০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ সেউতা সংকট: অভিবাসনের ঢেউ, রাজনৈতিক লাভ আর অদৃশ্য শক্তির প্রশ্ন আগামী দশকে জাপানি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত পথের বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া: দক্ষিণ এশিয়ার আট নারীর বদলে দেওয়ার গল্প ভারতে তুলা উৎপাদন কমছে, আমদানি বাড়ছে—চাপে বস্ত্রশিল্প চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন কৌশলে ভারত দুবাইয়ের আসল শক্তি করছাড় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে বড় স্বস্তি, তবে বেড়েছে বিমান জ্বালানির দাম হাম ভাইরাসে জিনগত পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি, টিকার সুরক্ষা এখনও কার্যকর: আইসিডিডিআর,বি আগুনের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন ‘নীরব সেনা’—বন রক্ষায় গাধার অভিনব ব্যবহার

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের নতুন আইন: তদন্ত ৬০ দিনে, বিচার তিন মাসে, শাস্তি আরও কঠোর

ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিলের লক্ষ্য হলো পরীক্ষা জালিয়াতির তদন্ত ও বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করা এবং সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হবে।

কেন আনা হলো নতুন বিল

ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে তদন্তে সংগঠিত চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে।

এরপর ২০২৪ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হলেও দুই বছরেও সেই আইনের অধীনে একটি মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালে আবারও একই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকার আরও কঠোর আইন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন বিলে কী রয়েছে

নতুন বিলে তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিশেষ টাস্কফোর্স—যেই হোক না কেন, তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল হলে দুই বিচারকের বেঞ্চকে সেটিও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে হবে।

শাস্তি আরও কঠোর

সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ থেকে ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ বছর করা হয়েছে।

জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ রুপি করা হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১ কোটি রুপি থেকে ৫ কোটি রুপি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্যও ন্যূনতম জরিমানা ৫ কোটি রুপি এবং ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ন্যূনতম সাজা ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।

বিচারে বিলম্ব কমানোর উদ্যোগ

বিলে আদালতের অযথা মুলতবি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কারণ না থাকলে পরবর্তী দিনের বেশি সময়ের জন্য শুনানি স্থগিত করা যাবে না।

২০২৪ সালের আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলোকেও নতুন বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসব মামলার জন্য বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।

কোথায় রয়ে গেছে দুর্বলতা

আইন বিশ্লেষকদের মতে, তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিলে কোনো জবাবদিহির বিধান নেই। তদন্তে দেরি হলে তার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

এ ছাড়া ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের আগের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ করার জন্য কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। ফলে নতুন আইনের সময়সীমা ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

দ্রুত বিচার আদালতের বাস্তবতা

বিলে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের কথা থাকলেও বিদ্যমান আদালতগুলোতেই মামলার বড় জট রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের মামলার বিচার শেষ করতে সময়ের ব্যবধানও ব্যাপক। কোথাও কয়েক মাস, আবার কোথাও কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

বিচারে দেরির প্রধান কারণ

ভারতের আইন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি সাধারণ সমস্যা কাজ করে।

এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করতে না পারা, পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ধীরগতি, আইনজীবীদের বারবার সময় চাওয়া, সরকারি সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, আদালতের জনবল সংকট এবং মামলার দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আগের আইনের ফলাফল

২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন কার্যকর থাকলেও দুই বছরে সেই আইনের আওতায় একজনও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। সরকারের মতে, এই বাস্তবতাই নতুন সংশোধনী আইন আনার অন্যতম প্রধান কারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের নতুন আইন: তদন্ত ৬০ দিনে, বিচার তিন মাসে, শাস্তি আরও কঠোর

০৫:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল, ২০২৬। এই বিলের লক্ষ্য হলো পরীক্ষা জালিয়াতির তদন্ত ও বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করা এবং সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হবে।

কেন আনা হলো নতুন বিল

ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে তদন্তে সংগঠিত চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে।

এরপর ২০২৪ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হলেও দুই বছরেও সেই আইনের অধীনে একটি মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালে আবারও একই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকার আরও কঠোর আইন আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন বিলে কী রয়েছে

নতুন বিলে তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিশেষ টাস্কফোর্স—যেই হোক না কেন, তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল হলে দুই বিচারকের বেঞ্চকে সেটিও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে হবে।

শাস্তি আরও কঠোর

সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ থেকে ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ বছর করা হয়েছে।

জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ রুপি করা হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১ কোটি রুপি থেকে ৫ কোটি রুপি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্যও ন্যূনতম জরিমানা ৫ কোটি রুপি এবং ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ন্যূনতম সাজা ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।

বিচারে বিলম্ব কমানোর উদ্যোগ

বিলে আদালতের অযথা মুলতবি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কারণ না থাকলে পরবর্তী দিনের বেশি সময়ের জন্য শুনানি স্থগিত করা যাবে না।

২০২৪ সালের আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলোকেও নতুন বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসব মামলার জন্য বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।

কোথায় রয়ে গেছে দুর্বলতা

আইন বিশ্লেষকদের মতে, তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিলে কোনো জবাবদিহির বিধান নেই। তদন্তে দেরি হলে তার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করারও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

এ ছাড়া ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের আগের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ফৌজদারি মামলার বিচার শেষ করার জন্য কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। ফলে নতুন আইনের সময়সীমা ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

দ্রুত বিচার আদালতের বাস্তবতা

বিলে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের কথা থাকলেও বিদ্যমান আদালতগুলোতেই মামলার বড় জট রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের মামলার বিচার শেষ করতে সময়ের ব্যবধানও ব্যাপক। কোথাও কয়েক মাস, আবার কোথাও কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

বিচারে দেরির প্রধান কারণ

ভারতের আইন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি সাধারণ সমস্যা কাজ করে।

এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করতে না পারা, পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ধীরগতি, আইনজীবীদের বারবার সময় চাওয়া, সরকারি সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, আদালতের জনবল সংকট এবং মামলার দুর্বল ব্যবস্থাপনা।

আগের আইনের ফলাফল

২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন কার্যকর থাকলেও দুই বছরে সেই আইনের আওতায় একজনও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। সরকারের মতে, এই বাস্তবতাই নতুন সংশোধনী আইন আনার অন্যতম প্রধান কারণ।