পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধ ও বেলুচিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। এর ফলে বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং কয়েকটি এলাকায় নিম্নমাত্রার বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও নগর জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থানের ওপর অবস্থান করা একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এবং শক্তিশালী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শতদ্রু, রাভি ও বিয়াসসহ পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চেনাব নদীতে পানি বাড়ার আশঙ্কা
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চেনাব নদীর হেড মারালা, খানকি ও কাদিরাবাদ এলাকায় পানির স্তর নিম্ন থেকে মধ্যম মাত্রার বন্যা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পানি এলে হেড মারালায় উচ্চমাত্রার বন্যার পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে ডেরা গাজী খান অঞ্চলের পাহাড়ি খাল, খাইবার পাখতুনখোয়া ও উত্তর বেলুচিস্তান থেকে নেমে আসা ছড়াগুলোতে আকস্মিক ঢলের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বড় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাঞ্জাবের বহু শহরে নগর বন্যা বা জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে রাওয়ালপিন্ডি, জেলাম, গুজরানওয়ালা, সারগোধা, মান্ডি বাহাউদ্দিন, সিয়ালকোট, গুজরাত, নারোয়াল, লাহোর, ওকারা, সাহিওয়াল ও ফয়সালাবাদ।
এ ছাড়া জেলাম, চেনাব ও রাভি নদীর বিভিন্ন উপনদী ও নালায়ও পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ।
কয়েকটি নদীতে ইতোমধ্যে নিম্নমাত্রার বন্যা
বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সিন্ধু নদে কালাবাগ, চাশমা, গুড্ডু ও সুক্কুর এলাকায় ইতোমধ্যেই নিম্নমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে রাভি, চেনাব, জেলাম ও শতদ্রু নদীর পানি এখনো নিম্ন বন্যা সীমার নিচে রয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাব, সিন্ধ ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে ইসলামাবাদ, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং প্রধান নদীগুলোর উজান এলাকায়ও বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত
গত ২৪ ঘণ্টায় পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রাওয়ালপিন্ডিতে সর্বোচ্চ ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া মুরিতে ৮৫ মিলিমিটার, জৌহরাবাদে ৫৬ মিলিমিটার, মুলতানে ৩৭ মিলিমিটার, ভাক্কারে ৩১ মিলিমিটার এবং আরও কয়েকটি জেলায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সতর্ক থাকার আহ্বান
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদী, বাঁধ ও ব্যারাজগুলোর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের বৃষ্টির পানির নালা, নিচু এলাকা, নদী ও খালের কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















