০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
জর্জ মাইকেলের হারিয়ে যাওয়া কনসার্ট ফিরছে পর্দায় তুরস্কের পাহাড়ি নির্জনতায় সাত দিন-রাতের ঘূর্ণি, সবার জন্য উন্মুক্ত সুফি সাধনা চীনের তথ্যভাণ্ডার দিয়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা শিশুর ঘরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি: নিরাপত্তা নাকি অতিরিক্ত নির্ভরতা? মলদোভা দখলের নীলনকশা! নির্বাচন ঘিরে রাশিয়ার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস মালয়েশিয়ায় ডিজেল ভর্তুকি ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন, শিথিল হচ্ছে যোগ্যতার নিয়ম ২০২৪ সাল থেকে একাধিক দেশে মাদক পাচার করেছেন মালয়েশিয়ার পাইলট প্রথমবারেই বাজিমাত, ‘তিউইকার্মা’ দিয়ে সেরার মুকুট কেওআইয়ের বাবাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়েই মনে রাখেন জেনহান কোভিডের অতিরিক্ত মৃত্যু নিয়ে বিতর্কিত গবেষণা প্রত্যাহার

বাবাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়েই মনে রাখেন জেনহান

বাবাকে হারানোর স্মৃতি অনেকের কাছেই কান্না আর বিষাদের। কিন্তু মালয়েশিয়ার কৌতুকশিল্পী কুয়াহ জেনহান তাঁর প্রয়াত বাবাকে মনে রাখার জন্য বেছে নিয়েছেন হাসির পথ। ২০১০ সালে বাবাকে হারানোর পরও পরিবারের সবচেয়ে বড় ভক্ত হিসেবে বাবার স্মৃতি তাঁর জীবনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। তবে সেই স্মৃতিকে চোখের জলে নয়, আনন্দ আর হাসির মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান ৩৯ বছর বয়সী এই শিল্পী।

বাবাকে ঘিরেই তৈরি মঞ্চনাট্য

বাবাকে স্মরণ করতেই জেনহান তৈরি করেছিলেন ‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড’ নামের কৌতুকধর্মী পরিবেশনা। ২০১৩ সালে প্রথম লেখা এই অনুষ্ঠানটি পরে তিনি কয়েক দফা নতুন করে সাজিয়েছেন। এবার এর পরিমার্জিত সংস্করণ মঞ্চস্থ হবে ২২ আগস্ট রাত ৮টায়।

‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড: দ্য স্টোরিটেলিং স্পেশাল’ হবে সুবাং জায়ার জেফরি চিয়াহ পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে জেনহানের প্রথম পরিবেশনা। একই সঙ্গে নতুন এই মঞ্চে একক অনুষ্ঠান করা প্রথম কৌতুকশিল্পীও তিনি।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও থামেননি

SHOWBIZ: Kuah Jenhan's poignant, yet funny tribute to late father | New  Straits Times

জেনহান জানান, ২০১০ সালে বাবার মৃত্যুর সময় তিনি জর্জ টাউনে একটি কৌতুক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করছিলেন। হঠাৎ জানতে পারেন, তাঁর বাবা মারাত্মক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

খবরটি তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিলেও বাবার প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে সামলে নিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান তিনি। পরে শোক সামলানোর সময় বাবার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু করার চিন্তা তাঁর মনে আসে।

তখনই জন্ম নেয় ‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড’-এর ভাবনা। জেনহানের ভাষায়, এটি শুধু কৌতুক পরিবেশনা নয়; বাবার সঙ্গে তাঁর বেড়ে ওঠা, বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং দুজনের মিল-অমিলের গল্পও এতে উঠে এসেছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি

জেনহান জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে বাবাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৯ বছর—যে বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে পেয়েছিলেন, তার চেয়ে মাত্র এক বছর কম।

এই বিষয়টি তাঁকে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়েও ভাবিয়েছে। বারবার লেখা বদলানোর ফলে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও গল্প বলার ধরনও আরও পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি মজার দিকও রয়েছে। জেনহান নিজেকে অন্তর্মুখী এবং বাবাকে সংযত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বৈশিষ্ট্য দুজনের মধ্যেই মিল ছিল।

Like This, Like Dad: Kuah Jen Han on finding the funny in grief, family and  growing up | Tatler Asia

ছেলেকে মঞ্চে দেখতে প্রথমে রাজি ছিলেন না বাবা

২০০৯ সালে জেনহান আবার কৌতুকচর্চায় ফেরার পর তাঁর পরিবার তাঁর অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। তবে শুরুতে তাঁর বাবা যেতে চাননি। মজা করে তিনি বলেছিলেন, পরিবারের সবাই যদি ছেলের অনুষ্ঠান দেখতে যায়, তাহলে বাড়ির কুকুরটির দেখাশোনা করবে কে?

এই ধরনের পারিবারিক স্মৃতিই নতুন পরিবেশনার প্রাণ। জেনহান চান দর্শকেরা তাঁর বাবাকে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে চিনুক—যাঁর মধ্যে ছিল রসবোধ, ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি গভীর টান।

সন্তানদের নিয়েও দেখা যাবে অনুষ্ঠান

জেনহান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি পুরো পরিবারের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে। কোনো অশ্লীল রসিকতা রাখা হয়নি, যাতে দর্শকেরা সন্তানদের নিয়েও অনুষ্ঠানটি দেখতে আসতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত থাকবেন টেলিভিশন উপস্থাপক, অভিনেতা ও সঞ্চালক প্যাট্রিক তিওহ। তিনি ছিলেন জেনহানের বাবার পছন্দের তারকাদের একজন। তাই তাঁর উপস্থিতিকে বাবার পছন্দের সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা হিসেবেই দেখছেন জেনহান।

প্রায় ১ হাজার ২০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই অনুষ্ঠানটি জেনহানের প্রথম একক পরিবেশনা নয়। এর আগে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও লন্ডনেও তিনি একক অনুষ্ঠান করেছেন। পার্থ ফ্রিঞ্জ ওয়ার্ল্ড উৎসবে তাঁর একটি অনুষ্ঠান সেরা কৌতুক পরিবেশনার জন্য মনোনীতও হয়েছিল।

তবে সব সাফল্যের পরও বাবাকে ঘিরে তৈরি এই অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব তাঁর কাছে আলাদা। কারণ এটি শুধু একজন কৌতুকশিল্পীর মঞ্চ পরিবেশনা নয়, বরং হাসি আর গল্পের মধ্য দিয়ে একজন সন্তানের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করার ব্যক্তিগত প্রয়াস।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জর্জ মাইকেলের হারিয়ে যাওয়া কনসার্ট ফিরছে পর্দায়

বাবাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়েই মনে রাখেন জেনহান

১২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বাবাকে হারানোর স্মৃতি অনেকের কাছেই কান্না আর বিষাদের। কিন্তু মালয়েশিয়ার কৌতুকশিল্পী কুয়াহ জেনহান তাঁর প্রয়াত বাবাকে মনে রাখার জন্য বেছে নিয়েছেন হাসির পথ। ২০১০ সালে বাবাকে হারানোর পরও পরিবারের সবচেয়ে বড় ভক্ত হিসেবে বাবার স্মৃতি তাঁর জীবনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। তবে সেই স্মৃতিকে চোখের জলে নয়, আনন্দ আর হাসির মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান ৩৯ বছর বয়সী এই শিল্পী।

বাবাকে ঘিরেই তৈরি মঞ্চনাট্য

বাবাকে স্মরণ করতেই জেনহান তৈরি করেছিলেন ‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড’ নামের কৌতুকধর্মী পরিবেশনা। ২০১৩ সালে প্রথম লেখা এই অনুষ্ঠানটি পরে তিনি কয়েক দফা নতুন করে সাজিয়েছেন। এবার এর পরিমার্জিত সংস্করণ মঞ্চস্থ হবে ২২ আগস্ট রাত ৮টায়।

‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড: দ্য স্টোরিটেলিং স্পেশাল’ হবে সুবাং জায়ার জেফরি চিয়াহ পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে জেনহানের প্রথম পরিবেশনা। একই সঙ্গে নতুন এই মঞ্চে একক অনুষ্ঠান করা প্রথম কৌতুকশিল্পীও তিনি।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও থামেননি

SHOWBIZ: Kuah Jenhan's poignant, yet funny tribute to late father | New  Straits Times

জেনহান জানান, ২০১০ সালে বাবার মৃত্যুর সময় তিনি জর্জ টাউনে একটি কৌতুক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করছিলেন। হঠাৎ জানতে পারেন, তাঁর বাবা মারাত্মক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

খবরটি তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিলেও বাবার প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে সামলে নিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান তিনি। পরে শোক সামলানোর সময় বাবার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু করার চিন্তা তাঁর মনে আসে।

তখনই জন্ম নেয় ‘লাইক দিস, লাইক ড্যাড’-এর ভাবনা। জেনহানের ভাষায়, এটি শুধু কৌতুক পরিবেশনা নয়; বাবার সঙ্গে তাঁর বেড়ে ওঠা, বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং দুজনের মিল-অমিলের গল্পও এতে উঠে এসেছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি

জেনহান জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে বাবাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৯ বছর—যে বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে পেয়েছিলেন, তার চেয়ে মাত্র এক বছর কম।

এই বিষয়টি তাঁকে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়েও ভাবিয়েছে। বারবার লেখা বদলানোর ফলে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও গল্প বলার ধরনও আরও পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি মজার দিকও রয়েছে। জেনহান নিজেকে অন্তর্মুখী এবং বাবাকে সংযত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বৈশিষ্ট্য দুজনের মধ্যেই মিল ছিল।

Like This, Like Dad: Kuah Jen Han on finding the funny in grief, family and  growing up | Tatler Asia

ছেলেকে মঞ্চে দেখতে প্রথমে রাজি ছিলেন না বাবা

২০০৯ সালে জেনহান আবার কৌতুকচর্চায় ফেরার পর তাঁর পরিবার তাঁর অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। তবে শুরুতে তাঁর বাবা যেতে চাননি। মজা করে তিনি বলেছিলেন, পরিবারের সবাই যদি ছেলের অনুষ্ঠান দেখতে যায়, তাহলে বাড়ির কুকুরটির দেখাশোনা করবে কে?

এই ধরনের পারিবারিক স্মৃতিই নতুন পরিবেশনার প্রাণ। জেনহান চান দর্শকেরা তাঁর বাবাকে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে চিনুক—যাঁর মধ্যে ছিল রসবোধ, ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি গভীর টান।

সন্তানদের নিয়েও দেখা যাবে অনুষ্ঠান

জেনহান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি পুরো পরিবারের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে। কোনো অশ্লীল রসিকতা রাখা হয়নি, যাতে দর্শকেরা সন্তানদের নিয়েও অনুষ্ঠানটি দেখতে আসতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত থাকবেন টেলিভিশন উপস্থাপক, অভিনেতা ও সঞ্চালক প্যাট্রিক তিওহ। তিনি ছিলেন জেনহানের বাবার পছন্দের তারকাদের একজন। তাই তাঁর উপস্থিতিকে বাবার পছন্দের সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা হিসেবেই দেখছেন জেনহান।

প্রায় ১ হাজার ২০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই অনুষ্ঠানটি জেনহানের প্রথম একক পরিবেশনা নয়। এর আগে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও লন্ডনেও তিনি একক অনুষ্ঠান করেছেন। পার্থ ফ্রিঞ্জ ওয়ার্ল্ড উৎসবে তাঁর একটি অনুষ্ঠান সেরা কৌতুক পরিবেশনার জন্য মনোনীতও হয়েছিল।

তবে সব সাফল্যের পরও বাবাকে ঘিরে তৈরি এই অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব তাঁর কাছে আলাদা। কারণ এটি শুধু একজন কৌতুকশিল্পীর মঞ্চ পরিবেশনা নয়, বরং হাসি আর গল্পের মধ্য দিয়ে একজন সন্তানের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করার ব্যক্তিগত প্রয়াস।