ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের আগে দেশটির সংরক্ষণ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এক বিশেষ সুখবর। পশ্চিম জাভার বোগোর রিজেন্সির সিসারুয়া এলাকায় ইন্দোনেশিয়ান সাফারি পার্কে (টিএসআই) বিরল জাভান হক-ঈগলের একটি বাচ্চা ডিম ফুটে বের হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এই পাখিটির নবজাতকটির নাম রাখা হয়েছে ‘গারুদা’।
১৬ জুন জন্ম নেওয়া বাচ্চাটি পুরুষ জাভান হক-ঈগল হানুম এবং স্ত্রী রিসকার সন্তান। ইন্দোনেশিয়ান সাফারি পার্কের বোগোর শাখার প্রতিষ্ঠাতা জ্যানসেন মানানসাং নবজাতকটির নাম ‘গারুদা’ রাখেন।
প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার নতুন দৃষ্টান্ত
টিএসআইয়ের বোগোর শাখায় বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি জাভান হক-ঈগল রয়েছে। এর মধ্যে দুটি পাখিকে ইতোমধ্যে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রজনন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
টিএসআই বোগোর জ্যেষ্ঠ প্রাণী কিউরেটর ইমাম পুরওয়াদি বলেন, নতুন বাচ্চাটির জন্ম শুধু সংখ্যাগত সংযোজন নয়, এর বিশেষ গুরুত্ব হলো এটি বাবা-মায়ের স্বাভাবিক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।
হানুম ও রিসকা এর আগে আটটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে আগের বাচ্চাগুলোকে পরিচর্যাকারীরা হাতে লালন-পালন করেছিলেন। তবে নবম বাচ্চাটির ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতি বদলানো হয়েছে। এবার বাবা-মাকেই পুরোপুরি লালন-পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং পরিচর্যাকারীরা কেবল ন্যূনতম হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
কীভাবে চলছে পর্যবেক্ষণ
বাচ্চাটির শারীরিক অবস্থা ও বেড়ে ওঠা, তার চলাফেরা ও আচরণ, বাবা-মায়ের পরিচর্যার ধরন, তাদের স্বাস্থ্য এবং প্রজননস্থলের আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান লালন-পালনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মা ও বাচ্চার সুস্থতাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ইমাম পুরওয়াদি বলেন, হানুম ও রিসকার নবম বাচ্চার সফল জন্ম টিএসআইয়ের সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশেষত্ব হলো, এবার বাবা-মা নিজেরাই পুরো পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে।
![]()
প্রজনন থেকে টেকসই সংরক্ষণ
টিএসআইয়ের লক্ষ্য শুধু সফলভাবে জাভান হক-ঈগলের বংশবৃদ্ধি করা নয়; বরং তাদের প্রাকৃতিক আচরণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও টেকসই প্রাণী-জনসংখ্যা গড়ে তোলা। এ জন্য নিয়ন্ত্রিত প্রজননের পাশাপাশি প্রাণী কল্যাণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাভান হক-ঈগল ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব বা স্থানীয় প্রজাতি এবং দেশটির বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখিটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় প্রতীক ‘গারুদা’রও দৃশ্যগত মিল রয়েছে। ফলে এই প্রজাতির সংরক্ষণকে দেশটির জীববৈচিত্র্য ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবেও দেখা হয়।
তবে প্রজাতিটি এখনো বড় ধরনের সংরক্ষণ ঝুঁকিতে রয়েছে। জাভান হক-ঈগল বিশ্বের বিরল শিকারি পাখিগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় এটি ‘বিপন্ন’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত কনভেনশন সিআইটিইএসের পরিশিষ্ট-২-তেও রয়েছে প্রজাতিটি।
গারুদার জন্ম তাই শুধু একটি নতুন বাচ্চার আগমন নয়; ইন্দোনেশিয়ার বিরল ও প্রতীকী এক প্রজাতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখার দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসের আগে বিরল জাভান হক-ঈগলের জন্ম। বাবা-মায়ের স্বাভাবিক পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে নবজাতক ‘গারুদা’।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















