০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে নিজের পানির বোতল নিষিদ্ধ, পানির জন্য অর্থ গুনতে হবে দর্শকদের এভারেস্টে ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন শেরপা গাইড, বিস্ময়ে পর্বতারোহণ বিশ্ব স্বামীর দীর্ঘ থেরাপি ‘অকার্যকর’ মনে হলেও কেন ভিন্নভাবে ভাবতে বললেন মনোচিকিৎসক? আর্মেনিয়ার নির্বাচন ঘিরে বৈশ্বিক নজর: ট্রাম্প-সমর্থিত বাণিজ্য করিডোরে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির আগমন: যা বদলাচ্ছে, আর যা বদলাচ্ছে না মিয়ানমারের সংকটে ভারতের বাস্তববাদ: মিন অং হ্লাইংয়ের সফরের আড়ালে যে হিসাব রুপিয়ার ঐতিহাসিক পতন, ডলারের বিপরীতে ১৮ হাজারে নেমে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাপপ্রবাহের বিস্তার, ১৫ কোটি মানুষের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা বিচারক পদ হারালেন ‘অশোভন আচরণে’ অভিযুক্ত বিচারক, কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি চীন সফরে নিষেধাজ্ঞা: তাইওয়ান সফরের জেরে চার নিউজিল্যান্ড এমপিকে কালোতালিকাভুক্ত করল বেইজিং

যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির আগমন: যা বদলাচ্ছে, আর যা বদলাচ্ছে না

গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বহু প্রচলিত আধুনিকীকরণ কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছে বা পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের পর পুনর্গঠন ও সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে সেনাবাহিনীকে আরও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে।

তবু সেনাবাহিনীর ভূমিকা আজও অপরিহার্য। বৃহত্তর যৌথ সামরিক বাহিনীর জন্য অধিকাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি বিতরণ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনী যাতে আকাশসীমা ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে সেনাবাহিনীর গুরুত্ব নতুনভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে স্থলভিত্তিক ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং অত্যন্ত কার্যকর ফল দেখায়। শত শত মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তু, যেমন শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কমান্ড কেন্দ্র, সফলভাবে আঘাত করে সেনাবাহিনী এমন এক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে, যা আগে মূলত বিমানবাহী রণতরীভিত্তিক বিমান বা নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

গত এক দশকের বাজেট সংকোচনের কারণে সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে উদ্ভাবন করতে হয়েছে। অস্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক মহড়ায় তারা এমন সব মানববিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা সামনের সারির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সৈন্যদের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তথাকথিত ‘কামিকাজে ড্রোন’ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনাবাহিনী এখন ছোট ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত ঘুরে বেড়ানো হামলাকারী গোলাবারুদ ও নজরদারি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এ বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত ‘লাইটনিং সার্জ’ ও ‘আইভি স্টিং’ মহড়ায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের দল ব্যবহার করে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করেছে এবং নির্ভুল আঘাত হেনেছে। ‘ট্রান্সফর্মিং ইন কনট্যাক্ট’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষিত এই প্রযুক্তি নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে।

তবে শুধু ড্রোন বা নতুন প্রযুক্তি যুদ্ধ জেতার জন্য যথেষ্ট নয়। সেনাবাহিনীর বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থা, দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার সক্ষমতা এবং বিচ্ছিন্ন বাহিনীকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার কমান্ড কাঠামো ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বড় আকারের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে পারবে না, জয়লাভ তো দূরের কথা।

ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো বড় আকারের মোতায়েন কমে এলেও সেনাবাহিনী নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তারা দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অতিরিক্ত মিশন পরিচালনা করছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছে এবং সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ সহায়তাও দিয়েছে। এসব কাজ চলমান রয়েছে, একই সময়ে সেনাবাহিনী নতুন প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অস্ত্র ও বাহিনী কাঠামো পুনর্গঠন করছে।

Technology as the new battlefield | Daily Pioneer

তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় বাধা। বাইডেন প্রশাসনের সময় বাস্তব মূল্যমান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর মূল বাজেট প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায় এবং একাধিক বছর নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর কিছু অতিরিক্ত অর্থায়ন এলেও অস্ত্র ক্রয় ও আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় সেনাবাহিনী এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

তারপরও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব—সচিব ড্যান ড্রিসকোল ও উপসচিব মাইক ওবাডালের নেতৃত্বে—উপলব্ধ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাহিনীর কার্যক্রম ও প্রধান অস্ত্রব্যবস্থাগুলো পুনর্গঠন করছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া আধুনিকীকরণ অগ্রাধিকারগুলোর অনেকগুলো এখন কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

টমাহক ও এসএম সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলভিত্তিক সংস্করণ সেনা কমান্ডারদের এমন হামলার বিকল্প দেবে, যা আকাশ বা সমুদ্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াগুলোর মধ্যে ফিলিপাইনে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনই চীনা সরকারের সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো এ বছরের শুরুতে উন্মোচিত এম-১ই৩ অ্যাব্রামস ট্যাঙ্কের নতুন প্রোটোটাইপ। বাইরে থেকে এটি প্রচলিত প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের মতোই দেখায়, চলে এবং গুলি ছোড়ে। কিন্তু এর ভেতরের পুরো কাঠামো ডিজিটাল। উন্মুক্ত স্থাপত্যভিত্তিক এই নকশা দ্রুত নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যুক্ত করার সুযোগ দেবে, যাতে পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও শত্রুপক্ষের অস্ত্রের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়। মানববিহীন টারেট ও হাইব্রিড ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণে এটি পুরোনো অ্যাব্রামস ট্যাঙ্কের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হালকা হবে।

সেনাবাহিনী যখন নতুন যুদ্ধব্যবস্থা তৈরি করছে, তখন পুরো ব্যবস্থাটিকে একত্রে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেই ‘নেক্সট জেনারেশন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বা এনজিসি২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাণিজ্যিক সফটওয়্যার খাতের সহযোগিতায় তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তথ্যব্যবস্থা ডিভিশন কমান্ডারকে একটি একক পর্দায় পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র দেখার সুযোগ দেয়। এতে ড্রোনের তথ্য, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সরবরাহ পরিস্থিতি ও অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তব সময়ে একত্রিত হয়।

প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের চরিত্র বদলাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধের মৌলিক প্রকৃতি বদলায়নি। সীমান্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ, জনসংখ্যা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত গোলাবর্ষণ, কৌশলগত অগ্রগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও এখনও বিজয়ের কেন্দ্রে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর চলমান উদ্যোগগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর ও কংগ্রেসকে সেনাবাহিনীতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বাজেট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা রাজনৈতিক বাধা মোকাবিলায় তাদের নেতৃত্বকে সমর্থন করতে হবে।

কারণ ইতিহাসের শিক্ষা খুবই স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র বারবার ঘোষণা করেছে যে আর কখনও বড় আকারের স্থলযুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে, পরবর্তী সংঘাতের সময় দেশটি সেই ধরনের যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে নিজের পানির বোতল নিষিদ্ধ, পানির জন্য অর্থ গুনতে হবে দর্শকদের

যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির আগমন: যা বদলাচ্ছে, আর যা বদলাচ্ছে না

০৯:০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বহু প্রচলিত আধুনিকীকরণ কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছে বা পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের পর পুনর্গঠন ও সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে সেনাবাহিনীকে আরও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে।

তবু সেনাবাহিনীর ভূমিকা আজও অপরিহার্য। বৃহত্তর যৌথ সামরিক বাহিনীর জন্য অধিকাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি বিতরণ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনী যাতে আকাশসীমা ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে সেনাবাহিনীর গুরুত্ব নতুনভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে স্থলভিত্তিক ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং অত্যন্ত কার্যকর ফল দেখায়। শত শত মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তু, যেমন শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কমান্ড কেন্দ্র, সফলভাবে আঘাত করে সেনাবাহিনী এমন এক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে, যা আগে মূলত বিমানবাহী রণতরীভিত্তিক বিমান বা নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

গত এক দশকের বাজেট সংকোচনের কারণে সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে উদ্ভাবন করতে হয়েছে। অস্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক মহড়ায় তারা এমন সব মানববিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা সামনের সারির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সৈন্যদের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তথাকথিত ‘কামিকাজে ড্রোন’ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনাবাহিনী এখন ছোট ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত ঘুরে বেড়ানো হামলাকারী গোলাবারুদ ও নজরদারি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এ বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত ‘লাইটনিং সার্জ’ ও ‘আইভি স্টিং’ মহড়ায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের দল ব্যবহার করে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করেছে এবং নির্ভুল আঘাত হেনেছে। ‘ট্রান্সফর্মিং ইন কনট্যাক্ট’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষিত এই প্রযুক্তি নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে।

তবে শুধু ড্রোন বা নতুন প্রযুক্তি যুদ্ধ জেতার জন্য যথেষ্ট নয়। সেনাবাহিনীর বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থা, দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার সক্ষমতা এবং বিচ্ছিন্ন বাহিনীকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার কমান্ড কাঠামো ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বড় আকারের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে পারবে না, জয়লাভ তো দূরের কথা।

ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো বড় আকারের মোতায়েন কমে এলেও সেনাবাহিনী নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তারা দেশের দক্ষিণ সীমান্তে অতিরিক্ত মিশন পরিচালনা করছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছে এবং সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ সহায়তাও দিয়েছে। এসব কাজ চলমান রয়েছে, একই সময়ে সেনাবাহিনী নতুন প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অস্ত্র ও বাহিনী কাঠামো পুনর্গঠন করছে।

Technology as the new battlefield | Daily Pioneer

তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় বাধা। বাইডেন প্রশাসনের সময় বাস্তব মূল্যমান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর মূল বাজেট প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায় এবং একাধিক বছর নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর কিছু অতিরিক্ত অর্থায়ন এলেও অস্ত্র ক্রয় ও আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় সেনাবাহিনী এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

তারপরও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব—সচিব ড্যান ড্রিসকোল ও উপসচিব মাইক ওবাডালের নেতৃত্বে—উপলব্ধ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাহিনীর কার্যক্রম ও প্রধান অস্ত্রব্যবস্থাগুলো পুনর্গঠন করছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া আধুনিকীকরণ অগ্রাধিকারগুলোর অনেকগুলো এখন কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

টমাহক ও এসএম সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলভিত্তিক সংস্করণ সেনা কমান্ডারদের এমন হামলার বিকল্প দেবে, যা আকাশ বা সমুদ্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াগুলোর মধ্যে ফিলিপাইনে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনই চীনা সরকারের সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো এ বছরের শুরুতে উন্মোচিত এম-১ই৩ অ্যাব্রামস ট্যাঙ্কের নতুন প্রোটোটাইপ। বাইরে থেকে এটি প্রচলিত প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কের মতোই দেখায়, চলে এবং গুলি ছোড়ে। কিন্তু এর ভেতরের পুরো কাঠামো ডিজিটাল। উন্মুক্ত স্থাপত্যভিত্তিক এই নকশা দ্রুত নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যুক্ত করার সুযোগ দেবে, যাতে পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও শত্রুপক্ষের অস্ত্রের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়। মানববিহীন টারেট ও হাইব্রিড ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণে এটি পুরোনো অ্যাব্রামস ট্যাঙ্কের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হালকা হবে।

সেনাবাহিনী যখন নতুন যুদ্ধব্যবস্থা তৈরি করছে, তখন পুরো ব্যবস্থাটিকে একত্রে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেই ‘নেক্সট জেনারেশন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বা এনজিসি২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাণিজ্যিক সফটওয়্যার খাতের সহযোগিতায় তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তথ্যব্যবস্থা ডিভিশন কমান্ডারকে একটি একক পর্দায় পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র দেখার সুযোগ দেয়। এতে ড্রোনের তথ্য, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সরবরাহ পরিস্থিতি ও অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তব সময়ে একত্রিত হয়।

প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের চরিত্র বদলাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধের মৌলিক প্রকৃতি বদলায়নি। সীমান্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ, জনসংখ্যা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত গোলাবর্ষণ, কৌশলগত অগ্রগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও এখনও বিজয়ের কেন্দ্রে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর চলমান উদ্যোগগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর ও কংগ্রেসকে সেনাবাহিনীতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বাজেট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা রাজনৈতিক বাধা মোকাবিলায় তাদের নেতৃত্বকে সমর্থন করতে হবে।

কারণ ইতিহাসের শিক্ষা খুবই স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র বারবার ঘোষণা করেছে যে আর কখনও বড় আকারের স্থলযুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে, পরবর্তী সংঘাতের সময় দেশটি সেই ধরনের যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না।