০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের ভালোবাসার ভিড়েও কেন মানুষ একা? নিঃসঙ্গতার বীজ লুকিয়ে থাকে শৈশবের অদৃশ্য ক্ষতে যেখানে পাহাড়ই শিল্পশালা: লাদাখের আকাশছোঁয়া প্রান্তরে শিল্পের নতুন ভাষা পুরুষের চোখে নারীর প্রতিচ্ছবি: গভীর বিশ্লেষণের শক্তি, সময়ের সঙ্গে সংলাপের অপূর্ণতা স্ক্রিনের ক্লান্তি ছেড়ে আবার চিঠির টানে তরুণেরা: হাতে লেখা খামে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি শুল্ক কমতেই চীনে ফিরছে মার্কিন কোম্পানিগুলোর উৎপাদন পরিকল্পনা ভারতের কলেজে ভর্তির স্বপ্ন এখন ব্যয়বহুল, বাড়ছে পরিবারের আর্থিক চাপ টানা ধাক্কায় অনোয়ারের জোট, নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতা হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে মালয়েশিয়া

চীন-জাপান-ফিলিপাইন উত্তেজনা: তাইওয়ানের পূর্বে সমুদ্র টহল বাড়াল বেইজিং

তাইওয়ানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাপান ও ফিলিপাইন তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমা নিয়ে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী টহল জোরদার করেছে চীন।

চীনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাদের ‘দাইশান’ জাহাজের নেতৃত্বে একটি বহর সোমবার তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় আইন অনুযায়ী টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার রক্ষার অংশ।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

China patrols waters east of Taiwan in response to Japan, Philippine  maritime border talks

চীনা কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জিয়াং লুয়ে বলেছেন, জাপান ও ফিলিপাইনের একতরফা সিদ্ধান্ত চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক স্বার্থের ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমা নিয়ে আলোচনা শুরু করার ঘোষণা বেইজিং মেনে নিতে রাজি নয়।

তিনি আরও বলেন, জাপান ও ফিলিপাইনকে অবিলম্বে এমন সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে যা চীনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছে চীন।

তাইওয়ান প্রশ্নে পুরোনো অবস্থান

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুনরায় একীভূত করার কথাও বহুবার উল্লেখ করেছে।

Philippines increases South China Sea patrols as Beijing set to roll out  new trespass laws | Philippines | The Guardian

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ফিলিপাইনসহ অধিকাংশ দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির বর্তমান স্বশাসিত অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিরোধিতা করে আসছে এবং দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের এই নতুন বিরোধ পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ এই টহল কার্যক্রম সেই উত্তেজনাকেই আরও দৃশ্যমান করে তুলল।

তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আরও কঠোর হলে অঞ্চলটিতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

চীন-জাপান-ফিলিপাইন উত্তেজনা: তাইওয়ানের পূর্বে সমুদ্র টহল বাড়াল বেইজিং

১০:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

তাইওয়ানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাপান ও ফিলিপাইন তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমা নিয়ে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী টহল জোরদার করেছে চীন।

চীনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাদের ‘দাইশান’ জাহাজের নেতৃত্বে একটি বহর সোমবার তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় আইন অনুযায়ী টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার রক্ষার অংশ।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

China patrols waters east of Taiwan in response to Japan, Philippine  maritime border talks

চীনা কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জিয়াং লুয়ে বলেছেন, জাপান ও ফিলিপাইনের একতরফা সিদ্ধান্ত চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক স্বার্থের ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমা নিয়ে আলোচনা শুরু করার ঘোষণা বেইজিং মেনে নিতে রাজি নয়।

তিনি আরও বলেন, জাপান ও ফিলিপাইনকে অবিলম্বে এমন সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে যা চীনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছে চীন।

তাইওয়ান প্রশ্নে পুরোনো অবস্থান

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুনরায় একীভূত করার কথাও বহুবার উল্লেখ করেছে।

Philippines increases South China Sea patrols as Beijing set to roll out  new trespass laws | Philippines | The Guardian

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ফিলিপাইনসহ অধিকাংশ দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও দ্বীপটির বর্তমান স্বশাসিত অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিরোধিতা করে আসছে এবং দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের এই নতুন বিরোধ পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ এই টহল কার্যক্রম সেই উত্তেজনাকেই আরও দৃশ্যমান করে তুলল।

তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আরও কঠোর হলে অঞ্চলটিতে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।