কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক নারী ও তাঁর দেড় বছরের নাতনিকে কুপিয়ে ও আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই নারীর ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে উপজেলার বরশালঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—গ্রামের ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ৬২ বছর বয়সী পেয়ারা বেগম এবং তাঁর নাতনি ইশরাত জাহান। ইশরাতের বয়স প্রায় দেড় বছর। সে মো. সুজনের মেয়ে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পেয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন তাঁর ছেলে ইমন, ২৪। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর ইমন তাঁর ছোট ভাইঝি ইশরাতকে একটি খাটের ওপর আছড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিশুটিও মারা যায়।
এ সময় ইশরাতের মা রাবেয়া তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইমন তাঁকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে রাবেয়া আহত হন। প্রথমে তাঁকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে তাঁরা ঘরের মেঝেতে পেয়ারা বেগমের মরদেহ এবং খাটের ওপর শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
নিহত শিশুর বাবা সুজন জানান, প্রায় আট মাস ধরে ইমন বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ফুটবল খেলার সময় তাঁর একটি পা ভেঙে যাওয়ার পর দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকেই তাঁর আচরণে মানসিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















