পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে নয়জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার পরিচালিত এসব অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
জিয়ারাত, হারনাই ও সুরাব এলাকায় ‘অপারেশন রাদ-উল-ফিতনা ৩’-এর আওতায় এসব অভিযান চালানো হয়। পাকিস্তান টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশংসা
অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন এবং ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর নয়জনের বেশি সদস্যকে হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে নকভি বলেন, ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর বিরুদ্ধে অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে। অন্যদিকে বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে অভিহিত করে দেশটির সরকার। এই নাম ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তান দেশটিতে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ভারতের কথিত ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে।
সাম্প্রতিক অভিযানে ধারাবাহিক প্রাণহানি
বেলুচিস্তানে মঙ্গলবারের অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা। সোমবার প্রদেশটির কিল্লি জায়েক এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুই সন্ত্রাসী নিহত ও তিনজন আহত হয়।
এর এক দিন আগে খারানের লাজাই এলাকায় একই ধরনের অভিযানে সাত সন্ত্রাসী নিহত হয়। এর আগে শনিবার খুজদার জেলার শোর পার্দ এলাকায় অভিযানে ১০ সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়।
তারও আগে সুরাব জেলায় অন্তত ১৮ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন একটি বিস্ফোরক অকাল বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা যায়।

বেলুচিস্তানে বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট
বেলুচিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক নিরাপত্তা মূল্যায়নেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ৩১ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে প্রদেশটিতে মোট প্রাণহানি ছিল ১০৯। জুলাইয়ে তা বেড়ে ৩৭২-এ পৌঁছেছে, অর্থাৎ এক মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ২৪১ শতাংশ।
একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু ছয় থেকে বেড়ে ৬২ হয়েছে, যা ৯৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। সন্ত্রাসীদের মৃত্যুও ৭৫ থেকে বেড়ে ২৩৮ হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ২৮ থেকে বেড়ে ৫৪ হয়েছে, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি। এ ছাড়া প্রদেশটিতে শান্তি কমিটির ১৮ সদস্যও নিহত হয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















