০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের এআইয়ের দৌড়ে জৈব অস্ত্রের ভয়: বিপদ আসার আগেই বিশ্বকে কেন প্রস্তুত হতে হবে ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিভাষায় ইংরেজি বাদ দিতে চায় চীন, লক্ষ্য প্রযুক্তিতে ‘ভাষার ক্ষমতা’ বাড়ানো

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৪১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 22

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কথা বলার সময় প্রচলিত ইংরেজি শব্দ ব্যবহার বন্ধ করে সেগুলোর বদলে মানসম্মত চীনা পরিভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির প্রযুক্তি খাতে নিজেদের ভাষার প্রভাব বাড়ানো এবং বিশ্ব প্রযুক্তি আলোচনায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ইংরেজি পরিভাষা নিয়ে আপত্তি কেন

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি-সংক্রান্ত নানা ইংরেজি শব্দও সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে ‘এজেন্ট’ এবং ‘এলএলএম’-এর মতো শব্দও রয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলিতে প্রকাশিত এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, বিদেশি পরিভাষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘চিন্তাগত নির্ভরশীলতা’ তৈরি করতে পারে। এর ফলে প্রযুক্তি সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা ও ভাষা গড়ে তোলার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ভাষার নিয়ন্ত্রণ

চীনের এই উদ্যোগ শুধু ভাষা সহজ করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও জড়িত।

চীনা কর্তৃপক্ষ ‘বক্তব্যের ক্ষমতা’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তির ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, কোন পরিভাষা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হবে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার ভাষা কে নির্ধারণ করবে—এসব ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায় বেইজিং।

‘টোকেন’-এরও চীনা পরিভাষা নির্ধারণ

এই উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ‘টোকেন’ শব্দের জন্য একটি মানসম্মত চীনা পরিভাষা নির্ধারণের কথা সামনে এসেছে। দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর জন্য নিজস্ব চীনা পরিভাষা তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের যুক্তি হলো, বিদেশি শব্দের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ভাষায় প্রযুক্তির ধারণাগুলো প্রকাশ করা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়গুলো আরও বোধগম্য হবে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে নিজস্ব চিন্তাধারা গড়ে তোলাও সহজ হবে।

প্রযুক্তি যুদ্ধে নতুন মাত্রা

চীন দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগব্যবস্থা ও রোবট প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এখন সেই প্রতিযোগিতায় ভাষাকেও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রযুক্তি তৈরি করার পাশাপাশি সেই প্রযুক্তির নাম, ধারণা ও ব্যাখ্যার ভাষা নিয়েও নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে চীন। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তি বা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভাষা ও ধারণা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিভাষায় ইংরেজি বাদ দিতে চায় চীন, লক্ষ্য প্রযুক্তিতে ‘ভাষার ক্ষমতা’ বাড়ানো

০৬:৪১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কথা বলার সময় প্রচলিত ইংরেজি শব্দ ব্যবহার বন্ধ করে সেগুলোর বদলে মানসম্মত চীনা পরিভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির প্রযুক্তি খাতে নিজেদের ভাষার প্রভাব বাড়ানো এবং বিশ্ব প্রযুক্তি আলোচনায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

ইংরেজি পরিভাষা নিয়ে আপত্তি কেন

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি-সংক্রান্ত নানা ইংরেজি শব্দও সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে ‘এজেন্ট’ এবং ‘এলএলএম’-এর মতো শব্দও রয়েছে।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলিতে প্রকাশিত এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, বিদেশি পরিভাষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘চিন্তাগত নির্ভরশীলতা’ তৈরি করতে পারে। এর ফলে প্রযুক্তি সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা ও ভাষা গড়ে তোলার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি ভাষার নিয়ন্ত্রণ

চীনের এই উদ্যোগ শুধু ভাষা সহজ করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও জড়িত।

চীনা কর্তৃপক্ষ ‘বক্তব্যের ক্ষমতা’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তির ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, কোন পরিভাষা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হবে এবং প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার ভাষা কে নির্ধারণ করবে—এসব ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চায় বেইজিং।

‘টোকেন’-এরও চীনা পরিভাষা নির্ধারণ

এই উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ‘টোকেন’ শব্দের জন্য একটি মানসম্মত চীনা পরিভাষা নির্ধারণের কথা সামনে এসেছে। দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর জন্য নিজস্ব চীনা পরিভাষা তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের যুক্তি হলো, বিদেশি শব্দের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ভাষায় প্রযুক্তির ধারণাগুলো প্রকাশ করা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়গুলো আরও বোধগম্য হবে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে নিজস্ব চিন্তাধারা গড়ে তোলাও সহজ হবে।

প্রযুক্তি যুদ্ধে নতুন মাত্রা

চীন দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগব্যবস্থা ও রোবট প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এখন সেই প্রতিযোগিতায় ভাষাকেও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রযুক্তি তৈরি করার পাশাপাশি সেই প্রযুক্তির নাম, ধারণা ও ব্যাখ্যার ভাষা নিয়েও নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে চীন। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিযোগিতা শুধু প্রযুক্তি বা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভাষা ও ধারণা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে।