অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপি সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে এই খাতকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে, কারণ বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠান ও তদন্তকারীরা বিল জালিয়াতি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং ভুয়া সেবার অভিযোগ সামনে আনছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম থেরাপি এখন বহু বিলিয়ন ডলারের একটি শিল্পে পরিণত হলেও এর সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
চাহিদার সুযোগে বাড়ছে অনিয়ম
অটিজম শনাক্তের হার বৃদ্ধি, নতুন সেবা প্রদানকারীর আগমন এবং বীমা কভারেজ সম্প্রসারণের কারণে এই খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান এমন সেবার জন্য বিল করছে যা বাস্তবে দেওয়া হয়নি, কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে কিংবা স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে সেবা দিয়ে অস্বাভাবিক অর্থ দাবি করছে।
বীমা কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্দেহজনক বিলিংয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তদন্তে একই সময়ে একাধিক সেবার বিল, অসম্পূর্ণ নথিপত্র এবং অস্তিত্বহীন ঠিকানায় সেবা প্রদানের দাবি পাওয়া গেছে।
এক মায়ের জন্য ৯ লাখ ডলারের বেশি বিল
নিউ জার্সির বাসিন্দা ক্যারোলিনা লোপেজ তার অটিজম আক্রান্ত ছেলের জন্য দ্রুত থেরাপি সেবা পেতে একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেন। কয়েক মাস ধরে বাড়িতে থেরাপি দেওয়ার পর হঠাৎ করে তার কাছে আসে ৯ লাখ ১১ হাজার ডলারেরও বেশি বিল।
তার দাবি, শুরুতে তাকে জানানো হয়েছিল যে অতিরিক্ত কোনো খরচ বহন করতে হবে না। পরে বীমা কোম্পানি অর্থ প্রদান বন্ধ করলে পুরো বিল তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অল্প সময়ের থেরাপির জন্যও প্রতিদিন কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত বিল করা হয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়।

ব্যয় বাড়ছে, চাপ পড়ছে সবার ওপর
বিশ্লেষকদের মতে, অটিজম থেরাপি এখন অনেক নিয়োগকর্তা-সমর্থিত স্বাস্থ্যবীমা পরিকল্পনার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ব্যয় খাত। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই সেবায় ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ছে, কারণ বাড়তি চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়ামও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে অটিজম থেরাপির ব্যয় নিয়মিত চিকিৎসা বা ক্যানসার চিকিৎসার ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
জটিল কোম্পানি নেটওয়ার্কের অভিযোগ
তদন্তে দেখা গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে একাধিক কোম্পানি পরিচালনা করে বিল জমা দিচ্ছে। বীমা কোম্পানিগুলোর অভিযোগ, এই পদ্ধতির কারণে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠান বিল নিয়ে প্রশ্ন তুললে রোগীদের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরে পরিবারগুলোর কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে।
অনেক পরিবার জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ আইনি ও আর্থিক জটিলতার মধ্যে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগী ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগও উঠেছে।
নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য আচরণভিত্তিক থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক পরিবারের জন্য এটি অপরিহার্য সেবা। তবে খাতটির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত না হলে অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সন্দেহজনক বিলিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত বাড়াচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানকারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















