ভারতে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমে তুলা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে দেশের বস্ত্রকলগুলোর তুলার চাহিদা বেড়েছে, ফলে আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ভোগ বাড়ার এই প্রবণতা দেশের তুলা বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।
উৎপাদনে সাত লাখ বেল কমার পূর্বাভাস
মুম্বাইয়ে ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত তুলা উৎপাদন ও ব্যবহারবিষয়ক কমিটির বৈঠকে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন ২৯০ দশমিক ২৪ লাখ বেল (প্রতি বেল ১৭০ কেজি) হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে উৎপাদন ছিল ২৯৭ দশমিক ২৪ লাখ বেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন প্রায় সাত লাখ বেল কমতে পারে।
বস্ত্রকলের চাহিদা বেড়েছে
দেশের বৃহৎ বস্ত্রকল এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতের বস্ত্রকলগুলো তুলার প্রধান ক্রেতা। চলতি মৌসুমে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট তুলা ব্যবহার ৩২০ লাখ বেলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে এই ব্যবহার ছিল প্রায় ৩০৬ লাখ বেল।
চাহিদা বৃদ্ধির অর্থ হলো দেশের বস্ত্রশিল্প আগের তুলনায় বেশি কাঁচামাল প্রয়োজন করছে, যদিও দেশীয় উৎপাদন সেই হারে বাড়েনি।
রপ্তানি কমলেও আমদানি বেড়েছে
চলতি মৌসুমে তুলা রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় লাখ বেল কম হয়েছে। অন্যদিকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৫ লাখ বেল। উৎপাদন ঘাটতি পূরণে বিদেশি তুলার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মৌসুম শেষে আমদানি ৬০ লাখ বেলে পৌঁছাতে পারে
দক্ষিণ ভারত মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান দুরাই পালানিসামির মতে, সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত মোট তুলা আমদানি প্রায় ৬০ লাখ বেলে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধির ফলে আগামী মাসগুলোতে ভারতের তুলা বাজার, সুতা উৎপাদন এবং বস্ত্রশিল্পে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















