ছোটবেলা থেকে চাদে বড় হওয়া হিন্দু ওমারু ইব্রাহিম শিখেছেন পৃথিবীকে বইয়ের আগে চোখে দেখতে। দিদিমার তত্ত্বাবধানে তিনি জানতেন কখন বৃষ্টি আসবে, কখন গবাদিপশু উপযুক্ত ভূমিতে স্থানান্তর করতে হবে। শিখেছিলেন, জমি সম্পত্তি নয়, স্মৃতি, পরিচয় ও দায়িত্ব। বড় হয়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় অংশ নিলেও দেখলেন অন্য ছবি। বিশেষজ্ঞদের ঘর, পরিসংখ্যান, পরিকল্পনার মাঝে শোনা যায় না তাদের কণ্ঠ, যারা প্রজন্ম ধরে পরিবেশ রক্ষা করেছেন। মানচিত্রে তাদের ভূমি “কার্বন সিঙ্ক” বা “প্রাকৃতিক সম্পদ” হিসেবে চিহ্নিত, কখনও পবিত্র ভূমি হিসেবে নয়।
সব ঠিক হলে পৃথিবী কেমন হবে? এই বিশ্বের অন্তর্দৃষ্টি হলো, আদিবাসীরা কখনো সমস্যা নয়, তারা সমাধানের অংশ। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্প্রদায় জীববৈচিত্র্যের রক্ষক। এটি আকস্মিক নয়, বরং পারস্পরিক সম্পর্ক ও দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনার ফল। তবু তাদের নেতৃত্বকে কখনো মূল্যায়ন করা হয় না, বরং ভঙ্গুর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। সব ঠিক হলে এই ভারসাম্য বদলে যাবে। ইব্রাহিম বলেন, নারী, চাচী, কাকারমণি, মেয়েরা সূর্য ওঠার আগে জল সংগ্রহ করে, উদ্ভিদ চেনে কোনটি ঔষধ, কোনটি পুষ্টি যোগায়। তারা পরিবারের অর্থনীতি পরিচালনা করে। তারা প্রকৃত জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, যদিও কখনও নিজেকে সেই নামে অভিহিত করবে না, শুধু বলবে তারা জীবন রক্ষা করছে।

সঠিক পৃথিবীতে তারা জটিল তহবিল ব্যবস্থার সাথে লড়াই করতে হবে না। সরাসরি ক্লাইমেট ফাইন্যান্সে পৌঁছাবে, আস্থার ভিত্তিতে। নিরাপদ ভূমি অধিকার থাকলে, বনকাটা কমে, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়, সংঘাত কমে, জলবায়ু লাভবান হয়। এটি শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা। সরকাররা আদিবাসীদের ভূমি অধিকারকে “কার্যকরী” হিসেবে নয়, বরং আবশ্যিক জলবায়ু অবকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। কর্পোরেশনগুলো বুঝবে, সবুজ রূপান্তর আদিবাসীদের অধিকার ও জীবন লঙ্ঘন করে করা যায় না।
অর্থনীতির ধারণা সংগ্রহ নয়, ভারসাম্য। যথেষ্ট চারণভূমি, যথেষ্ট জল, কখনও অতিরিক্ত নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের অর্থনীতি শিখবে পরিমিতির শিক্ষা। সামনের প্রজন্মের কথা ভাবলে, ইব্রাহিম বলেন, আমাদের চিন্তা হতে হবে সাত প্রজন্মের পেছনে ও সাত প্রজন্মের সামনে। নতুন প্রজন্মের আদিবাসী মেয়েরা যেন সংস্কৃতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে দ্বিধায় না থাকে। তারা শুধু জলবায়ু লক্ষ্য নয়, মর্যাদা ও নেতৃত্বও উত্তরাধিকারী হবে।
সমস্যা জ্ঞান নয়, রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাব। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত নয়, নৈতিক। আদিবাসী নেতৃত্বকে বিশ্বাস করা, ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা, সম্প্রদায়কে সরাসরি তহবিল দেওয়া, মুনাফার বাইরে কল্যাণের সংজ্ঞা পুনঃসংজ্ঞায়িত করলে ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর নয়, বরং একত্রে নির্মাণযোগ্য। এই ভবিষ্যৎ প্রাচীন ও ভারসাম্যপূর্ণ, আর এটি এখনও সম্ভব, যদি আমরা সাহসী হয়ে শোনার চেষ্টা করি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















