কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে পাকিস্তানে পুনরায় গ্যাসীকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরএলএনজি) দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশটির তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা জুলাই ২০২৬-এর জন্য আরএলএনজির দাম সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে পাকিস্তানের সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতে গ্যাস ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হওয়ায় এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।
জুলাইয়ে এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় সংকট তীব্র
পাকিস্তান জুলাই মাসে মাত্র পাঁচটি এলএনজি চালান পেয়েছে, যা দেশটির এলএনজি আমদানির ইতিহাসে অন্যতম কম মাসিক সরবরাহ। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটিকে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলে সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহকদের জন্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের দাম ৬ দশমিক ৪৫১২ ডলার বেড়ে ২৫ দশমিক ০৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের গ্রাহকদের জন্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের দাম বেড়ে ২৫ দশমিক ৮৩৮৮ ডলার হয়েছে। এখানে বৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩১৬ ডলার বা ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর ১৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে দাম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানে আরএলএনজির দাম ১৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জুলাই মাসের জন্য পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড আন্তর্জাতিক খোলা বাজার থেকে পাঁচটি চালান কিনেছে, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান স্টেট অয়েল দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে গ্যাস আমদানি করে থাকে। তবে জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি কোনো চালান আনতে পারেনি। ফলে সরবরাহ ঘাটতি আরও বেড়েছে।

কাতারের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ কঠিন
গত ২ মার্চ কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর কাতারএনার্জি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ স্থগিত করে। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে।
পাকিস্তানের জন্য এখনো কম দামের কাতারি গ্যাস সরবরাহে ফেরার কোনো নিশ্চিত পথ তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশটিকে আরও ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
এর ফলে আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















