তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণনের প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ত্রিশার উপস্থিতি এবং অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার সালাম বিনিময় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে)-প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র ‘মুরাসোলি’।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি প্রশ্ন তোলে, সরকারি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ত্রিশার এমন উপস্থিতি কতটা যথাযথ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজয়কে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই অভিনেত্রীকে সামনের সারিতে বসানো এবং দুজনের পরস্পরকে সালাম জানানোর দৃশ্য গ্রহণযোগ্য হয়নি। পত্রিকাটি আরও দাবি করে, বিষয়টিকে সম্মানের প্রশ্ন হিসেবে দেখিয়ে কেউ এটিকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে ত্রিশার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জে আয়োজিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হলুদ পোশাকে ত্রিশাকে সামনের সারিতে দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে তার সালাম বিনিময়ের দৃশ্যও নজর কাড়ে।

‘মুরাসোলি’ প্রশ্ন তোলে, স্বাধীনতা দিবসের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য যোগাযোগ কতটা উপযুক্ত। পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয়ের ভক্তরাই কেবল এমনভাবে কোনো অভিনেত্রীকে সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত করাকে স্বাভাবিক হিসেবে নিতে পারেন।
বিজয়-ত্রিশার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা
বিজয়ের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ত্রিশার উপস্থিতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনমনে আগ্রহ তৈরি করেছে। মে মাসে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ত্রিশাকে দেখা যায়। ওই সময় তাকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
বিজয় ও ত্রিশার বন্ধুত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও তার স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ত্রিশার উপস্থিতি নতুন করে নজরে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। মানসিক নির্যাতন, আবেগগত অবহেলা, পরিত্যাগ এবং পরকীয়ার অভিযোগের কথা ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে তিনি আবেদনটি প্রত্যাহার করেন।
বিজয়ের প্রথম তিন মাস নিয়েও ডিএমকের প্রশ্ন
‘মুরাসোলি’ শুধু ত্রিশাকে ঘিরে বিতর্কেই থামেনি; মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের প্রথম তিন মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পত্রিকাটির দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান নিয়ে বিজয় ইতোমধ্যেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জনগণের সমর্থন ধরে রাখার জন্য বিজয়ের আহ্বানকেও সেই উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজয় জনগণকে তার সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, সরকার যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, সেগুলো কার্যকর করতে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। ‘মুরাসোলি’ প্রশ্ন তোলে, এমন আবেদন করার প্রয়োজন কেন হলো এবং কিছু ভোটার ইতোমধ্যেই তাকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত কি না।
![]()
পত্রিকাটি কোয়েম্বাটোরে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জড়িত করে একটি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি বিজয়ের চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে তার শেষ সিনেমা ‘জননায়কন’-এর প্রযোজক ভেঙ্কট নারায়ণ, ‘বিগিল’ ও ‘কোড’-এর প্রযোজক অর্চনা কালপাথি এবং ‘লিও’-এর প্রযোজক জগদীশ পালানিস্বামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রী-এমএলএদের নিয়েও অভিযোগ
ডিএমকের মুখপত্রটি মন্ত্রী ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিজয় সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এক বিজয়-সমর্থক একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন অভিযোগ করেছিলেন বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করে দাবি করেছে, ওই সমর্থককে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদালতের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সমালোচনার বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
সবশেষে ‘মুরাসোলি’ দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আপনাকে ভোট দিয়েছিলাম, এখন অনুতপ্ত’ ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। পত্রিকাটির বক্তব্য, জনগণকে সরকারের পাশে থাকার জন্য বিজয়ের আহ্বান মূলত এসব সমালোচনার মোকাবিলার চেষ্টা। তাদের ভাষায়, জনগণ বোকা নয় এবং বিজয় শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















