ভুলে যাননি ফিলিপাইনে জন্ম নেওয়া জাপানি বংশোদ্ভূত আদেলাইদা কাকাজু। ৯০ বছর বয়সে এসে জীবনের এক অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে চান তিনি—বাবার জন্মভূমি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে গিয়ে তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করা এবং বাবার কবরের কাছে শ্রদ্ধা জানানো।

আদেলাইদা চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো ওকিনাওয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে বাবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। এ জন্য জাপানে থাকা আত্মীয়দের খুঁজে বের করতে একটি সহায়তা গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় স্বজনদের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আদেলাইদা এবং ফিলিপাইন নিক্কেই-জিন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার মানুষের কাছে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আদেলাইদার বাবা নোবোরু কাকাজু ছিলেন ওকিনাওয়ার বাসিন্দা। তাঁর মা ছিলেন ফিলিপাইনের নাগরিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালে নোবোরুকে তাঁর বড় ছেলে শোইচির সঙ্গে ফিলিপাইন থেকে জাপানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নোবোরু ১৯৫১ সালে মারা যান।

আদেলাইদা জানান, তাঁর বাবার জীবনের শেষ সময় যারা তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে দেখাশোনা করেছিলেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান। সেই মানুষদের খুঁজে বের করা এবং বাবার পরিবারের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক তৈরি করাই তাঁর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নোবোরুর বড় ছেলে শোইচি পরে ১৯৭০-এর দশকে আবার ফিলিপাইনে ফিরে যান। কিন্তু ওকিনাওয়ায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে শোইচি মারা যাওয়ার সময়ও সেই সম্পর্ক আর ফিরে আসেনি।

দীর্ঘদিন পর শুরু হয় স্বজন খোঁজার চেষ্টা

আদেলাইদার পরিবারের স্বজন খোঁজার চেষ্টা নতুন করে শুরু হয় গত বছরের জুনে। তাঁর এক নাতি যুদ্ধের পর ফিলিপাইনে থেকে যাওয়া জাপানি বংশোদ্ভূত মানুষদের নিয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখেছিলেন। সেই অনুষ্ঠান দেখার পর তিনি যুদ্ধের পর ফিলিপাইনে থেকে যাওয়া জাপানি বংশোদ্ভূতদের সহায়তাকারী একটি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর শুরু হয় পুরোনো নথিপত্র খোঁজার কাজ। একপর্যায়ে আদেলাইদার বাবা-মায়ের বিয়ের নথিসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট হতে থাকে।

চলতি বছরের মার্চে জাপানের একটি আদালত আদেলাইদার জাপানি নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের অনুমোদন দেয়। এরপরই তিনি ওকিনাওয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে নিজের বাবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাঁর বাবার কবরেও শ্রদ্ধা জানাতে চান তিনি।

পাওয়া গেছে বাবার পারিবারিক ঠিকানা

স্বজনদের সন্ধানে এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নোবোরু কাকাজুর নিবন্ধিত পারিবারিক ঠিকানা ছিল ওকিনাওয়ার ইতোমান শহরে। জানা গেছে, তাঁর একজন বড় ভাই ছিলেন—নাম নাওশি। অর্থাৎ নাওশি ছিলেন আদেলাইদার চাচা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নাওশির অন্তত দুই সন্তান ছিলেন। কিন্তু এতদিন পরও তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের বর্তমান সদস্যদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ বিচ্ছেদের কারণে পারিবারিক যোগাযোগের অনেক সূত্র হারিয়ে গেছে। পুরোনো নথি ও সীমিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে এখন সেই সূত্রগুলো আবার জোড়া লাগানোর চেষ্টা চলছে।

বাবার জন্মভূমিতে ফিরতে চান

আদেলাইদার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং হারিয়ে যাওয়া পারিবারিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁর বাবা জাপানে ফিরে গেলেও তিনি ফিলিপাইনেই থেকে যান। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হারিয়ে যায়।

এখন ৯০ বছর বয়সে এসে সেই হারানো সম্পর্কের কাছে ফিরতে চাইছেন তিনি। ওকিনাওনায় গিয়ে বাবার জন্মভূমি দেখা, তাঁর কবরের কাছে দাঁড়ানো এবং সম্ভব হলে বাবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করাই তাঁর আকাঙ্ক্ষা।

আদেলাইদার পরিবার ও সহায়তাকারী সংগঠন তাই ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের কাছে তাঁর স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে অনুরোধ করেছে। কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা একটি পরিবারের পুনর্মিলনের আশায় চলছে এই অনুসন্ধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি

৯০ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমি ও হারানো স্বজনদের খুঁজতে ওকিনাওয়া যাচ্ছেন ফিলিপাইনের নারী

০৬:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর কেটে গেছে সাত দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু বাবার জন্মভূমি ওকিনাওয়াকে ভুলে যাননি ফিলিপাইনে জন্ম নেওয়া জাপানি বংশোদ্ভূত আদেলাইদা কাকাজু। ৯০ বছর বয়সে এসে জীবনের এক অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে চান তিনি—বাবার জন্মভূমি জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে গিয়ে তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করা এবং বাবার কবরের কাছে শ্রদ্ধা জানানো।

আদেলাইদা চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো ওকিনাওয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে বাবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। এ জন্য জাপানে থাকা আত্মীয়দের খুঁজে বের করতে একটি সহায়তা গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় স্বজনদের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আদেলাইদা এবং ফিলিপাইন নিক্কেই-জিন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার মানুষের কাছে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আদেলাইদার বাবা নোবোরু কাকাজু ছিলেন ওকিনাওয়ার বাসিন্দা। তাঁর মা ছিলেন ফিলিপাইনের নাগরিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালে নোবোরুকে তাঁর বড় ছেলে শোইচির সঙ্গে ফিলিপাইন থেকে জাপানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নোবোরু ১৯৫১ সালে মারা যান।

আদেলাইদা জানান, তাঁর বাবার জীবনের শেষ সময় যারা তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে দেখাশোনা করেছিলেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান। সেই মানুষদের খুঁজে বের করা এবং বাবার পরিবারের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক তৈরি করাই তাঁর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নোবোরুর বড় ছেলে শোইচি পরে ১৯৭০-এর দশকে আবার ফিলিপাইনে ফিরে যান। কিন্তু ওকিনাওয়ায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে শোইচি মারা যাওয়ার সময়ও সেই সম্পর্ক আর ফিরে আসেনি।

দীর্ঘদিন পর শুরু হয় স্বজন খোঁজার চেষ্টা

আদেলাইদার পরিবারের স্বজন খোঁজার চেষ্টা নতুন করে শুরু হয় গত বছরের জুনে। তাঁর এক নাতি যুদ্ধের পর ফিলিপাইনে থেকে যাওয়া জাপানি বংশোদ্ভূত মানুষদের নিয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখেছিলেন। সেই অনুষ্ঠান দেখার পর তিনি যুদ্ধের পর ফিলিপাইনে থেকে যাওয়া জাপানি বংশোদ্ভূতদের সহায়তাকারী একটি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর শুরু হয় পুরোনো নথিপত্র খোঁজার কাজ। একপর্যায়ে আদেলাইদার বাবা-মায়ের বিয়ের নথিসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট হতে থাকে।

চলতি বছরের মার্চে জাপানের একটি আদালত আদেলাইদার জাপানি নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের অনুমোদন দেয়। এরপরই তিনি ওকিনাওয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে নিজের বাবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাঁর বাবার কবরেও শ্রদ্ধা জানাতে চান তিনি।

পাওয়া গেছে বাবার পারিবারিক ঠিকানা

স্বজনদের সন্ধানে এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নোবোরু কাকাজুর নিবন্ধিত পারিবারিক ঠিকানা ছিল ওকিনাওয়ার ইতোমান শহরে। জানা গেছে, তাঁর একজন বড় ভাই ছিলেন—নাম নাওশি। অর্থাৎ নাওশি ছিলেন আদেলাইদার চাচা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নাওশির অন্তত দুই সন্তান ছিলেন। কিন্তু এতদিন পরও তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের বর্তমান সদস্যদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ বিচ্ছেদের কারণে পারিবারিক যোগাযোগের অনেক সূত্র হারিয়ে গেছে। পুরোনো নথি ও সীমিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে এখন সেই সূত্রগুলো আবার জোড়া লাগানোর চেষ্টা চলছে।

বাবার জন্মভূমিতে ফিরতে চান

আদেলাইদার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং হারিয়ে যাওয়া পারিবারিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁর বাবা জাপানে ফিরে গেলেও তিনি ফিলিপাইনেই থেকে যান। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হারিয়ে যায়।

এখন ৯০ বছর বয়সে এসে সেই হারানো সম্পর্কের কাছে ফিরতে চাইছেন তিনি। ওকিনাওনায় গিয়ে বাবার জন্মভূমি দেখা, তাঁর কবরের কাছে দাঁড়ানো এবং সম্ভব হলে বাবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করাই তাঁর আকাঙ্ক্ষা।

আদেলাইদার পরিবার ও সহায়তাকারী সংগঠন তাই ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের কাছে তাঁর স্বজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে অনুরোধ করেছে। কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা একটি পরিবারের পুনর্মিলনের আশায় চলছে এই অনুসন্ধান।