ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে টানা ভারী বৃষ্টিতে বুধবার আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাতভর বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একই সঙ্গে আসাম স্টেট জু-কাম-বোটানিক্যাল গার্ডেনের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাপোরিগোগ পাশের দেয়াল ধস
বুধবার ভোরে টানা বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া চিড়িয়াখানার জাপোরিগোগ পাশের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ হঠাৎ ধসে যায়। দেয়াল ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাপোরিগোগ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ করে চিড়িয়াখানা থেকে কোনো প্রাণী বেরিয়ে আসতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেয়ালটি বেশ কিছুদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত মাস থেকেই সেখানে জলাবদ্ধতা শুরু হয়েছিল এবং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু দেয়ালের অবস্থা প্রতিদিন খারাপ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিমা বড়োর অভিযোগ, দেয়ালের দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। টানা বৃষ্টিতে দেয়ালটি আরও দুর্বল হয়ে শেষ পর্যন্ত ধসে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।
দ্রুত ব্যবস্থা নিল কর্তৃপক্ষ
দেয়াল ধসের খবর পাওয়ার পর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত অস্থায়ী প্রতিবন্ধক তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণী যাতে চিড়িয়াখানা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, সে জন্য সেখানে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেয়াল ধসে পড়ার পর চিড়িয়াখানা থেকে কোনো প্রাণী বেরিয়ে যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি পদক্ষেপও শুরু করা হয়েছে।
ফের ভারী বৃষ্টিতে গুয়াহাটি বিপর্যস্ত
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে গুয়াহাটির হাতিগাঁও, অনিলনগর, জু রোড, ডাউন টাউন ও ওয়্যারলেস এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বারবারি-সিক্স মাইল সংযোগ সড়কেও কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
জু রোড এলাকার আম্বিকাগিরি নগর, দেবদারু পথ ও মিলন পথেও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুধবারের ক্লাস বন্ধ রাখে। সাতগাঁওয়ের এসএফএস স্কুল, হাতিগাঁওয়ের লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এবং সুপার মার্কেটের আনন্দ একাডেমি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তবে জোরাবাট এলাকায় এখন পর্যন্ত বন্যার পানি বা জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি এবং সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















