যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরে একটি জনপ্রিয় বার্গার রেস্তোরাঁর কাছে বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক জরুরি সেবাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দ
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে টুইন ফলসের একটি জনাকীর্ণ কেনাকাটার এলাকায় অবস্থিত একটি বার্গার রেস্তোরাঁর কাছ থেকে সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর আসে। সপ্তাহান্ত হওয়ায় এলাকায় তখন ক্রেতা ও পথচারীদের ভিড় ছিল। হঠাৎ গুলির শব্দে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করলে পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়।
)
নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও
টুইন ফলস পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ হিকস জানান, নিহত তিনজনের মধ্যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও রয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
আহতদের চিকিৎসা চলছে
হামলায় আহত অন্তত সাতজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের কারও কারও অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
চিকিৎসকরা আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের হুমকি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হামলার পেছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
আইডাহোর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর এই বন্দুক হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















