০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
উদ্ভাবনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল শক্তি, প্রযুক্তিতে নতুন যুগের পথে চীন তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বিরোধিতা, তীব্র সমালোচনায় রিচার্ড টাইস ২৪ বছর বয়সে স্ট্রোক, এবার ঘুমের শ্বাসকষ্ট শনাক্তে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের স্মার্ট আংটি চীনের এআই অবকাঠামোর শক্তি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতায় বড় ঝুঁকি উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী, কমছে মার্কিন সমর্থন: নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়া ইরানে জটিলতা, ফের কিমের দিকে ট্রাম্প: উত্তর কোরিয়া নীতি নিয়ে উঠছে পুরোনো ব্যর্থতার শঙ্কা ইরান যুদ্ধের ৬০ দিন: শান্তির চুক্তি ভেস্তে, হরমুজে অচলাবস্থায় ট্রাম্প চীনজুড়ে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত ভারতে ডিগ্রির দৌড়ে ঋণের বোঝা, চাকরির সংকটে তরুণদের ভবিষ্যৎ এক সুগন্ধি থেকে পুরো ‘সুগন্ধির পোশাক’: নতুন পথে কিলিয়ান প্যারিস

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারকে নিশানা, ২০২৭ সালের জনগণনায় ‘কারসাজির’ অভিযোগ কংগ্রেসের

ভারতে প্রস্তাবিত জাতিগণনা নিয়ে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিগণনার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাঁর প্রশ্ন, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি শনাক্তকরণের জন্য ‘ড্রপডাউন মেনু’ রাখা হচ্ছে না কেন, অথচ ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া সরকারি হলফনামাতেই এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।

২০২১ সালের হলফনামা ঘিরে প্রশ্ন

জয়রাম রমেশ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে মোদি সরকারের জমা দেওয়া হলফনামার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই হলফনামায় সরকার জাতিগণনার দাবির বিরোধিতা করলেও জাতিগুলোর একটি মানসম্মত তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রমেশের উদ্ধৃত হলফনামার ১২(ডি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ২০১১ সালের জনগণনার আগে কোনো মানসম্মত জাতি-নিবন্ধন প্রস্তুত ছিল না। জাতিগুলোর একটি নির্দিষ্ট তালিকা বা ড্রপডাউন মেনু থাকলে তথ্য সংগ্রহে সামঞ্জস্য তৈরি করা সম্ভব হতো এবং সেই তথ্য ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যেত।

২০২৭ সালের জনগণনায় সেই ব্যবস্থা নেই কেন

কংগ্রেস নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন ২০২১ সালে নিজেই এমন একটি মানসম্মত ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল, তখন ২০২৭ সালের জনগণনায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না কেন।

রমেশের দাবি, বিহার ও তেলেঙ্গানায় পরিচালিত জাতি-সমীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে এ ধরনের মানসম্মত তালিকা বা মেনু প্রস্তুত করা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ২০২৫ সালের ৫ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Congress accuses Modi government of halting caste census plans

‘জাতিগণনা বানচাল করতে চায় সরকার’

এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে জয়রাম রমেশ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি জাতিগণনা বানচালের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি-তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের অবস্থান আগের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। রমেশের দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে দেশে জাতিগণনা করা হবে। কংগ্রেস নেতা এটিকে সরকারের আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিগণনার দাবিকে ‘আরবান নকশাল’-এর সঙ্গে যুক্ত করে আক্রমণ করেছিলেন।

সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

রমেশের মতে, জাতিগণনা নিয়ে সরকারের অবস্থানে আবারও পরিবর্তন এসেছে, যদিও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। তিনি রাজনৈতিক কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘ইউ-টার্ন উস্তাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।

ভারতে জাতিগণনার পদ্ধতি ও পরিধি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই মন্তব্য সামনে এলো। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতিগণনা এবং জাতি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে অধিক স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছে। দলটির যুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংরক্ষণনীতি এবং সরকারি সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিয়ে কার্যকর নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য জাতিগত পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারের অবস্থান, ২০২৭ সালের জনগণনার পদ্ধতি এবং তথ্য সংগ্রহের কাঠামো এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি-তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্ভাবনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল শক্তি, প্রযুক্তিতে নতুন যুগের পথে চীন

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারকে নিশানা, ২০২৭ সালের জনগণনায় ‘কারসাজির’ অভিযোগ কংগ্রেসের

০৫:১৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে প্রস্তাবিত জাতিগণনা নিয়ে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিগণনার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাঁর প্রশ্ন, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি শনাক্তকরণের জন্য ‘ড্রপডাউন মেনু’ রাখা হচ্ছে না কেন, অথচ ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া সরকারি হলফনামাতেই এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।

২০২১ সালের হলফনামা ঘিরে প্রশ্ন

জয়রাম রমেশ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে মোদি সরকারের জমা দেওয়া হলফনামার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই হলফনামায় সরকার জাতিগণনার দাবির বিরোধিতা করলেও জাতিগুলোর একটি মানসম্মত তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রমেশের উদ্ধৃত হলফনামার ১২(ডি) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ২০১১ সালের জনগণনার আগে কোনো মানসম্মত জাতি-নিবন্ধন প্রস্তুত ছিল না। জাতিগুলোর একটি নির্দিষ্ট তালিকা বা ড্রপডাউন মেনু থাকলে তথ্য সংগ্রহে সামঞ্জস্য তৈরি করা সম্ভব হতো এবং সেই তথ্য ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যেত।

২০২৭ সালের জনগণনায় সেই ব্যবস্থা নেই কেন

কংগ্রেস নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন ২০২১ সালে নিজেই এমন একটি মানসম্মত ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল, তখন ২০২৭ সালের জনগণনায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না কেন।

রমেশের দাবি, বিহার ও তেলেঙ্গানায় পরিচালিত জাতি-সমীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে এ ধরনের মানসম্মত তালিকা বা মেনু প্রস্তুত করা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ২০২৫ সালের ৫ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Congress accuses Modi government of halting caste census plans

‘জাতিগণনা বানচাল করতে চায় সরকার’

এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে জয়রাম রমেশ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি জাতিগণনা বানচালের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি-তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের অবস্থান আগের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। রমেশের দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে দেশে জাতিগণনা করা হবে। কংগ্রেস নেতা এটিকে সরকারের আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিগণনার দাবিকে ‘আরবান নকশাল’-এর সঙ্গে যুক্ত করে আক্রমণ করেছিলেন।

সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

রমেশের মতে, জাতিগণনা নিয়ে সরকারের অবস্থানে আবারও পরিবর্তন এসেছে, যদিও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। তিনি রাজনৈতিক কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘ইউ-টার্ন উস্তাদ’ বলেও মন্তব্য করেন।

ভারতে জাতিগণনার পদ্ধতি ও পরিধি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই মন্তব্য সামনে এলো। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতিগণনা এবং জাতি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে অধিক স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছে। দলটির যুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংরক্ষণনীতি এবং সরকারি সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিয়ে কার্যকর নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য জাতিগত পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারের অবস্থান, ২০২৭ সালের জনগণনার পদ্ধতি এবং তথ্য সংগ্রহের কাঠামো এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

জাতিগণনা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি-তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক।