মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের জন্য নির্মাণাধীন বিশাল নতুন বলরুমের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আইন লঙ্ঘন করছে।
প্রকাশ্যে আসা এক আবেদনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের কাছে জরুরি নির্দেশ জারির অনুরোধ করেছেন, যাতে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা যায়। একটি আপিল আদালতের রায়ে বলরুমটির মাটির ওপরের বেশির ভাগ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করলে ওই নির্দেশ আগামী ২১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে আইনি বিরোধ
বলরুম নির্মাণকে ঘিরে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হলো কংগ্রেসের অনুমোদন। নিম্ন আদালতগুলো মনে করেছে, এত বড় সরকারি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনের মাধ্যমে ট্রাম্প এখন নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে চাইছেন। ফলে মামলাটি শুধু একটি ভবন নির্মাণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না; প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের চেহারায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
বলরুম প্রকল্পটি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসকে নতুনভাবে সাজানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্মাণকাজ শেষ হলে এর আয়তন হবে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট। অর্থাৎ ভবনটি হোয়াইট হাউসের মূল আবাসিক অংশ ও পশ্চিম শাখা—দুটিকে একসঙ্গে ধরলেও তার চেয়ে বড় হবে।
প্রকল্পের নিচে একটি নিরাপত্তা বাংকার রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশাল ও অলংকৃত এই স্থাপনা তৈরির জন্য ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসের পূর্ব শাখা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রতীকী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে প্রকল্প
এই আইনি লড়াই এমন এক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর স্থাপত্যিক চেহারা নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে বলরুম নির্মাণের প্রশ্নটি এখন জাতীয় রাজধানীর নান্দনিকতা, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব—তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হবে। আর আদালত হস্তক্ষেপ না করলে আপিল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২১ আগস্ট থেকে বলরুমের অধিকাংশ ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















