গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় যুদ্ধের ক্ষত বহন করা একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। বুধবার ভোরে ছয়তলা ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ধসে পড়া আল-সাআদা ভবনটির ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ভবন ধসের ঘটনায় প্রায় ১০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভবনটিতে প্রতি তলায় চারটি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভবনটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। এরপর থেকে ভবনটি যুদ্ধের কারণে কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।

গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারকে ওই ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার মতো বিকল্প জায়গার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির মধ্যেই এসব পরিবার সেখানে অবস্থান করছিল।
গাজার গণমাধ্যম কার্যালয় আরও বলেছে, পুরো গাজা উপত্যকায় হাজার হাজার ভবন যুদ্ধের কারণে কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলোতেই বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। ফলে ভবন ধসে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, গাজা সিটিতে মধ্যরাতের পর থেকে একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবাসিক ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ার পর আশপাশের মানুষ শিশুদের কান্না ও আটকা পড়া মানুষের চিৎকার শুনতে পান।

মাহমুদ বাসাল গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় আরও ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছেন। বর্তমানে যেসব ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন, সেসব এলাকায় এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে গাজার বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে মানুষের আশ্রয় নেওয়া এবং সেগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকি নতুন করে মানবিক উদ্বেগ তৈরি করছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন রয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত কত দাঁড়াবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি এখনও বিকাশমান।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 















