০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের এআইয়ের দৌড়ে জৈব অস্ত্রের ভয়: বিপদ আসার আগেই বিশ্বকে কেন প্রস্তুত হতে হবে ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে, পালান্টিরের লাভের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এলন মাস্ক। কিন্তু বাস্তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নয়ন তো আনতেই পারেনি, বরং কর্মী ছাঁটাই ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

৬ আগস্ট মিনেসোটার বিমানপথ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে প্রায় দুই ঘণ্টা রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে নয়টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গমাইল এলাকার আকাশপথে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থায় এমন বিপর্যয় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ঘিরে বিপজ্জনক ঘটনা

এর মাত্র দুই দিন আগে, ৪ আগস্ট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে যাত্রা করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার উড্ডয়নের সময় বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষকে আগেই জানানো হয়।

কিন্তু ওই বার্তা বিমান নিয়ন্ত্রকদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। দুই উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়েও কাছাকাছি চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউস বিষয়টি খারিজ করে জানায়, ট্রাম্প কখনোই সরাসরি বিপদের মধ্যে পড়েননি। তবে ঘটনাটি বিমান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মাস্কের ‘দ্রুত নিরাপত্তা উন্নয়ন’ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তখন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বড় রাজনৈতিক দাতা এলন মাস্ক এবং তাঁর সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের সংস্কারে যুক্ত করেন।

মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাস্কের উদ্যোগ ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনকে বড় কোনো নতুন প্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো কেনা কিংবা বাস্তবায়নে কার্যকর সহায়তা করেনি।

যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক

মাস্ক ভুলভাবে ভেরাইজনকে ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের যোগাযোগব্যবস্থার পরিচালনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে তাঁর মালিকানাধীন স্টারলিংককে সংস্থাটির প্রধান টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।

ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আধুনিকায়নে মাস্কের প্রতিশ্রুত দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবে দৃশ্যমান হয়নি।

বরং তাঁর উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রায় ৪০০ কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁদের মধ্যে ১৮টি পৃথক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদও ছিলেন।

Elon Musk takes major financial risk on Artificial Intelligence investments  - OmidRadio

সংস্কারের বদলে কর্মী ছাঁটাই

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণকর্মী কমিয়ে দেওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সচল রাখতে দক্ষ কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে যখন সরকার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আধুনিক করার কথা বলছিল, অন্যদিকে সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়। এর ফলে সংস্কারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।

পালান্টিরকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

এ পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনাপ্রবাহের আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে—বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অবকাঠামোর দুর্বলতা কি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে?

প্রতিবেদনের শিরোনামেই অভিযোগ তোলা হয়েছে, মাস্কের হস্তক্ষেপ বিমান চলাচলব্যবস্থার সমস্যাকে আরও গভীর করেছে, আর সেই দুর্বলতা পালান্টিরের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ, যে সংস্কারের লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করা, সেটি যদি বিদ্যমান অবকাঠামোকে দুর্বল করে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, তাহলে এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে আরও গভীর প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে সাম্প্রতিক যোগাযোগ ও রাডার বিপর্যয় তাই শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরকারি কর্মী ছাঁটাই, অবকাঠামো আধুনিকায়নের ব্যর্থতা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা—সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

উড়োজাহাজ চলাচল ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করা এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতা, এলন মাস্কের সংস্কার উদ্যোগ এবং পালান্টিরের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুবিধা—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ নিরাপত্তা নিয়ে মাস্কের উদ্যোগের বাস্তব ফল কতটা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা

এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে, পালান্টিরের লাভের সুযোগ

০৭:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এলন মাস্ক। কিন্তু বাস্তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নয়ন তো আনতেই পারেনি, বরং কর্মী ছাঁটাই ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

৬ আগস্ট মিনেসোটার বিমানপথ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে প্রায় দুই ঘণ্টা রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে নয়টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গমাইল এলাকার আকাশপথে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থায় এমন বিপর্যয় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ঘিরে বিপজ্জনক ঘটনা

এর মাত্র দুই দিন আগে, ৪ আগস্ট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে যাত্রা করেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার উড্ডয়নের সময় বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষকে আগেই জানানো হয়।

কিন্তু ওই বার্তা বিমান নিয়ন্ত্রকদের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। দুই উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়েও কাছাকাছি চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউস বিষয়টি খারিজ করে জানায়, ট্রাম্প কখনোই সরাসরি বিপদের মধ্যে পড়েননি। তবে ঘটনাটি বিমান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মাস্কের ‘দ্রুত নিরাপত্তা উন্নয়ন’ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তখন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বড় রাজনৈতিক দাতা এলন মাস্ক এবং তাঁর সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের সংস্কারে যুক্ত করেন।

মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাস্কের উদ্যোগ ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনকে বড় কোনো নতুন প্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো কেনা কিংবা বাস্তবায়নে কার্যকর সহায়তা করেনি।

যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক

মাস্ক ভুলভাবে ভেরাইজনকে ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের যোগাযোগব্যবস্থার পরিচালনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে তাঁর মালিকানাধীন স্টারলিংককে সংস্থাটির প্রধান টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।

ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আধুনিকায়নে মাস্কের প্রতিশ্রুত দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবে দৃশ্যমান হয়নি।

বরং তাঁর উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের প্রায় ৪০০ কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁদের মধ্যে ১৮টি পৃথক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদও ছিলেন।

Elon Musk takes major financial risk on Artificial Intelligence investments  - OmidRadio

সংস্কারের বদলে কর্মী ছাঁটাই

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণকর্মী কমিয়ে দেওয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সচল রাখতে দক্ষ কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে যখন সরকার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আধুনিক করার কথা বলছিল, অন্যদিকে সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়। এর ফলে সংস্কারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে।

পালান্টিরকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

এ পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনাপ্রবাহের আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে—বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অবকাঠামোর দুর্বলতা কি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে?

প্রতিবেদনের শিরোনামেই অভিযোগ তোলা হয়েছে, মাস্কের হস্তক্ষেপ বিমান চলাচলব্যবস্থার সমস্যাকে আরও গভীর করেছে, আর সেই দুর্বলতা পালান্টিরের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ, যে সংস্কারের লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করা, সেটি যদি বিদ্যমান অবকাঠামোকে দুর্বল করে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, তাহলে এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে আরও গভীর প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে সাম্প্রতিক যোগাযোগ ও রাডার বিপর্যয় তাই শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরকারি কর্মী ছাঁটাই, অবকাঠামো আধুনিকায়নের ব্যর্থতা এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা—সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

উড়োজাহাজ চলাচল ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করা এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতা, এলন মাস্কের সংস্কার উদ্যোগ এবং পালান্টিরের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুবিধা—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ নিরাপত্তা নিয়ে মাস্কের উদ্যোগের বাস্তব ফল কতটা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।