যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় এনভিডিয়ার এইচ২০০ চিপ ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে, যা চীনে বিক্রির অনুমতি পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসেসরগুলোর একটি।
সামরিক খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
সংগ্রহ করা ক্রয়সংক্রান্ত নথি থেকে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি সরাসরি চীনের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সহায়তা করে। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠান চীনের প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ‘জাতীয় প্রতিরক্ষার সাত সন্তান’ নামে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা চীনের সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।
চিপ ভাড়ায় নেওয়ার উদ্যোগ
নথিপত্রে দেখা যায়, বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এনভিডিয়ার এইচ২০০ চিপ ব্যবহারের জন্য ভাড়াভিত্তিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে জাতীয় প্রতিরক্ষা বৈশিষ্ট্য ও মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন বলে উল্লেখ করে।
একইভাবে নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগও এইচ২০০ চিপ ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে। বিভাগটির দাবি, তারা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সাইবার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তাদের বহু শিক্ষার্থী পরবর্তীতে সামরিক ইউনিটে কাজ করে।

প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন
চীনের সামরিক-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি পৌঁছানোর সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি কেনার পরিবর্তে ভাড়াভিত্তিক বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকলে উন্নত চিপের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ আংশিকভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু বাণিজ্যিক নয়, সামরিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে উন্নত চিপ প্রযুক্তির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















