অধ্যায়ের শেষ শ্বাসে পৌঁছে গেছে সেই মানুষটি, যিনি কেবল একজন অ্যাকশন হিরোই ছিলেন না, বরং এক প্রজন্মের সাহস, অনুশাসন ও প্রত্যয়কে প্রতীকী রূপে ধারণ করেছিলেন। মার্চের ১৯ তারিখে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেন বিশ্বখ্যাত করাতে চ্যাম্পিয়ন ও চলচ্চিত্র তারকা চাক নরিস।
শৈশব থেকে সংগ্রামের পথে
ওকলাহোমার গ্রামীণ পরিবেশে জন্মানো চাক নরিসের জীবন ছিল নিরলস সংগ্রামের। বাড়ির অশান্ত পরিবেশ, মাতার অপ্রতুল স্নেহ ও বাবার মদ্যপানের ছায়ায় তিনি বড় হয়েছেন। স্কুলে তিনি চুপচাপ, লাজুক ও খেলাধুলায় নিস্পৃহ ছিলেন। সেই সময়ের দু’টি পথই খোলা ছিল তার জন্য: হতাশায় ভুগে মায়ের পথে হাঁটবেন, নাকি নিজের একটি পরিচিতি গড়ে তুলবেন। তিনি বেছে নেন দ্বিতীয়টি।

মার্শাল আর্টের মাধ্যমে উত্থান
আমেরিকান বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জুডো হলের দরজা খুলেছিলেন তিনি। সেই প্রথম পদক্ষেপ তাকে চিরকাল বাঁধল। কোরিয়ান ট্যাং সু ডো, জুডো ও জিউ-জিৎসুতে তার দক্ষতা তাকে ১৯৬৭ সালে বিশ্ব মধ্য ওজন করাতে চ্যাম্পিয়ন বানায়। এরপর নিজের মার্শাল আর্ট স্কুল গড়ে তোলেন এবং “চুন কুক ডো” নামে অনন্য মার্শাল আর্ট সিস্টেম আবিষ্কার করেন।
হলিউডে অভিনয় ও অ্যাকশন কিং
ব্রুস লির সাহায্যে তিনি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। যদিও বড় তারকা হওয়ার পথে তার অভিনয় দক্ষতা সীমিত ছিল, চাক নরিসের স্ক্রিন উপস্থিতি ছিল একেবারেই আলাদা। “ওয়াকার: টেক্সাস রেঞ্জার” এবং “ডেল্টা ফোর্স” সিরিজে তার একক লড়াই, চতুর দাপট ও নিখুঁত জ্যাব-ফুট কিক দর্শককে মাতিয়ে রাখত। তিনি কখনো কেবল লড়াই করেননি, বরং নিজেকে এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মানুষ ও মিথ: চাক নরিস
চাক নরিস কেবল একটি নাম নয়, তিনি একটি ধারণা, একটি শক্তি। অনুরাগীরা তাঁকে দেখেছেন অতি শক্তিশালী মানুষ হিসেবে, যিনি ঘরে-বাইরে সকলকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার বই, বক্তৃতা ও কোচিং প্রোগ্রাম “কিকস্টার্ট কিডস” শিশুদের নৈতিকতা, ধৈর্য্য ও আত্মবিশ্বাস শেখায়।
চাক নরিস ছিলেন সেই মানুষ, যিনি নিজের সীমাবদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে পুরো বিশ্বের কাছে দেখিয়েছেন যে আত্ম-অভিজ্ঞতা, কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতা এক জন সাধারণ মানুষকেও অসাধারণ বানাতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















