ভারত থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, সীমান্তে এ ধরনের কয়েকটি প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভবিষ্যতেও একই অবস্থান বজায় রাখা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সীমান্তে তিন থেকে চারটি ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ভবিষ্যতেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রসঙ্গ
শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া তাকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তির পরিপন্থী। বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই এমন কার্যক্রম মেনে নেবে না।
তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নাগরিক প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলো সমাধান হওয়া উচিত।

অভিবাসী ইস্যু ও কূটনৈতিক যোগাযোগ
সম্প্রতি ভারতে অবৈধ অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে বাংলাদেশ বহু নাগরিককে নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করেছে এবং নাগরিক শনাক্তকরণ, কনস্যুলার যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উভয় পক্ষেরই কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিস্তারিত জবাব দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
দিল্লির বৈঠকে গুরুত্ব পাবে সীমান্ত ইস্যু
আগামী ৮ থেকে ১১ জুন দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শামা ওবায়েদ জানান, সীমান্তে ‘পুশ-ইন’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওই বৈঠকে আলোচনায় আসবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার
মিয়ানমার-সংলগ্ন সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি, নৌবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্ব
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সম্ভাব্য বিদেশ সফর সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং চীনও সফরসূচির বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো দেশ বা সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রত্যাশা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ। তার মতে, এ পদে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















