মিসরের এল দাবায়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নিরাপত্তা ঘাটতি ও প্রকৌশলগত ত্রুটির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টস অথরিটি (এনপিপিএ)। পলিটিকোর একটি সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের জবাবে সংস্থাটি বলেছে, নির্মাণকাজের বাস্তবতা যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করায় প্রকল্পটি নিয়ে অযথা ঝুঁকির ধারণা তৈরি হয়েছে।
এনপিপিএর দাবি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বাভাবিক প্রকৌশলগত পর্যবেক্ষণ বা ছোটখাটো অসঙ্গতিকে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে আলাদা করে দেখানো বিভ্রান্তিকর। একই সঙ্গে জটিল ভূরাজনৈতিক বিষয়কে পারমাণবিক স্থাপনার নির্দিষ্ট প্রকৌশল মানদণ্ডের সঙ্গে মিশিয়ে দেখানোরও সমালোচনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কঠোর তদারকিতে নির্মাণকাজ
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মিসরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রুশ রাষ্ট্রীয় ঠিকাদারকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। এনপিপিএর ভাষ্য, প্রশ্নগুলো একপেশে হওয়ায় কারিগরি দল তথ্য ও উপাত্তভিত্তিক বিস্তারিত জবাব দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এল দাবায়া প্রকল্পে উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে। মিসরের নিউক্লিয়ার ও রেডিওলজিক্যাল রেগুলেটরি অথরিটি এবং রুশ কারিগরি বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত স্বাধীন পরিদর্শন পরিচালনা করছেন।
ছোটখাটো ত্রুটি মানেই নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়
এনপিপিএ বলছে, বিশাল নির্মাণ প্রকল্পে কিছু কারিগরি অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে এসব বিষয় সংশোধন করা হয় এবং অনুমোদিত প্রকৌশল নকশার সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হয়।
নির্মাণস্থলে ঝুঁকি মূল্যায়ন, কঠোর ওয়ার্ক পারমিট, বাধ্যতামূলক তদারকি এবং অনুমোদনভিত্তিক কাজের ব্যবস্থা রয়েছে। একই ব্যবস্থার আওতায় কর্মীদের স্বাস্থ্য, শিল্প নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোও চালু রয়েছে।

রুশ ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়
প্রধান রুশ ঠিকাদারের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত পর্যবেক্ষণ দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনপিপিএ। স্থাপনার নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, যাতে অনুমোদনহীন প্রবেশ বা অননুমোদিত কর্মকাণ্ড ঠেকানো যায়।
মিসরের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়মিত সহযোগিতা ও তদারকি রয়েছে। এনপিপিএর দাবি, আইএইএ নতুনভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে প্রবেশ করা দেশগুলোর জন্য এল দাবায়া প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচনা করে।
জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকার প্রত্যাশা
এল দাবায়া প্রকল্পকে মিসরের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চালু হলে কেন্দ্রটি শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভিত্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা রাখবে।
পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়লে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ঐতিহাসিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর আন্তর্জাতিক লক্ষ্য পূরণেও সহায়তা মিলবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
দক্ষ জনবল তৈরিতেও ভূমিকা
প্রকল্পটির নির্মাণকাজে মিসরের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের জন্য হাজারো বিশেষায়িত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব কর্মী ভবিষ্যতে কেন্দ্রটির নিরাপদ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছেন।
এনপিপিএ জানিয়েছে, এই জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর মিসরের প্রকৌশল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার ভিত্তি তৈরি করবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় পারমাণবিক শক্তি
এল দাবায়া প্রকল্পকে মিসরের পরিবেশগত লক্ষ্য পূরণের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে স্থানীয় বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মিসরের কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত যাচাই করা তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো নিয়ে জনআস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও প্রকল্পটির অগ্রগতি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় তারা।
মিসর সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও এল দাবায়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে।
মিসরের এল দাবায়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে নিরাপত্তা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এনপিপিএ। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি কঠোর আন্তর্জাতিক মান ও নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















