পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় পৃথক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে এক সেনা মেজর নিহত এবং মোট ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানের রাজমাক এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, অভিযানে পাঁচজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়।
আইএসপিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তীব্র গোলাগুলিতে সেনা কর্মকর্তা মেজর হাফিজ ইহসান ইলাহী নিহত হন। তাঁর বয়স ছিল ৩৪ বছর এবং তিনি মিয়ানওয়ালি জেলার বাসিন্দা ছিলেন। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, তিনি সম্মুখসারিতে থেকে অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নুশকিতে পৃথক অভিযান
একই দিনে আইএসপিআর জানায়, বেলুচিস্তানের নুশকি জেলায় আরেকটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে সাতজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীও ছিল বলে দাবি করা হয়।
সেনাবাহিনীর মতে, অভিযানে একটি আস্তানা শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। সেখানে থাকা বিস্ফোরক ও তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জামও ধ্বংস করা হয়েছে।
নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দেশজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সহিংসতার প্রবণতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।
একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সহিংসতাজনিত প্রাণহানির প্রায় ৯৬ শতাংশই এই দুই প্রদেশে ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া, এরপর বেলুচিস্তান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















