রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং অন্তত ২১ জন আহত হওয়ার পর এর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। এ অবস্থায় সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা স্ট্যানিস্লাভ ক্রাপিভনিক দাবি করেছেন, হামলার নেপথ্যে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের ইউক্রেনীয় সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রুশ কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা বিদেশি রাষ্ট্রকে এই হামলার জন্য দায়ী করেনি। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীও হামলার দায় স্বীকার করেনি। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
প্রবেশমুখেই বিস্ফোরণ
রুশ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত রেস্তোরাঁয় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী একটি বিস্ফোরক বহনের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী তাকে প্রবেশে বাধা দিলে প্রবেশপথেই বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণে ওই নারী ও নিরাপত্তারক্ষী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২১ জন।

‘আমরা জানি কারা এর পেছনে’
ঘটনার পর রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্যানিস্লাভ ক্রাপিভনিক বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার না করলেও তার বিশ্বাস হামলার নেপথ্যের শক্তি স্পষ্ট।
তার ভাষায়, “কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা জানি এর পেছনে কারা রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ব ইউরোপীয় লোককথায় তিন-মাথাওয়ালা ড্রাগনের যে উপমা রয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় সেই ‘তিন মাথা’ হলো মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা।
ইউক্রেনকে ঘিরে অভিযোগ
ক্রাপিভনিকের অভিযোগ, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং তাদের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
তার দাবি, অতীতেও ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ভেতরে ও বাইরে হত্যাকাণ্ড এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরক বহনের জন্য অনেক সময় অজ্ঞাতসারে বা প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইও করা যায়নি।

বিস্ফোরকের শক্তি নিয়ে অনুমান
রুশ কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্ফোরকে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে বা এর ক্ষমতা কত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
তবে ঘটনাস্থলের ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরণের তীব্রতা দেখে ক্রাপিভনিকের অনুমান, এতে প্রায় এক কেজি সামরিক মানের বিস্ফোরক এবং ধাতব বল বা অনুরূপ ধাতব টুকরা থাকতে পারে, যাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।
তিনি ঘটনাস্থলের কিছু ছবি উল্লেখ করে বলেন, বিস্ফোরণের শক্তি ছিল অত্যন্ত বেশি। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তারক্ষীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তার মতে, প্রবেশপথে সন্দেহভাজন নারীকে আটকে দেওয়ায় রেস্তোরাঁর ভেতরে আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তদন্ত চলছে, এখনো নিশ্চিত নয় কারা জড়িত
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাটির ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ওই নারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরক বহন করছিলেন, নাকি অন্য কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলেন—সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
এ ছাড়া ইউক্রেন বা কোনো পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও রুশ কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন তথ্যও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মস্কোর এই বিস্ফোরণকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















