জুনের শুরুটা তুলনামূলকভাবে শীতল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউ ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে মিড-অ্যাটলান্টিক অঞ্চল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ সপ্তাহান্তজুড়ে বিস্তৃত হবে, যার প্রভাবে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ উচ্চ তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে পারেন।
সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বোস্টনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং নিউইয়র্কে ৭১ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে দ্রুত।
তাপমাত্রার দ্রুত উত্থান
বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে ৯০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাবে। শুক্রবার ও শনিবার পরিস্থিতি আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ৯০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিসির আশপাশ এবং এর দক্ষিণের কিছু এলাকায় টানা অন্তত তিন দিন ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কোথায় ভাঙতে পারে রেকর্ড
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি শহরে দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড স্পর্শ বা ভেঙে যেতে পারে।
ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শুক্রবার ৯২ ডিগ্রি এবং শনিবার ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে। বাল্টিমোরে শুক্রবার ৯৩ ডিগ্রি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পকিপসিতে শুক্রবার ও শনিবার ৯৩ ডিগ্রি এবং নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনিবার ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা হতে পারে।
দেশজুড়ে বিস্তৃত তাপপ্রবাহ
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের তাপমাত্রার মধ্যে থাকবেন। এছাড়া আরও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে পারেন।
সপ্তাহান্তে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া সাময়িক স্বস্তি আনতে পারে। শনিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং রবিবার মিড-অ্যাটলান্টিক অঞ্চলে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
মাসের মাঝামাঝি আরও তীব্র গরমের ইঙ্গিত
জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত আরও শক্তিশালী তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করছেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রাকে অস্বাভাবিকভাবে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে।
বিশেষ করে ইন্টারমাউন্টেন ওয়েস্ট এবং প্লেইন্স অঞ্চলে চলতি সপ্তাহান্তেই তীব্র গরমের প্রভাব দেখা যেতে পারে। খরা পরিস্থিতি এবং মে মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন তুষারস্তর এই গরমকে আরও প্রকট করতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
জলবায়ুর বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়নের ধারাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সমাপ্ত মে মাস ছিল বৈশ্বিক রেকর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় উষ্ণতম মে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা চলতি বছরকে রেকর্ড উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা ২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতি আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাবে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















