২৪ বছর বয়সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন উদ্যোগের ভাবনা। সেই ভাবনাকে ভিত্তি করে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট বা নিদ্রাজনিত শ্বাসরোধ শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট আংটি তৈরি করেছে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হ্যাপি হেলথ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই উদ্যোগ
হ্যাপি হেলথের চিকিৎসক প্রতিষ্ঠাতা ডাস্টিন ফ্রেকলটনের জীবনে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। সেই অভিজ্ঞতা তাকে স্বাস্থ্যঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্মার্ট আংটির লক্ষ্য হলো ঘুমের সময় মানুষের শারীরিক বিভিন্ন সংকেত পর্যবেক্ষণ করে নিদ্রাজনিত শ্বাসরোধের মতো সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করা। প্রচলিত ঘুম পরীক্ষা যেখানে বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রয়োজন হতে পারে, সেখানে আংটির মাধ্যমে ঘরে বসেই তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
আংটিটি ঘুমের সময় শরীরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুমের মান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত ঘুম পরীক্ষার সরঞ্জামের সঙ্গে নিজেদের স্মার্ট আংটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের কাজও তারা করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ঘুমসংক্রান্ত সমস্যা শনাক্তকরণকে আরও সহজ ও সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।

৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ
হ্যাপি হেলথের নতুন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা এবং বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্মার্ট আংটির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। স্মার্ট ঘড়ি থেকে শুরু করে আংটি—ছোট আকারের এসব যন্ত্র এখন ঘুম, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম ও শরীরের অন্যান্য সংকেত পর্যবেক্ষণের দিকে এগোচ্ছে। হ্যাপি হেলথের উদ্যোগ সেই প্রবণতাকেই আরও চিকিৎসাকেন্দ্রিক করার চেষ্টা করছে।
ঘুমের রোগ শনাক্তে নতুন সম্ভাবনা
নিদ্রাজনিত শ্বাসরোধের সমস্যা অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বুঝতে পারেন না। রাতে ঘন ঘন শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হঠাৎ জেগে ওঠা কিংবা দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যার মতো লক্ষণ থাকলেও অনেকে চিকিৎসকের কাছে যান না।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সহজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি প্রাথমিকভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে স্মার্ট আংটির তথ্য চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার বিকল্প কি না, তা নির্ভর করবে এর নির্ভুলতা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে অনুমোদনের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















