যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের মুসকাটিন শহরে এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে গুলির শব্দ শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি বাড়ির ভেতর চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ কাজ করেছে।
বাড়ি থেকে উদ্ধার চারজনের মরদেহ
পুলিশ জানায়, প্রথমে একটি বাড়িতে চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তবে হামলাকারী পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ৫২ বছর বয়সী রায়ান উইলিস ম্যাকফারল্যান্ড হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

তদন্তকারীরা দ্রুত তাকে শহরের নদীতীরবর্তী একটি পথের কাছে খুঁজে পান। পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরে মিলল আরও দুইজনের মরদেহ
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। এরপর কাছাকাছি একটি বাড়ি এবং একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আরও দুইজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, এই দুইজনকেও একই ব্যক্তি গুলি করে হত্যা করেছেন। ফলে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে।
সবাই ছিলেন পরিবারের সদস্য
পুলিশ প্রধান জানান, নিহত সবাই হামলাকারীর পরিবারের সদস্য বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন শিশু ছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধ থেকে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ঠিক কী কারণে এত বড় রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ২৪ হাজার জনসংখ্যার ছোট শহর মুসকাটিনে এ ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস ঘটনার পর গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















