০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
রুটি-বিদ্যুৎহীন কিউবা: আর কতটা সহ্য করতে পারবেন সাধারণ মানুষ? মঞ্চে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন তারা এরাউট: সমালোচনা পেরিয়ে রসিনির অপেরায় নতুন সাফল্য সন্ত ফ্রান্সিসের চরিত্রে ডুব দিতে দুই মাস সন্ন্যাসীদের সঙ্গে শিল্পীর জীবন প্রযুক্তি জায়ান্টদের মুনাফায় নতুন ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার কি ‘চক্রাকার’ ফাঁদে? নটর ডেমে নতুন রঙিন কাচের জানালা, ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতার তীব্র বিতর্ক জর্জ মাইকেলের হারিয়ে যাওয়া কনসার্ট ফিরছে পর্দায় তুরস্কের পাহাড়ি নির্জনতায় সাত দিন-রাতের ঘূর্ণি, সবার জন্য উন্মুক্ত সুফি সাধনা চীনের তথ্যভাণ্ডার দিয়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা শিশুর ঘরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি: নিরাপত্তা নাকি অতিরিক্ত নির্ভরতা? মলদোভা দখলের নীলনকশা! নির্বাচন ঘিরে রাশিয়ার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস

২০২৪ সাল থেকে একাধিক দেশে মাদক পাচার করেছেন মালয়েশিয়ার পাইলট

মালয়েশিয়ার একটি বিমান সংস্থার ৩৯ বছর বয়সী পাইলট ২০২৪ সাল থেকে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার করেছেন বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে দেশটির পুলিশ। ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক বহনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।

সর্বশেষ অভিযানে তার সঙ্গে ছিল বিপুল পরিমাণ মাদক। গত ২৯ জুলাই কুয়ালালামপুর থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজ তল্লাশি করে ১৪টি প্যাকেটে রাখা ৭০ হাজার ১১৪টি মাদকজাত বড়ি এবং হাতে বহন করা ব্যাগ থেকে চার গ্রাম শাবু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত।

উড়োজাহাজের সময়সূচি কাজে লাগিয়ে পাচার

মালয়েশিয়ার পুলিশ বলছে, ওই পাইলট নিজের উড়োজাহাজ পরিচালনার সময়সূচিকে কাজে লাগিয়ে ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে মাদক নিয়ে যাতায়াত করতেন। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, সর্বশেষ ঘটনাটিই তার প্রথম মাদক পাচারের ঘটনা নয়; এর আগে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে মাদক পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

জাকার্তায় তিন দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা মালয়েশিয়া ও বিদেশের কয়েকটি মাদক চক্র সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন। এখন এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

Surveillance video shows arrest of pilot accused of smuggling ecstasy

আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সন্ধানে পুলিশ

মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, পাইলটের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অর্থের প্রবাহও অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি মাদক চক্রগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হবে।

তবে তদন্তকারীরা এখনই সম্ভাব্য চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে চাইছেন না। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও যাচাই ও পারস্পরিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের ভেতরের কেউ জড়িত নয়

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ভেতরের ব্যক্তি ওই পাইলটকে সহায়তা করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে গিয়েছিলেন।

তবে ঠিক কীভাবে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে মাদক নিয়ে বিমানবন্দর পার হতে পেরেছিলেন, তা এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। চলমান তদন্তের স্বার্থেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না।

5,800+ Indonesia Police Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images -  iStock

জাকার্তায় গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ার শুল্ক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে এক্স-রে পরীক্ষার সময় পাইলটের লাগেজে সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, জাকার্তায় মাদক পৌঁছে দিলে ওই পাইলটকে ৫০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একজনের কাছে মাদকগুলো হস্তান্তরের কথা ছিল।

পাইলট বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। তাকে মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা দুই দেশের পারস্পরিক আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রুটি-বিদ্যুৎহীন কিউবা: আর কতটা সহ্য করতে পারবেন সাধারণ মানুষ?

২০২৪ সাল থেকে একাধিক দেশে মাদক পাচার করেছেন মালয়েশিয়ার পাইলট

১২:২৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ার একটি বিমান সংস্থার ৩৯ বছর বয়সী পাইলট ২০২৪ সাল থেকে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার করেছেন বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে দেশটির পুলিশ। ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক বহনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।

সর্বশেষ অভিযানে তার সঙ্গে ছিল বিপুল পরিমাণ মাদক। গত ২৯ জুলাই কুয়ালালামপুর থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজ তল্লাশি করে ১৪টি প্যাকেটে রাখা ৭০ হাজার ১১৪টি মাদকজাত বড়ি এবং হাতে বহন করা ব্যাগ থেকে চার গ্রাম শাবু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত।

উড়োজাহাজের সময়সূচি কাজে লাগিয়ে পাচার

মালয়েশিয়ার পুলিশ বলছে, ওই পাইলট নিজের উড়োজাহাজ পরিচালনার সময়সূচিকে কাজে লাগিয়ে ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে মাদক নিয়ে যাতায়াত করতেন। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, সর্বশেষ ঘটনাটিই তার প্রথম মাদক পাচারের ঘটনা নয়; এর আগে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে মাদক পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

জাকার্তায় তিন দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা মালয়েশিয়া ও বিদেশের কয়েকটি মাদক চক্র সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন। এখন এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

Surveillance video shows arrest of pilot accused of smuggling ecstasy

আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সন্ধানে পুলিশ

মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, পাইলটের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অর্থের প্রবাহও অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি মাদক চক্রগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হবে।

তবে তদন্তকারীরা এখনই সম্ভাব্য চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে চাইছেন না। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও যাচাই ও পারস্পরিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের ভেতরের কেউ জড়িত নয়

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ভেতরের ব্যক্তি ওই পাইলটকে সহায়তা করেছেন—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে গিয়েছিলেন।

তবে ঠিক কীভাবে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে মাদক নিয়ে বিমানবন্দর পার হতে পেরেছিলেন, তা এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। চলমান তদন্তের স্বার্থেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না।

5,800+ Indonesia Police Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images -  iStock

জাকার্তায় গ্রেপ্তার

ইন্দোনেশিয়ার শুল্ক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে এক্স-রে পরীক্ষার সময় পাইলটের লাগেজে সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, জাকার্তায় মাদক পৌঁছে দিলে ওই পাইলটকে ৫০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একজনের কাছে মাদকগুলো হস্তান্তরের কথা ছিল।

পাইলট বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। দেশটির আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। তাকে মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা দুই দেশের পারস্পরিক আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।