০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’ বিলবোর্ডে নতুন ইতিহাস গড়ল স্ট্রে কিডস, ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ উঠল ৩৮ নম্বরে ইওনজুন, ডিনো থেকে ইভান—একক সংগীতে নিজেদের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণে কে-পপ তারকারা রূপকথার গল্পে ১৭ গানের মহাকাব্য, নতুন অ্যালবামে ওয়ানউইয়ের নতুন অধ্যায় চার বছর পর জেওয়াইপি-ঘনিষ্ঠ নতুন কন্যাদল ‘আওয়ার বার্থডে’র অভিষেক গুয়াহাটিতে ফের বন্যা, চিড়িয়াখানার দেয়াল ধসে আতঙ্ক

কানাডার ওপর নতুন শুল্ক ৩ দিনের জন্য স্থগিত, ট্রাম্প বললেন—চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপের জন্য নির্ধারিত ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বুধবার সকাল থেকে কানাডার পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করা সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।

প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।

বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা গাড়ি আমদানির শুল্ক এবং কানাডার কয়েকটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রি নিষিদ্ধ রাখার বিষয়ও রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দুইবার ফোনে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, গত জুলাই থেকে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচকেরা টানা আলোচনা চালিয়ে আসছেন। ১৯ আগস্টের মধ্যে সমঝোতা না হলে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

Trump pauses tariffs on Canadian imports, Carney says key work remains |  Reuters

কার্নি এক চিঠিতে বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

কী থাকছে সম্ভাব্য চুক্তিতে

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য প্রস্তাবিত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই পাইপলাইন প্রকল্পটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির বিরোধিতা করে আসছে। তবে ট্রাম্প একাধিকবার এটি পুনরায় চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পাইপলাইনটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন আগে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন আবারও চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে সব ধরনের মার্কিন পণ্যের জন্য কানাডার বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার বিষয় থাকবে।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও দেশটির শ্রমিকদের সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রাখা হবে। কানাডার অংশীদারদের স্বার্থও এসব ব্যবস্থার মধ্যে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Trump Pauses 50% Tariffs on Canada For Three Days With Deal In Sight

ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি

শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত কানাডার আলোচকদের পাশাপাশি সীমান্তের দুই পাশের ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

ট্রাম্প গত বছরের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে কয়েক দশক ধরে চলে আসা দুই দেশের মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

কোন কোন পণ্যে শুল্ক বসার কথা ছিল

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষিত শুল্কের আওতায় কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য পড়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছিল মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও বরফখেলা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম।

এসব নতুন শুল্কের পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই আরোপিত শুল্কও বহাল ছিল।

কানাডা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর চেষ্টা করে আসছে। নতুন তিন দিনের স্থগিতাদেশ সেই আলোচনাকে আরও এক দফা সময় দিলেও চূড়ান্ত সমঝোতার আগে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিষ্পত্তি করা বাকি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম

কানাডার ওপর নতুন শুল্ক ৩ দিনের জন্য স্থগিত, ট্রাম্প বললেন—চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

০২:৩১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপের জন্য নির্ধারিত ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বুধবার সকাল থেকে কানাডার পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করা সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।

প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।

বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা গাড়ি আমদানির শুল্ক এবং কানাডার কয়েকটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রি নিষিদ্ধ রাখার বিষয়ও রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দুইবার ফোনে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, গত জুলাই থেকে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচকেরা টানা আলোচনা চালিয়ে আসছেন। ১৯ আগস্টের মধ্যে সমঝোতা না হলে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

Trump pauses tariffs on Canadian imports, Carney says key work remains |  Reuters

কার্নি এক চিঠিতে বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

কী থাকছে সম্ভাব্য চুক্তিতে

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য প্রস্তাবিত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই পাইপলাইন প্রকল্পটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির বিরোধিতা করে আসছে। তবে ট্রাম্প একাধিকবার এটি পুনরায় চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পাইপলাইনটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন আগে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন আবারও চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে সব ধরনের মার্কিন পণ্যের জন্য কানাডার বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার বিষয় থাকবে।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও দেশটির শ্রমিকদের সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রাখা হবে। কানাডার অংশীদারদের স্বার্থও এসব ব্যবস্থার মধ্যে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Trump Pauses 50% Tariffs on Canada For Three Days With Deal In Sight

ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি

শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত কানাডার আলোচকদের পাশাপাশি সীমান্তের দুই পাশের ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

ট্রাম্প গত বছরের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে কয়েক দশক ধরে চলে আসা দুই দেশের মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

কোন কোন পণ্যে শুল্ক বসার কথা ছিল

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষিত শুল্কের আওতায় কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য পড়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছিল মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও বরফখেলা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম।

এসব নতুন শুল্কের পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই আরোপিত শুল্কও বহাল ছিল।

কানাডা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর চেষ্টা করে আসছে। নতুন তিন দিনের স্থগিতাদেশ সেই আলোচনাকে আরও এক দফা সময় দিলেও চূড়ান্ত সমঝোতার আগে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিষ্পত্তি করা বাকি।