ভারতের সরকারি স্কুলের মান ও অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রী, কর্মকর্তা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকরা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি করালে এসব প্রতিষ্ঠানের চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।
মঙ্গলবার এক পোস্টে দিপকে বলেন, শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত সবাই যদি নিজেদের সন্তানকে সরকারি স্কুলে পড়ান, তাহলে স্কুলগুলোর অবস্থা কত দ্রুত উন্নত হয়, সেটি দেখা যাবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি কর্মকর্তারা কেন নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করান—তারা কি নিজেদের কাজের ওপরই আস্থা রাখেন না?
সরকারি স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরতে অভিযান
সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা সামনে আনতে বর্তমানে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন দিপকে। এর অংশ হিসেবে গত ১৫ আগস্ট মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার নিজ গ্রাম সানতুক পিম্পরির একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে তিনি তথাকথিত স্কুল অডিট পরিচালনা করেন।
পরিদর্শনের পর তিনি স্কুলটিতে পানির সরবরাহের সমস্যা, নিরাপদ পানীয় জলের সংকট, পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাব, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং ভাঙা জানালার মতো নানা সমস্যা তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে তিনি ভাঙা জানালা এবং আটকে থাকা শৌচাগারের চিত্রও দেখান।

দিপকের অভিযোগ, ওই স্কুলের ভাঙা জানালাগুলো মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সরকারি স্কুলের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে জনমত গড়ে তুলতেই তিনি এসব বিষয় সামনে আনছেন বলে তাঁর কর্মকাণ্ড থেকে জানা যায়।
সারা দেশে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা
দিপকে জানিয়েছেন, সরকারি স্কুলগুলোর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যাচাই করতে একটি চেকলিস্টভিত্তিক ফরম ব্যবহার করা হবে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার সরকারি স্কুল থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে এসব তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করা হবে।
এর আগে গত মাসে দিল্লিতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলন শেষ করেন দিপকে। এরপর তাঁর দল নিজেদের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে সক্রিয় রাখার কথা জানায়। বর্তমানে সরকারি স্কুলের অবস্থা ও শিক্ষা খাতের সংস্কারকে সামনে রেখে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক
শিক্ষা ও পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দিপকে। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রয়োজন হলে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার প্রমাণ হিসেবে নিজের ডিগ্রি ও সংশ্লিষ্ট নথি দেখাতে প্রস্তুত তিনি।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী দিপকে মে মাসে ভারতে ফেরেন। এরপর ককরোচ জনতা পার্টির ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিগ্রিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। আলাদা এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁকে নিয়ে একটি নিবন্ধও প্রকাশ করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















