২০২৬ সালের ৩০ মার্চ, কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি নামে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী সংস্থাটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-র রায় ও শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং ডিউ প্রসেস (ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া) অবহেলার অভিযোগে শক্তিশালী প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে যে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে — যা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংগতিপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে যে ২০২৪ সালের জুলাই-বিরোধী আন্দোলনের পরে আইসিটি-র এখতিয়ার বেড়ে যাওয়া এবং এর ব্যবহার মূল ১৯৭৩ সালের আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে চলে গেছে। সংস্থাটি বলেছে যে আদালত মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধজনিত অপরাধ মোকাবিলার জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে তা বেআইনিভাবে ২০২৪-এর সংঘর্ষ মোকাবিলায় প্রসারিত হয়েছে।
আইসিটি-র বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত পয়েন্টগুলোতে কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি বলেছে যে বিচারপতিদের পুনর্গঠন রাজনৈতিক সংযোগ এবং পক্ষপাতের ধারণা শক্তিশালী করেছে। এছাড়াও বলা হয়েছে যে প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সমর্থন দলের সঙ্গে সম্পর্ক বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মূল অভিযোগ: বিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
১) বিচারকীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন
আইসিটি-র প্যানেলে আগে থেকেই রাজনৈতিক চাপ ও পক্ষপাতের আশঙ্কা দেখা গেছে। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং প্রায়শই রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকের মন্তব্য এবং আচরণ থেকে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে রায় দেওয়ার আগে কিছু দিক থেকে সিদ্ধান্তগুলোতে বৈধ প্রমাণ ছাড়াই পূর্বধারণা ছিল।
২) প্রসিকিউটরীয় পক্ষপাতিতা
আইসিটি-র প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং বিরোধী দলের প্রতি সম্পর্ক বিচারিক ন্যায়বিচারের দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি উল্লেখ করেছে যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এটি বিচার প্রক্রিয়ার অনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধ হতে পারে।
৩) ন্যায্য বিচার ও সুযোগের দাবি
শেখ হাসিনাকে অভিযোগ ও প্রমাণাদি জানানো হয়নি, এবং সময়মতো প্রতিরক্ষা করার সুযোগও দেয়া হয়নি — যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনি ন্যায্যতার মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে।
৪) অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অনুপস্থিতিতে বিচার কঠোর শর্তে করা যায়। কিন্তু এখানে প্রক্রিয়াগত নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।
আইনি ব্যাখ্যা ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিভঙ্গি
কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি উল্লেখ করেছে যে ১৯৭৩-এর আইনের সংশোধনী এবং এর প্রতিক্রিয়াশীল প্রয়োগ আইনের স্বচ্ছতা এবং সচেতনতার নীতির বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে যথাযথ নোটিশ এবং সুনির্দিষ্ট সুযোগ থাকতে হবে।
অনুরোধ
কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি স্পষ্টভাবে দাবি করেছে:
- বর্তমান রায় এবং মৃত্যুদণ্ডকে আইনি ভিত্তিহীন হিসেবে বিবেচনা করা হোক।
- বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার মানদণ্ড অনুসারে পরিচালিত হোক।
- শেখ হাসিনার আইনগত অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত হোক।
- সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার এবং আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি
কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি হলো লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনজীবী সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বিচার, মানবাধিকার আইন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট এবং সংবিধানগত জীবনের আইনি লড়াইয়ে অভিজ্ঞ। সংস্থাটি বহু আন্তর্জাতিক মামলায় প্রতিরক্ষা ও আইনি উপস্থাপনা করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 




















