অস্কার মনোনীত অ্যানিমেশনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের পথে
নেটফ্লিক্স নিশ্চিত করেছে যে অস্কার মনোনীত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র কে-পপ ডেমন হান্টার্সের একটি সিক্যুয়েল তৈরি হবে। মূল চলচ্চিত্রের পরিচালক ম্যাগি কাং ও ক্রিস অ্যাপেলহান্স দুজনেই ফিরে আসছেন। এই ঘোষণার পাশাপাশি জানা গেছে, এটি হবে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাদের নতুন সৃজনশীল অংশীদারিত্বের আওতায় প্রথম প্রকল্প। মূল চলচ্চিত্রটি নেটফ্লিক্সের তালিকায় টানা ৪০ সপ্তাহ ধরে শীর্ষস্থানীয় অ্যানিমেশন হিসেবে রয়েছে। নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে কোনো অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের এত দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থাকার ঘটনা বিরল।

মূল চলচ্চিত্রে কে-পপ সংস্কৃতি ও অ্যাকশন-ফ্যান্টাসির সমন্বয় ঘটানো হয়েছিল, যা বৈশ্বিক দর্শকদের মধ্যে অসাধারণ সাড়া ফেলে। চলচ্চিত্রটির গান গোল্ডেন ২০২৬ সালের বাফটা পুরস্কারে পরিবেশিত হয়েছিল এবং গ্র্যামিও জিতেছে। ম্যাগি কাং বলেছেন, “এটি কেবল শুরু।” তাদের ফেরার সিদ্ধান্ত দর্শকদের জন্য একটি বড় আশ্বাস, কারণ পরিচালক জুটির অনন্য ভিজ্যুয়াল শৈলী ও গল্প বলার ধরনই মূল চলচ্চিত্রের প্রাণ ছিল। নেটফ্লিক্সও এই সিরিজটিকে তাদের অ্যানিমেশন বিভাগের মূল স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
কে-পপ ডেমন হান্টার্সের সাফল্য বৈশ্বিক বিনোদন বাজারে কে-পপ সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি প্রমাণ। দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংস্কৃতি এখন কেবল সংগীত বা নাটকে সীমাবদ্ধ নেই, এটি অ্যানিমেশন ও চলচ্চিত্রেও নতুন ধারা তৈরি করছে। নেটফ্লিক্স ইতোমধ্যে হাইব আমেরিকার সঙ্গে একটি কাল্পনিক কে-পপ টেলিভিশন সিরিজের জন্য চুক্তি করেছে। পরপর এই ঘোষণাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কোরিয়ান বিনোদন শিল্পের সঙ্গে নেটফ্লিক্সের সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে।
সিক্যুয়েলের গল্প বা মুক্তির তারিখ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মূল পরিচালকদের ফিরে আসা এবং নেটফ্লিক্সের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রযোজনা দ্রুত এগোবে। বিনোদন বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল চলচ্চিত্রের বিশাল দর্শকগোষ্ঠী ইতোমধ্যে তৈরি থাকায় সিক্যুয়েলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কে-পপ ও অ্যানিমেশনের এই মিলন বৈশ্বিক বিনোদন বাজারে একটি নতুন উপধারার জন্ম দিচ্ছে, যার আরও বিস্তার আশা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















