ভ্রমণে বেরিয়ে মাত্র একটি দাঁত মাজার ব্রাশ, একটি যন্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর কাপড়ের একখানা সাদা টি-শার্ট আর কুসুম গরম পানীয়ের একটি প্যাকেট নিয়ে রওনা হওয়ার ধারণা লেখক ম্যাক্স ওলেস্কারের কাছে একেবারেই আকর্ষণীয় নয়। তাঁর মতে, ভ্রমণের প্রস্তুতি কখনোই কত কম ওজন বহন করা যায়—এই হিসাব কষার নিরস ও কষ্টকর আয়োজন হওয়া উচিত নয়। বরং ব্যাগ গোছানোই হতে পারে আসন্ন অভিযানের প্রথম আনন্দ।
সম্প্রতি এডিনবরার শিল্প-উৎসবে যাওয়ার সময় তিনি নিজের এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ করেছেন। বহু বছর জুটি হিসেবে কৌতুক পরিবেশনের পর এবার সেখানে প্রথমবারের মতো একক মঞ্চনাটক নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। ফলে তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসের সংজ্ঞাটিও বেশ বিস্তৃত—সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা।
প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পোশাক
সাজগোজের পোশাক যেমন আছে, তেমনি আছে সাধারণ পোশাক। সঙ্গে নিয়েছেন রাতের পোশাক, গাউন ও চটি। শরীরচর্চার পোশাক, সাঁতারের পোশাক, দিনের পোশাক, রাতের পোশাক—সবই আলাদা। মঞ্চে পরিবেশনের জন্য রয়েছে বিশেষ পোশাকও।
কণ্ঠস্বরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অদ্ভুত জিনিসও বাদ যায়নি। এমনকি চিকিৎসকের পরিচিত একটি কিংবদন্তিতুল্য শ্বাস নেওয়ার যন্ত্রও রয়েছে তাঁর ব্যাগে। সঙ্গে বই—একটি নয়, আরও বই। মুখোশও রেখেছেন। কারণ, তাঁর প্রশ্ন, সঙ্গে রাখতে ক্ষতি কী?
লেখক স্পষ্ট করে বলেন, নিছক ভোগবাদী মানসিকতার প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। তবে পছন্দের সুযোগ থাকার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, সেটিকে তিনি উপভোগ করেন। প্রতিদিন পৃথিবী তাঁর সামনে কী নিয়ে হাজির হবে, তা কেউ জানে না। আর সেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজের লাগেজের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় কিছু বের করে নেওয়ার মধ্যেও তিনি এক ধরনের ক্ষমতা ও আনন্দ খুঁজে পান।

তাঁর স্যুটকেসও যেন এক আলাদা চরিত্র
এই বিলাসী ভ্রমণদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাঁর স্যুটকেসটিও অস্বাভাবিক রকমের বড়। কয়েক বছর আগে একটি নমুনা বিক্রির অনুষ্ঠানে তিনি বিশাল আকৃতির একটি গ্লোব-ট্রটার স্যুটকেস কিনেছিলেন।
একসময় সেটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে দামি ব্যক্তিগত সম্পদ। কিন্তু এত বছর পরও সেই কেনাকাটা নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। বরং স্যুটকেসটির সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক সুবিধা তাঁকে এখনও মুগ্ধ করে। এর গায়ে থাকা প্রতিটি আঁচড় কিংবা ছেঁড়া স্টিকারও তাঁর কাছে ভ্রমণের কোনো না কোনো স্মৃতি বহন করে।
সযত্ন পরিকল্পনা, একাধিক প্যাকিং কিউব এবং প্রায় প্রান্তসীমায় টানটান হয়ে থাকা পোশাক বহনের ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি স্যুটকেসটি একেবারে কানায় কানায় ভরে ফেলেছেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য প্রয়োজন হতে পারে—এমন সবকিছুই তিনি সেখানে ঢুকিয়েছেন।
তারপরও থামেননি
কিন্তু এখানেই তাঁর প্যাকিং শেষ হয়নি।
সবকিছু গুছিয়ে প্রথম স্যুটকেসটি পুরোপুরি ভর্তি করার পর তিনি আরও একটি পূর্ণ স্যুটকেস গোছালেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















